আজ বিষ্ণুপুর যাবার পথে বনলতা রিসোর্টে দুপুরের খাওয়া সারলুম।বনলতা রিসোর্ট একটা অসাধারণ ছুটি কাটাবার জায়গা। চমৎকার কটেজ, রুম, হাতী, ঘোড়া, পুকুরের মাছ, গাইয়ের দুধ কি নেই? মাছ ধরার ব্যবস্থা, সব সব ব্যবস্থাই আছে। এদের রিসোর্টে বারও আছে। দেখে তো আমি চমৎকৃত। ননীকে অনেকবার বলেছিলাম। বন্ধুসঙ্গে গুষ্টিসুখে দিন কাটাবার এক উৎকৃষ্ট জায়গা। গা করেনি। ওর যত ঝোঁক উত্তরেই। কপালগুণে, আজ দেখা হয়ে গেল।খানাও হলো। দারুণ একখানা লাঞ্চ। তবে বারে পা গলানো আজ বারণ। কারণ আজ আমার অকারন এর দিন। এক হোলিপ্লেসে আছি। সেখানে মদ্যপান? নৈব্য নৈব্য চ।
তাহলে শুনুন আজ কি কি খেলুম। খাবো খাবো করি। কিন্তু খাবারের গপ্প শুনেই দিলখুস হয়ে যায়। দুইয়ের বদলে তিনপদ হয়ে গেলেই আর ভেতরে যেতে চায়না। তবে আজ সব খেয়েছি। এদের একটা বেসিক থালি আছে। তার মূল্য মাত্র ১০০/। যাচাই অর্থাৎ আপনি যতবার রিফিলিং চাইবেন করে যাবে। কথাটি কইবে না। আজ ছিল উচ্ছে ভাজা, দুধসুক্তো (অসাধারণ), আলুপোস্ত লা জবাব জাস্ট আমি যেমনটি চাই, সোনা মুগের ডাল, পরমান্ন, আর চাটনি টমেটোর। এর সাথে আমরা নিয়েছিলাম কাতলা কালিয়া। ব্যস। এতেই আই ঢাই অবস্থা। এরপর জয়পুরের জঙ্গল পেরিয়ে বিষ্ণুপুর। এর আগে বিষ্ণুপুর বহুবার এসেছি। তখন আসতাম বিষ্ণুপুর সিল্ক আর তসর নিতে। ব্যাওসার কাজে। আমার না তেনার। সে যাই হোক, মন্দির তখনও দেখেছি, আজও দেখলাম। মন্দিরগুলো সংরক্ষণ খুব উঁচুদরের। মন্দিরের ছবি দিলাম অনেকগুলো।সবার নাম মনে নেই। যে কটা পারলাম, নাম দিয়ে দিলাম।
আর কি আবার ফিরে সেই জয়রামবাটি তেই। ফেরার পথে সেই বনলতার একফুটি ল্যাংচা আর পাটিসাপটা, সেও একফুটের কম নয়। খেতে পারিনি। নিয়ে এসেছি।
আজ আপাতত এই। শেষে ভেবে দেখলাম এই তীর্থদর্শন সফল করার ফল তবে কি? শুধুই ভোগের বর্ণনা? কভি নেহি? রঙ দে মোহে গেরুয়া। তাই একটা গেরুয়া টুপি কিনে নিয়ে পরলাম। কিন্তু বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়। কুন্তলার প্রবল আপত্তিতে আর পাবলিক প্যাঁকের ভয়ে মাঝামাঝি একটা না গেরুয়া না হলদে এক টুপিতে কম্প্রোমাইজ করলাম। সেই যে ঠাকুরের কি একটা গান আছে না,
"ঘরে যারা যাবার , তারা কখন গেছে ঘরপানে,
পারে যারা যাবার গেছে পারে,
ঘরেও নহে, পারেও নহে যে জন আছে মাঝখানে,
সন্ধ্যেবেলা কে ডেকে নেয় তারে।"
আমি সেই মাঝের জন। আমার ঠাকুর সেই রবি ঠাকুরই।




















No comments:
Post a Comment