Friday, 16 January 2026

চন্দননগর: আজ সারাদিন

 চন্দন নগর: সারাদিন


অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কম তো নয়, ষাট ব..ছ..র। দাদার বিয়েতে এসেছিলাম ৬০ বছর আগে।  তখনই ভালো লেগে গিয়েছিল। অবশ্য তখনকার চন্দননগর আর আজকের চন্দননগরে মনে হয় বিস্তর ফারাক। চন্দননগর ফ্রান্সের কলোনি ছিল প্রায় ৩০০ বছর, টু বি ভেরী প্রিসাইস ২৭৫ বছর। এর স্থাপত্যে, সাহিত্যে, সঙ্গীতে ভালো প্রভাব ছিলো ফরাসিদের।  অবশ্য সেসব আজ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রোমোটারদের হাতে পড়ে, সেসব স্থাপত্য ভেঙেচুরে ফ্ল্যাটবাড়ী হয়ে গেছে।

তারমধ্যে যেটুকু বেঁচে আছে গঙ্গার ধারে দীর্ঘ স্ট্রান্ড। এখনো সুন্দর।আর পেলাম আর একটা চার্চ, নাম সেক্রেড হেড চার্চ। ফ্রেঞ্চ গথিক স্টাইলে তৈরী।

ফ্রান্স সম্মন্ধে আমার বরাবরই একটা কৌতুহল ছিল। একসময় ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখাও শুরু করেছিলাম। কিন্তু বেশীদূর এগোতে পারিনি। ভাষাটা যে কঠিন তা নয়। আর বর্নমালা হুবুহু না হলেও প্রায় ইংরেজি।  কিন্তু মুর্শিদাবাদের গ্রামে বসে ফরাসী ভাষা শেখা আর হয়ে ওঠেনি।

তবে ফরাসী সাহিত্য অল্পবিস্তর পড়া ছিল। মোঁপাসার ছোটগল্প, প্রুস্ত, জাঁ পল সার্ত্রে, সিমোন দ্য বোভিয়ার এদের লেখার খবরও কিছু রাখতাম। যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টেড ছিলাম, তখন চিন্ময়  গুহ প্রায়ই আমার চেম্বারে বসে আড্ডা মারতেন। চিন্ময় গুহকে চেনেন তো? ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির ইংরেজী বিভাগের প্রধান ছিলেন। কিন্তু ফরাসী ভাষা আর সাহিত্যে বিশাল গণ্যমান্য একজন পন্ডিত । যেমন তেমন নয়, ফরাসী সরকার তাকে তিন তিনবার ফরাসী ভাষা ও সাহিত্যে পারদর্শিতার জন্যে  তাকে সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করেছিলেন। তো এইরকম এক বিরাট হস্তী আমার সাথে আড্ডা মারতেন ঘন্টার পর ঘন্টা।  আমার মুখে প্রুস্ত, সার্তের নাম শুনে চিন্ময়বাবু তো হতবাক। "ব্যাঙ্কের লোকেরা এসব পড়ে নাকি?" সত্যি বলতে পড়েছি তো নিশ্চয় কিছু, কিন্তু ওতো উচ্চমার্গীয় আলোচনা কি আর কিছু বুঝেছি? তবে চিন্ময়বাবু নির্ঘাত চমকে গেছিলেন ব্যাঙ্কের এক বাবুর মুখে প্রুস্তের নাম শুনে। 


' বললেন স্যারকে গিয়ে আপনার কথা বলতে হবে। স্যার মানে বিখ্যাত ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরী। তারই জীবনকথা।  তার লেখা 'বাঙালনামা' আমি পড়েছি। অনেকেই তাকে বইটার নাম পালটাতে বলেছিলেন। পাল্টান নি, বরিশালের বাঙাল তো, সাংঘাতিক  গোঁয়ার। সে বই আমার নিজস্ব লাইব্রেরীতে ছিল।একজনকে পড়তে দিলাম। সেও বাঙাল। সে আর ফেরৎই দিল না। সেইথেকে আমি আর কাউকে বই দিই না।


আজেবাজে কথা থাক, 

আসল ব্যাপার হলো আমার ছোট ছেলের সাথে, চন্দননগর কলেজের প্রিন্সিপাল, দেবাশীষ সরকারের বেশ জানাশোনা।  আর সেই সূত্রেই, আজ চন্দননগর যাওয়া। চন্দননগর কলেজে একটা চমৎকার মিউজিয়াম করেছেন উনি। সেটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। সব পুরোনো চন্দননগর আর সেখানকার বিপ্লবীদের অনেক সংগ্রহ চমৎকার ভাবে রাখা হয়েছে এক হেরিটেজ বিল্ডিঙে। দেবাশীষ বাবুর সাথে অনেকক্ষণ গল্প হলো। আপনারাও চেনেন তাকে। আগে টিভিতে টকশোতে প্রায়ই আসতেন। পুরো বামমার্গের লোক।

আজ  অনেক ছবি তুলেছি। 

পরিশেষে, 'ভুতের রাজা দিল বর' এ মধ্যাহ্ন ভোজন। ছেলেই খাওয়ালো, মাটন আর মোচাঘণ্ট।  কাল থোড় ছেঁচকি খেয়েছিলেন। আজ আপনাদের জন্যে মোচাঘণ্ট।  রিয়েলি ডেলিশিয়াস। 'ভূতের রাজা দিল বর' আজ সত্যিই বর দিয়েছে। ওদেরকে দিলাম ফুল মার্কস।





























No comments:

Post a Comment