Thursday, 28 May 2026

জামাইষষ্ঠী




 বেলাশেষে জামাইষষ্ঠী 


কাল গেছে জামাইষষ্ঠী।  প্রতিবারেই আসে আবার চলেও যায়। শ্বশুর বাড়ী থেকে ডাক পড়ে নি কোনদিনই। তাদের নাকি নেই ওইসব। কি জানি কোন মগের দেশে বিয়ে হয়েছিল। অদ্ভুত সব নিয়ম।  জামাই ষষ্ঠী নেই,ভাঁইফোটা নেই। কি অদ্ভুত না? এরা অবশ্য নিজেদের বাঙালী বলে দাবী করে না। বলে তেনারা নাকি বাঙাল। বাঙালির একদম উল্টো মেরুর মানুষজন।  আসলে কোন ছোটবেলায় বে হয়েছে, বুঝতেই পারিনি কি হচ্ছে, হচ্ছেই বা কোন মগের মুল্লুকে। বুঝলে কি আর ওমুখো হতুম? তবে যাই বলিনা কেন, আমার শ্বশুর,শ্বাশুড়ি ভারী ভালোমানুষ ছিলেন। অযাচিত স্নেহবর্ষণ করে গেছেন জীবনভোর।  আর জামাইষষ্ঠী নিয়ে একটা আফসোস থেকে গেলেও তা পুষিয়ে দিয়ে গেছেন কিন্তু ষোল আনায় নয় আঠারো আনায়। আর এখন তো শ্বশুর শ্বাশুড়ি দুজনেই প্রয়াত। তাই সেই ডাক পাবার আশা, ভরসা গেছে টুঁটে।


কাল গেছে এক বিস্ময়কর দিন। বেলাশেষের মরসুম যাচ্ছে। করোনায় আপন করে নেয়, না আমfun আমায় নিয়ে লোফালুফি খেলে তাই নিয়েই ত্রস্ত থাকি। 

এসময় ওপর থেকে ডাক! না না সে ওপর নয়, ওপরের ফ্ল্যাটে ছোট শ্যালিকার দুই সুপুত্রী,রাধিকা আর রুকমিনীর কাছ থেকে জরুরী তলব। যেতে হবে, ভারী জরুরী কাজ। 


 গিয়ে তো বিস্ময়ে শিবনেত্র অবস্থা। আজ নাকি আমাদের জামাইষষ্ঠী।  এ কি বিস্ময় জাগে প্রাণে। শ্বশুর শ্বাশুড়ি বেঁচে থাকতে হলোনি। আজ বেলাশেষে এ কোন আমন্ত্রণ?  ভারী মজবুত আর দমদার বন্দোবস্ত। জামাইষষ্ঠীর কেক,গ্লাসভর্তি সোনালী পানীয় আর আরসালানের বিরিয়ানি। কাল যেন আসমান থেকে খোদার রহমৎ ঝরে পড়ল। ওই যে কথায় আছে না, ভগবান কা ঘর মে দের হ্যায় আন্ধের নেহী।


আঁধার কেটে যখন আলোর প্রকাশ হয়েই গেল তখন থেকেই যাই আর কবছর, কি বলেন? আপনারাও দাবী তুলুন, "আসছে বছর আবার হবে।" 

আমার বিশ্বাস আগামী বছরও হবে। হতেই হবে। আর এবারের মতই সে উৎসবেরও পুরোহিত হবেন এরাই, রাধিকা আর রুকমিনী।

Thursday, 21 May 2026

ভূত অদ্ভুত



 ভূত আর অদ্ভুত 


আপনারা কেউ কি ভূতে বিশ্বাস করেন বা ভগবানে? আসলে বিশ্বাস আছে বললেই যে তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে দশ বিশটা কারণ দেখাতে হবে তা নয়।  আসলে বিশ্বাস আছে বললেই হবে। কিউ কি, বিশ্বাসটা আমাদের ভীষণ প্রয়োজন😁। কারণ এই বিশ্বাস না থাকলে আমি,আপনি কোন দমকা হাওয়ায় উড়ে গিয়ে কোন কৃষ্ণ গহবরের ভেতর সেঁধিয়ে যাব সে কোন শর্মাই বলতে পারবে না। তাই ভয়ে বা ভক্তিতে যাই হোক, বিশ্বেস ভারী জরুরী।


আমার আবার ভূত আর ভগবান দুটোতেই ভারী ভক্তি। ভগবান কে দেখিনি ঠিকই কিন্তু লক্ষ কোটি মানুষের বিশ্বাসে, শ্রদ্ধায় তার অস্তিত্বের একটা আভাস তো পাওয়া যায়। বৈষ্ণোদেবীতে যখন গিয়েছি দেখি একই রাস্তায় হাজারো মানুষের ভীড়।  তারা সবাই যে শক্ত সবল তাও নয়। তবু কি এক বিশ্বাস তাদের টেনে নিয়ে চলেছে শিখরের দিকে। তারা শেষে কি পেল জানি না? বেদীতে বসান  বৈষ্ণোদেবীর তিন টুকরো পাথর আমার বিশ্বাসের নিক্তিতে স্থান পায়নি ঠিকই কিন্তু আসার পথে শত সহস্র মানুষের যে বিশ্বাসের রুপ আমি দেখেছি তাকে উড়িয়ে দেব এমন সাধ্যি আমার নেই। শুধু যে তীর্থস্থানেই ভগবানের দেখা মেলে তা কিন্তু নয়। পথে বেরোলেই তার দেখা মেলে। আজকেই সুফি সাধক রুমির একটা লেখা চোখে পরল।

ভ্রমণে  বেরোলেই তুমি পাবে শক্তি আর ভালোবাসা। আর ভালবাসাই তো ভগবান। আমার ভগবান আমার এই দেশ,এই পৃথিবী আর তার লক্ষকোটি মানুষ। এই ভগবানের দেখা মেলে চলার পথে, চেনা অচেনার ভিড়ে।


আর ভূতেও আমার ভারী বিশ্বেস আর ভালোবাসাও।সেই কবে ডিকেন্সের " ক্রিশমাশ ক্যারল' এর সেই উপকারী ভূতকে ভালোবেসে ফেলেছিলুম,সেই ভালবাসা সময়ের সাথে সাথে গাঢ় হয়েছে  কিন্তু একটুও ম্লান হয়নি, দ্যুতি ছড়িয়েই চলেছে। এ ভূতেদের আমি দেখেছি, আমার ছোটবেলা জুড়ে জড়িয়ে আছে তারা। আমার ছোটবেলা কেটেছে জিয়াগঞ্জের ভট্ট পাড়ায়। আমাদের বন্ধু,  নব নালন্দার অনিরুদ্ধ, তার দেশের বাড়ি এই ভট্টপাড়ায়। তো এখানের ভূতই বলুন বা অশরীরী, তারা কিন্তু ভারী মানুষ ঘেঁষা। সন্ধ্যে হতেই তারা আমাদের সঙ্গী হত। ঘরে, বাইরে, আবছা আলোর ঝাপসা অন্ধকারে তাদের উপস্থিতি  বেশ ভরসা যোগাত আমাদের। এবার বহুবছর পরে জিয়াগঞ্জে গিয়ে তাদের আর দেখা পেলুম না। আমাদের পুরনো শ্যাওলা ধরা বাড়ির জায়গায় মাল্টিস্টোরিড ফ্ল্যাট বাড়ি উঠেছে। সেখানে আর তাদের স্থান হয়নি।  সেইসব ভূতেরা বোধহয় আমার ছোটবেলার মতই হারিয়ে গেছে। আর ফিরে আসবে না।

Saturday, 16 May 2026

মন্দারমণি

 গতবছর আজকের দিনে শুধু আমি নয় আমরা তিনজন মন্দারমনিতে।আছে গৌতম আর কানু শেঠও। সোলো ট্র‍্যাভেলার আমি মোটেই নয়। বন্ধু বান্ধব দুচারজন চাইই চাই। না হলে ঘুরে বেড়িয়ে ঠিক মেজাজ মস্তি কোনটাই আসে না।

আজ হঠাৎই আসা। নেহাৎই কি বেড়াতে?  ন্না। আজকাল অনেক রকম ট্যুর বেরিয়েছে না,  মেডিকেল ট্যুরিজম, বিজনেস ট্যুরিজম ইত্যাদি ইত্যাদি।  এগুলো সব একটা কিনলে একটা ফ্রি কনসেপ্ট থেকেই পাওয়া। আমাদের এটাও সেইরকমই গোছের কিছু। হোটেল বা রিসোর্টে কিন্তু উঠিনি। উঠেছি কোথায়? শুনলে অবশ্য আপনাদের চমকাবারই কথা। আমাকে যারা চেনেন তারা নিশ্চয় ভাবছেন এই কাফের আলাকুদ ছোকরার ধম্মে মতি হলো কবে? সত্যি বলতে কি, এটা সেইরকম রিলিজিয়াস ট্যুরিজম জাতীয় কিছু না। নির্ভেজাল বেড়ানও নয়। এটা অনেকটা সামাজিক দায়িত্ব মূলক ট্যুরিজম। কানু শেঠ এই আশ্রমের বেশ কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ করছে। স্কুল রঙ করাচ্ছে, জলের ব্যবস্থাও করছে। বেশ লাখ লাখের ব্যাপার। সেটা ওর একার দায়িত্ব। ওর মধ্যে আমরা নেই। আর থাকবই বা কি করে?  আমাদের তো পেনশন নিয়ে টেনশন আভি তক জারী হ্যায়। ব্যাঙ্ক মানছে না মোটেই।


 সে যাইহোক,আগামী তিনদিন আমাদের দিন গুজরান এই রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রমেই। চারবেলা থাকা খাওয়া আর বিশ্রামের ব্যবস্থাও এখানেই। আমাদের মানে আমার আর গৌতমের একমাত্র কাজ ঘুরে বেড়ানো আর মস্তি করা। সমুদ্রের ধারে সন্ধ্যের ফুরফুরে হাওয়ায় বসে বিয়ার ক্যানে সিপ দেওয়া। এটাই আমরা এট বেস্ট করতে পারি কানুর জন্যে। ও ওদিকে স্কুলবাড়ী রঙ করুক, জলের পাম্প বসাক, যা ইচ্ছে করুক।

রামকৃষ্ণের কথাই যখন এলো আর তার আশ্রয়েই যখন থাকব কদিন, তখন যদি গৃহকর্তার প্রশংসায়, দু চার কথা না বলি, তাহলে নিমকহালালি না বরং নিমকহারামির কাজ হবে।


সবাই চেনেন তো রামকৃষ্ণকে? অবশ্যই চেনেন।  বাংলায় থাকেন আর রামকৃষ্ণদেবকে চেনেন না, এটা হতেই পারে না।অন্তত নাম তো শুনেছেন। আমিও আপনাদের মতো। তার নাম অনেক শুনেছি। শ্রীম'র লেখা রামকৃষ্ণ কথামৃত একখানা আমারও আছে। পড়িও মাঝে মধ্যে। ভালোই লাগে। গ্রামের সহজ সরল লোক। পড়াশোনা স্বভাবতই বেশী কিছু করেননি। কিন্তু শুনেছি তিনি স্বভাবজ্ঞানী ছিলেন। অনেক দামী দামী কথা নাকি বলে গেছেন। এ আমার বিশ্বেস হয় না ঠিক। তবে হতেও পারে। শ্রীম তো তাই লিখে গেছেন। শ্রীম আমার খুব চেনা। ওনার পাড়াতেই আমি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারি করেছি বেশ ক'বছর। ওনার প্রপৌত্র, দীপক গুপ্তা মহাশয়ের বেশ ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলাম।  এখন আর উনি নেই অবশ্য। তবে ওনার কাছে আমার অবিশ্বাসের কথা, দিল খুলকে বাতা দিয়া থা। দীপকবাবু সজ্জন ব্যক্তি।  আমার কথায় রেগে তো যানইনি। বরঞ্চ বললেন যেটুকু আপনার বিশ্বাস সেটুকুতেই থাকুন। বাকী সব বাদই থাক।


 তবে বিশ্বাস ভক্তি আমার রক্তে নেই।আমাদের হেরেডিটিও বলা যায়। পরদায়েশী অবিশ্বাশী।  আমিই আমার গুরু আর চ্যালা দুটোই। তবে চোখ কান খোলা থাকে সততই। জল বাদ দিয়ে দুধটুকুই নি, ঠিক পরমহংসের মতোনই।


তবে রামকৃষ্ণ দেবের অনুগামী তো প্রচুর। অনেক আচ্ছা আচ্ছা লোক।আমার ডাক্তারবাবুই তো তার বিশাল ভক্ত,অনুগামী। আমার জান মালের না হোক,জানের বকলমা তো তেনাকেই দিয়ে রেখে আমি নিশ্চিন্তে ঘুরছি গিরিশের মতো। তাকে না চটানই মঙ্গল। তাই এখানেই রামকৃষ্ণ চর্চা বন্ধ রাখলুম।


তবে এসময় মন্দারমনি না যাওয়াই ভাল। যা গরম, প্রাণ যায় যায় অবস্থা। নেহাৎ বম্বে রিসোর্ট ছিল। ওদের একটা পাবে গিয়ে আমি আর গৌতম বসে থাকতুম আর বিয়ারের বংশ ধ্বংস করতুম।







Tuesday, 12 May 2026

মামা ভাগ্নে

 মামা ভাগ্নে

'নরানাং মাতুলক্রম' 

কথাটা শোনা শোনা লাগছে না? আরো আছে, 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা' 'মিষ্টান্ন মিতরে জনা'। সব শাস্ত্রবচন। আমি অতো শাস্তর বিশারদ নই। তবে কানে আসে। তাই দু'একটা কথা বলেও ফেলি। 

প্রথমেই বলে ফেলি, আমি মোটেই ততোটা বুড়ো নই, যতটা আমাকে দেখায়, তার থেকে মনে প্রাণে আমি ঢের ঢের নবীন। আর চলনে বলনেও প্রবীণ বা বুজর্গ এর ছাপ ততটা পরেনি যতটা পড়া উচিত ছিল। এর জন্যে ক্রেডিট বা ডিসক্রেডিট যদি কাউকেও দিতে হয়, সে সব আমার যোগাসনের  গুরুমশাইদেরই প্রাপ্য। আর ভার্যা মোটেই আর তরুণী নন। বরং যেদিন ধরণী তরুণী ছিল গোছের একটা ব্যাপার। এ ব্যাপারে বেশী কথা না বলাই নিরাপদ। 

সে সব কথা যাক। কথা হচ্ছিল মামা আর ভাগ্নের বিষয়ে।  ভাগ্নেরা মামার ছাঁচেই নাকি অনেকটা ঢালা। এ কথা কি সত্যি? ভাগ্নে যদি আপনার থাকে মিলিয়ে দেখুন তো একবার।  হয়তো আপনার বেলায় মিললেও মিলতে পারে।আমার তো বিন্দুমাত্র মেলেনি। শর সে পাও তক। আমাকে তো চেনেন। আমার চরিত্রও জানেন। অবশ্যি নিজের চরিত্তির নিয়ে ওতো ঢাঁক পেটাব না। কবে কোথায় কি বেড়িয়ে পড়ে, কে জানে। থাক বরং।  অতটা গব্ব না করাই ভালো।  

তবে মোটের উপর মানে মোটামুটি আরকি,আমি নির্ঝঞ্ঝাট টাইপের লোক। কোনকিছুতেই গা লাগাই না। ওই 'হচ্ছে হোক' জাতের মানুষ। কিছুতেই হেলদোল নেই। স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে চলা, এই হচ্ছে আমার কাজ। হাঁত পা ছুড়ে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটা আমার বিলকুল নাপসন্দ। ওই স্রোতে গা লাগিয়েই তো বিপদে পড়েছিলাম। একবার নয় দুবার। জানমালের সলিল সমাধি আর কি। জঙ্গীপুরের ভরা গঙ্গা সাঁতার দিয়ে পার হতে গিয়ে একেবারে ভেসে গিয়েছিলাম।  ভাগ্যিস সতু ছিল। তাই চুলের মুঠি ধরে আর ধাক্কা দিয়ে দিয়ে পাড়ে টেনে এনেছিল। সতু ছিল বলেই আজও আমি রয়ে গেছি। আর আপনাদের আমার বকবকানি শুনতে হচ্ছে। সব ওই সতুর দোষ।  আমার কোন দায়ও নেই, দায়িত্বও নেই। যত দোষ ওই সতু ঘোষ। মাঝেমধ্যে সতুর কথা মনে পড়ে অবশ্য । হাজার হোক আমার জীবনদাতা।  কি জানি এখন কোথায় আছে বা নেই? তবে সতুরা সতুই থাকে সারাজীবন।  বিপদ দেখলেই ঝাপিয়ে পড়ে কোনকিছুর পরোয়া না করেই।

ভাগ্নের কথা বলতে গিয়ে অনেক কথাই এসে যাচ্ছে। আসলে ওর জীবনের অনেকটা জুড়েই আমি জড়িয়ে আছি। ঠিক প্রত্যক্ষ ভাবে নয়, পরোক্ষ হলেও খুব নিবিড় ভাবে। ওর জন্ম আমাদের বাড়ীতে লালবাগেরই হাসপাতালে।  সেখানে দিদির রাতের খাবার দিতে গিয়ে খরিস সাপের সাথে মুখোমুখি মুলাকাত । ছোবল তুলে চোখে চোখ দিয়ে কয়েক মূহুর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ছোটেনবাবের ইয়ারদোস্ত জেনে, ছোবলটা আর দেয়নি। নবাবের দেশের সাপ তো, তাদের মর্জিমেজাজই আলাদা জাতের। সেই সাপটার কথাও আজকাল আমার মনে পড়ে। সতুর মতো সেও আমার জীবনদাতা। না হলে সেদিনও এক ছোবলেই ফুঁ হয়ে যেতাম। 

ভাগ্নের জন্ম হলো। ভাগ্নের পড়াশোনার এক অধ্যায়ও কেটেছে আমাদের কলকাতার বাড়ীতেই। ওর সেলে চাকরিরও এক অধ্যায়ের সাথে আমি জড়িয়ে আছি। আর ওর বিয়ে সেও আমার নিয়ে আসা সম্মন্ধ দিয়েই।

এইভাবে ভাগ্নের জীবনের সাথে পাকে পাকে জড়িয়ে থাকা স্বত্বেও ওর সাথে আমার বেজায় অমিল। আমার মতো বেহিসেবী, বেআক্কেলী নয়। ভীষণ হিতাহিত জ্ঞান, ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন, হিসেবী পদক্ষেপ আজ ওকে নিয়ে এসেছে সাফল্যের চূড়ায়। এতদিন সেল আর এনটিপিসিতে কাজ করে ও আজ ডিভিসির ডিরেক্টর হয়ে কলকাতায় ফিরে এসেছে। আজ যাচ্ছি ওরই সানি পার্কের বাসায়। ডিনারের নেমন্তন্ন। 

জীবনের সব সাফল্যই আজ ওর করায়ত্ত।  কিন্তু বেচারী না জানলো বিড়ি ফোঁকার আনন্দ, না বুঝল এই আপ্তবাক্য  যে ' সাগর সে গেহরা যাম'।  না পেল মামার মতো স্রোতে ভেসে যাবার আনন্দ। আপাদমস্তক ভালো ছেলেই রয়ে গেল সারাজীবন। আসলে ওর জীবনে সতুর মতো বন্ধুরা আসেনি। আজ যদি আবার জীবনে আমার কিছু বেছে নেবার সুযোগ আসে, তবে আবার স্রোতে ভেসে যেতেই চাইব। চাইব সতুর মতো বন্ধুদেরই। রামকৃষ্ণদেবের মতই বলব, এই নাও মা তোমার পাপ, এই নাও তোমার পূণ্য আমায় আবার মহাকালের স্রোতে ভাসিয়ে দাও মা। এই নাও মা তোমার ভক্তি এই নাও তোমার অভক্তি , আমায় সতুর মতো বন্ধু আবার দিও মা।