গতবছর আজকের দিনে শুধু আমি নয় আমরা তিনজন মন্দারমনিতে।আছে গৌতম আর কানু শেঠও। সোলো ট্র্যাভেলার আমি মোটেই নয়। বন্ধু বান্ধব দুচারজন চাইই চাই। না হলে ঘুরে বেড়িয়ে ঠিক মেজাজ মস্তি কোনটাই আসে না।
আজ হঠাৎই আসা। নেহাৎই কি বেড়াতে? ন্না। আজকাল অনেক রকম ট্যুর বেরিয়েছে না, মেডিকেল ট্যুরিজম, বিজনেস ট্যুরিজম ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো সব একটা কিনলে একটা ফ্রি কনসেপ্ট থেকেই পাওয়া। আমাদের এটাও সেইরকমই গোছের কিছু। হোটেল বা রিসোর্টে কিন্তু উঠিনি। উঠেছি কোথায়? শুনলে অবশ্য আপনাদের চমকাবারই কথা। আমাকে যারা চেনেন তারা নিশ্চয় ভাবছেন এই কাফের আলাকুদ ছোকরার ধম্মে মতি হলো কবে? সত্যি বলতে কি, এটা সেইরকম রিলিজিয়াস ট্যুরিজম জাতীয় কিছু না। নির্ভেজাল বেড়ানও নয়। এটা অনেকটা সামাজিক দায়িত্ব মূলক ট্যুরিজম। কানু শেঠ এই আশ্রমের বেশ কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ করছে। স্কুল রঙ করাচ্ছে, জলের ব্যবস্থাও করছে। বেশ লাখ লাখের ব্যাপার। সেটা ওর একার দায়িত্ব। ওর মধ্যে আমরা নেই। আর থাকবই বা কি করে? আমাদের তো পেনশন নিয়ে টেনশন আভি তক জারী হ্যায়। ব্যাঙ্ক মানছে না মোটেই।
সে যাইহোক,আগামী তিনদিন আমাদের দিন গুজরান এই রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রমেই। চারবেলা থাকা খাওয়া আর বিশ্রামের ব্যবস্থাও এখানেই। আমাদের মানে আমার আর গৌতমের একমাত্র কাজ ঘুরে বেড়ানো আর মস্তি করা। সমুদ্রের ধারে সন্ধ্যের ফুরফুরে হাওয়ায় বসে বিয়ার ক্যানে সিপ দেওয়া। এটাই আমরা এট বেস্ট করতে পারি কানুর জন্যে। ও ওদিকে স্কুলবাড়ী রঙ করুক, জলের পাম্প বসাক, যা ইচ্ছে করুক।
রামকৃষ্ণের কথাই যখন এলো আর তার আশ্রয়েই যখন থাকব কদিন, তখন যদি গৃহকর্তার প্রশংসায়, দু চার কথা না বলি, তাহলে নিমকহালালি না বরং নিমকহারামির কাজ হবে।
সবাই চেনেন তো রামকৃষ্ণকে? অবশ্যই চেনেন। বাংলায় থাকেন আর রামকৃষ্ণদেবকে চেনেন না, এটা হতেই পারে না।অন্তত নাম তো শুনেছেন। আমিও আপনাদের মতো। তার নাম অনেক শুনেছি। শ্রীম'র লেখা রামকৃষ্ণ কথামৃত একখানা আমারও আছে। পড়িও মাঝে মধ্যে। ভালোই লাগে। গ্রামের সহজ সরল লোক। পড়াশোনা স্বভাবতই বেশী কিছু করেননি। কিন্তু শুনেছি তিনি স্বভাবজ্ঞানী ছিলেন। অনেক দামী দামী কথা নাকি বলে গেছেন। এ আমার বিশ্বেস হয় না ঠিক। তবে হতেও পারে। শ্রীম তো তাই লিখে গেছেন। শ্রীম আমার খুব চেনা। ওনার পাড়াতেই আমি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারি করেছি বেশ ক'বছর। ওনার প্রপৌত্র, দীপক গুপ্তা মহাশয়ের বেশ ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলাম। এখন আর উনি নেই অবশ্য। তবে ওনার কাছে আমার অবিশ্বাসের কথা, দিল খুলকে বাতা দিয়া থা। দীপকবাবু সজ্জন ব্যক্তি। আমার কথায় রেগে তো যানইনি। বরঞ্চ বললেন যেটুকু আপনার বিশ্বাস সেটুকুতেই থাকুন। বাকী সব বাদই থাক।
তবে বিশ্বাস ভক্তি আমার রক্তে নেই।আমাদের হেরেডিটিও বলা যায়। পরদায়েশী অবিশ্বাশী। আমিই আমার গুরু আর চ্যালা দুটোই। তবে চোখ কান খোলা থাকে সততই। জল বাদ দিয়ে দুধটুকুই নি, ঠিক পরমহংসের মতোনই।
তবে রামকৃষ্ণ দেবের অনুগামী তো প্রচুর। অনেক আচ্ছা আচ্ছা লোক।আমার ডাক্তারবাবুই তো তার বিশাল ভক্ত,অনুগামী। আমার জান মালের না হোক,জানের বকলমা তো তেনাকেই দিয়ে রেখে আমি নিশ্চিন্তে ঘুরছি গিরিশের মতো। তাকে না চটানই মঙ্গল। তাই এখানেই রামকৃষ্ণ চর্চা বন্ধ রাখলুম।
তবে এসময় মন্দারমনি না যাওয়াই ভাল। যা গরম, প্রাণ যায় যায় অবস্থা। নেহাৎ বম্বে রিসোর্ট ছিল। ওদের একটা পাবে গিয়ে আমি আর গৌতম বসে থাকতুম আর বিয়ারের বংশ ধ্বংস করতুম।






No comments:
Post a Comment