আজ আমাদের ৪ দিনের পুরী সফরের প্রথম দিন। কাল পুরী এক্সপ্রেসে উঠে আজ বিফোর টাইমেই পৌঁছে গেলাম পুরী৷ ইদানীং আমার পছন্দের হোটেল শকুন্তলা প্যালেস ঠিক পুরী হোটেলের পেছনে আর ভজহরি মান্নার ঠিক সামনেই। লোকেশনাল এডভ্যানটেজ দারুণ। অন্তত দুপুরের লাঞ্চটা সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়৷ গত দশ বছর ধরে এই ভজহরি মান্নায় আমার যাতায়ত। সেই সূত্রে এদের ছেলেরা আমার খুবই ঘনিষ্ঠ। তাই একটা ভি আই পি ট্রিটমেন্ট আমার জন্যে বরাদ্দ থাকে। আজ যেমন বেজায় ভিড়। কিন্তু আমাকে দেখতে পেয়ে ঠিক ডেকে নিল ভেতরে। এটাতে অন্যায় অবশ্যই হলো। তবে বেশ উপভোগ করলাম। এভাবেই হয়তো পার্থ চ্যাটার্জি আর মানিক ভট্টাচার্যদের সৃষ্টি হয়েছে। আমার অবশ্য অতদুর ওঠার কোন চান্স নেই। মৌলার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই হয়। আজ কি খেয়েছি সেটাই বলি। কচুবাটা চিংড়ি। নিশ্চয় কচুর নাম আমার মুখে শুনে অবাক হচ্ছেন। কচু নিয়ে কম কটুকাটব্য করিনি। কচু নাকি এক বিশেষ প্রাণীর খাদ্য। আর কাদের? নাম বলব না। বললেই তারা রে রে করে উঠবে। তাছাড়া বরাহ বা তাদের নিয়ে আমার আর সেরকম ছুঁচিবাই নেই৷ অনেকটাই কেটে গেছে। আর কচু তো একা ছিল না সঙ্গে ছিল আমাদের চিংড়ি। কচুর সব দোষ কেটে গেছে চিংড়ির সান্নিধ্যে। চিংড়ি মোহনবাগানি তা তো জানেন? যাইহোক আর ছিল তেল কই। তবে কইটা ঠিক জমেনি। তেল কই রাঁধত আমার শাশুড়ী। তিনি অবশ্য বরিশালের মাইয়া। কিছু কিছু জায়গায় কম্প্রোমাইজ করে নিতেই হয়। কি করব বলুন? পাপী পেট কা সওয়াল। ছিল চাটনিও। আমসত্ত্ব, খেঁজুর আর কিসমিসের বাড়বাড়ন্ত। সুগারী লোকদের কাছে কমপ্লিট হারাম। কিন্তু মন যে মানে না৷ ঘটিদের খাবার শেষে একটু চাটনী না পেলে সে খাওয়া যে অসম্পুর্ন থেকে যায়। তাই ম্যানেজ একটু করতেই হলো। তবে পুরো কম্পলিমেন্টারি। বলেই নিয়েছিলাম, দাম ধরবি না একদম, জানিস তো আমার সুগার, চাটনি খাওয়া একদম বারণ। তাই করেছ ওরা। কি যে ভালো ছেলেগুলো।
আজ সকালে কিন্তু ব্রেকফাস্টও করেছি। আমাদের শকুন্তলা প্যালেসেই। মুচমুচে স্বাদিষ্ঠ আলু পরোঠা, আচার আর দই। দারুন ছিল খেতে। আর দাম? জলের দাম মশাই। ৮০ টাকায় এতো কেউ দেয় না।
আরো একটা জিনিস খেয়েছি র্যাদার পান করেছি। চিল্ড রিফ্রেশিং বিয়ার। দারুণ একটা আমেজ এনে দিয়েছে। রাতের জন্যে রেখে দিয়েছি একজন মাষ্টার মশাইকে।দেখলেই চিনবেন। তিনি আমাদের টিচার, কি যেন বলে, মার্গ প্রদর্শক?
No comments:
Post a Comment