Friday, 19 December 2025

আমাদের শান্তিনিকেতন
























 আজ হঠাৎই এসে গেলাম শান্তিনিকেতনে। কি বা এমন দূর। দুঘণ্টায়ই পৌঁছে গেলাম। আজকে আসার লক্ষ্য অবশ্যই একটা ছিল। সেটা আমার না,  কুন্তলার।  কলাভবনের নন্দন আর্ট গ্যালারীতে রবীন্দ্রনাথের ৮০টা ছবির প্রদর্শনী চলছে, সেটাতেই তার আকর্ষণ।  আমার লক্ষ্য কিছু নেই উপলক্ষ্য সুপ্রচুর। আসলে আমার পথ চলাতেই আনন্দ। প্রথমেই গেলাম লালবাঁধ। বিরাট দীঘি।  নেতা ধোবানীর ঘাট। কিন্তু হতাশ হতে হল।  কোন ধোবালীর দেখা পেলাম না। লালবাঁধের উল্টোদিকেই প্রখ্যাত শিল্পী সোমনাথ হোড়ের স্টুডিও। অনেক ছবি, আঁকাজোকা।  ভালই লাগলো। সেখান থেকে সৃজনী, শিল্পগ্রাম। সামনে পৌষমেলা, তাই চারিদিকে সাজসাজ রব।  সৃঞ্জনীও সেজে উঠছে নতুন করে।


এরপরেই তো লাঞ্চ। খাই না খাই, খাওয়াদাওয়ার এলাহি ব্যবস্থা দেখে বেশ পুলক হয়। ইদানীং শান্তিনিকেতনে আমাদের হট ফেভারিট খাবার জায়গা। Oyester, provat Sarani. দারুণ সাজিয়ে গুজিয়ে খুব যত্ন করে খাওয়ায়। আজকের মেনু তাহলে শুনে নিন। গরম ভাতে ঘি, ঝুড়ঝুড়ে আলুভাজা,বেগুনী, সোনামুগের ডাল, ধোকার ডালনা, আলুপোস্ত, এটা বীরভূমের সিগনেচার আইটেম, এরকম আলুপোস্ত আর কোথাও পাবেন না। পোস্তের বড়া পার পিস ৬০/,  চাটনী, পাঁপড় আর পেল্লাই সাইজের রসগোল্লা,  আর অবশ্যই কচি পাঁঠার ঝোল। একদম দিলখুশ। এরপর কলাভবনে রবী ঠাকুরের ৮০ টা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী। ছবি তোলা বারণ।  তাই তোলা গেল না।

এবার ষ্টেশনের পথে। মাঝে সর্বমঙ্গলায় থামতেই হলো। নাতি, নাতনীর জন্যে মিষ্টি তো নিতে হবে। লবঙ্গলতিকা,  চমচম আর কাঁলাকাদ। আমি অবশ্য খাব না। তবে আপনারা শান্তিনিকেতনে এলে, সর্বমঙ্গলা  থেকে অবশ্যই কিনবেন। দারুণ স্বাদ। এখন শান্তিনিকেতন স্টেশনে বসে আছি। ৫-৩৭ এ ট্রেন।

Friday, 12 December 2025

 আজ আমাদের ৪ দিনের পুরী সফরের প্রথম দিন। কাল পুরী এক্সপ্রেসে উঠে আজ বিফোর টাইমেই পৌঁছে গেলাম পুরী৷ ইদানীং আমার পছন্দের হোটেল শকুন্তলা প্যালেস ঠিক পুরী হোটেলের পেছনে আর ভজহরি মান্নার ঠিক সামনেই। লোকেশনাল এডভ্যানটেজ দারুণ।  অন্তত দুপুরের লাঞ্চটা সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়৷ গত দশ বছর ধরে এই ভজহরি মান্নায় আমার যাতায়ত। সেই সূত্রে এদের ছেলেরা আমার খুবই ঘনিষ্ঠ। তাই একটা ভি আই পি ট্রিটমেন্ট আমার জন্যে বরাদ্দ থাকে। আজ যেমন বেজায় ভিড়। কিন্তু আমাকে দেখতে পেয়ে ঠিক ডেকে নিল ভেতরে। এটাতে অন্যায় অবশ্যই হলো। তবে বেশ উপভোগ করলাম। এভাবেই হয়তো পার্থ চ্যাটার্জি আর মানিক ভট্টাচার্যদের সৃষ্টি হয়েছে। আমার অবশ্য অতদুর ওঠার কোন চান্স নেই। মৌলার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই হয়। আজ কি খেয়েছি সেটাই বলি। কচুবাটা চিংড়ি।  নিশ্চয় কচুর নাম আমার মুখে শুনে অবাক হচ্ছেন। কচু নিয়ে কম কটুকাটব্য করিনি।  কচু নাকি এক বিশেষ প্রাণীর খাদ্য। আর কাদের? নাম বলব না। বললেই তারা রে রে করে উঠবে। তাছাড়া বরাহ বা তাদের নিয়ে আমার আর সেরকম ছুঁচিবাই নেই৷ অনেকটাই কেটে গেছে। আর কচু তো একা ছিল না সঙ্গে ছিল আমাদের চিংড়ি।  কচুর সব দোষ কেটে গেছে চিংড়ির সান্নিধ্যে। চিংড়ি মোহনবাগানি তা তো জানেন?  যাইহোক আর ছিল তেল কই। তবে কইটা ঠিক জমেনি। তেল কই রাঁধত আমার শাশুড়ী। তিনি অবশ্য বরিশালের মাইয়া। কিছু কিছু জায়গায় কম্প্রোমাইজ করে নিতেই হয়। কি করব বলুন?  পাপী পেট কা সওয়াল। ছিল চাটনিও। আমসত্ত্ব, খেঁজুর আর কিসমিসের বাড়বাড়ন্ত। সুগারী লোকদের কাছে কমপ্লিট হারাম। কিন্তু মন যে মানে না৷ ঘটিদের খাবার শেষে একটু চাটনী না পেলে সে খাওয়া যে অসম্পুর্ন থেকে যায়। তাই ম্যানেজ একটু করতেই হলো। তবে পুরো কম্পলিমেন্টারি। বলেই নিয়েছিলাম, দাম ধরবি না একদম, জানিস তো আমার সুগার, চাটনি খাওয়া একদম বারণ। তাই করেছ ওরা। কি যে ভালো ছেলেগুলো।  


আজ সকালে কিন্তু ব্রেকফাস্টও করেছি। আমাদের শকুন্তলা প্যালেসেই। মুচমুচে স্বাদিষ্ঠ আলু পরোঠা, আচার আর দই। দারুন ছিল খেতে। আর দাম? জলের দাম মশাই। ৮০ টাকায় এতো কেউ দেয় না।


আরো একটা জিনিস খেয়েছি র‍্যাদার পান করেছি।  চিল্ড রিফ্রেশিং বিয়ার। দারুণ একটা আমেজ এনে দিয়েছে। রাতের জন্যে রেখে দিয়েছি একজন মাষ্টার মশাইকে।দেখলেই চিনবেন। তিনি আমাদের টিচার, কি যেন বলে, মার্গ  প্রদর্শক?