Friday, 5 June 2020

দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ
এ বড় ঘাবড়ে যাওয়ার মতই বিষয়। বিশেষ করে আমার, আপনার মত আম আদমীদের কাছে। তবে আমি যদি বলি এই বস্তুবাদ আপনার ঘরেই মজুত, তাহলে বড় ধন্দে পরে যাবেন। খুজে খুজে হাল্লাস হয়ে যাবেন কিন্তু ধরতে পারবেন না। " তারে ধরি ধরি মনে করি, ধরতে গেলে আর মিলে না..." তবে মিলবে মিলবে নিশ্চয়ই যদি থাকে প্রেম আর নিষ্ঠা।
তবে, এই বস্তুবাদের সাথে আমার মোলাকাত নয় মোকালাত ছোটবেলা থেকেই। সেই সময় সিপিএম, নকশাল আর মারক্সবাদের জয়জয়কার। আমাকেও ক্লাস নাইনে থাকতেই, ছাত্র ফেডারেশনের মেম্বার করে নিল তুষার। তুষার আর তরূণ সিপিএম বাড়ীর দুভাই। ভারী একবগগা আর কি বলে নিবেদিত প্রাণ ছিল এইসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। লালবাগে রতনপুর পাড়ায় ওদের বাড়ী। প্রতি রোববার ক্লাস বসত সেখানে। তুষার বলত আমাদের মতামত চাইত আমাদের চটি চটি বই দিত পড়ার জন্য, সবই মারক্সবাদের উপর। তো এইরকম এক ক্লাসে আমি জিজ্ঞেস করে বসলুম, "কমরেড ( বলতে ভারী ভালো লাগত, মনে হত যুদ্ধে যাচ্ছি) দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ কি?" তুষার এই বেমক্কা প্রশ্নবানে ভারী বিব্রত হয়ে পরল। ভাবতেও পারেনি এইরকমভাবে ওকে বিদ্ধ হতে হবে। আর তখন ওরই বা কত বয়স। আমাকে আড়ালে ডেকে বলল, জেনে বলবে। যা হোক পরে আর ওর অবসর হয়নি জানার বা জানাবার। তবে দুভাই ওদের রাজনৈতিক নিষ্ঠা নিয়ে একনিষ্ঠ থেকে গেছে আজও। তুষার বোধহয় পরবর্তীতে বুদ্ধদেব বসুর ঘনিষ্ট জনদের একজন হয়ে উঠেছিল আর তরুণের সাথে দুএক বছর আগে লালবাগে দেখা হয়েছিল। তখন ও লালবাগ মহকুমার সিপিএমের সম্পাদক। দুভাইই ভারী সরল সোজা। সেই অর্থে ওদের কোন ক্যারিয়ারই গড়ে ওঠেনি।
সিপিএমের কথাই যখন উঠল, আর একটু বলি। কৃষ্ণনাথ কলেজে পড়ার সময় আমাদের সন্ধ্যের অনেকটাই কাটত বহরমপুর সিপিএম অফিসের সন্ধ্যের আড্ডায়। প্রভাত দা, পল্টুদা আরো তাবড় তাবড় নেতাদের সঙ্গে আড্ডা হত। ভারী নির্ভেজাল চরিত্রের সহজ,সরল মানুষ ছিলেন এরা। আমাদের মত বাল্যখিল্যদের সঙ্গে আমাদের মত করেই মিশতেন। নেতা সুলভ কোন গুমর ছিলনা। এদের মধ্যে পল্টু বোস ছিলেন সবথেকে মাই ডিয়ার লোক। পুরু পাওয়ারের চশমাপরা তার চোখের দিকে তাকালে মনে হবে ভারী রাশভারি লোক। কিন্তু স্বভাবে শিশু। চুনট করা ধুতী, গিলে করা পাঞ্জাবি ছিল তার রোজকার পোশাক। ভারী ধোপদুরস্ত আর সৌখিন। পলটু বোসকে অনেকেই হয়ত চিনবেন। একসময় ইস্টবেঙ্গলের গোলকীপার ছিলেন। পা ভেঙ্গে যাওয়ায় খেলা ছেড়ে দেন। তার দুটো প্রিয় জিনিস ছিল, মতি সাবান আর রাধারঘাটের ভগবানের দোকানের বিড়ি। ভগবানে বিশ্বাসী না হয়েও, ভগবানের বিড়িতে তার মতি ছিল স্থির। তো এইসব রংবেরঙের মানুষজনের সঙ্গে একসময় আড্ডা মেরে কাটিয়েছি ভেবেও আজ আনন্দ জাগে।
এইযে এত কথা বললাম এর মধ্যে আসল কথাটাই অধরা থেকে গেল। দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ? অবশ্য গুগল খুললেই বস্তুবাদের পুরো অভিধান খুলে যাবে তার মধ্যে দ্বন্ধমূলক, ঐতিহাসিক, শ্রেণীদ্বন্ধ, বিপ্লব সবকিছুরই চটজলদি সুত্র পেয়ে যাবেন। বুঝলে বুঝবেন না বুঝলেও কোন চাপ নেই।
তবে আগেই বলেছি এই দ্বন্ধের জিতে জাতা সবুদ তো আপনার হাতের কাছেই। যাকে নিয়ে অনেক বার্ষিকী, রৌপ হয়ত সুবর্ন জয়ন্তীও পালন করেছেন। মনে কি হয়নি তাকে মূর্তিমতী দ্বন্ধময়ী বলে? তিনি ভীষণ বাস্তব আর? আর কিছু বলার সাহসই নেই আপনার। দ্বন্দ্বমূলক হলেও এই বস্তুটিকে মেনে নিতেই হবে। না নিলে আপনি অচল। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ আসলে এগিয়ে চলার মন্ত্র। দ্বন্ধের মধ্যেই জীবন আর সেই জীবন এগিয়ে নিয়ে চলার সারথি আপনার দ্বন্ধময়ী। একান্তভাবেই আপনার। 😀😁😀
You, Balaram Banerjee, Sujit Kumar Basu and 7 others
3 comments
Like
Comment

অর্ধেক জীবন
আজ সকালে অনেকক্ষণ ধ্যানে বসেছিলুম। রোজই বসি। আজ বসেছিলাম দীর্ঘ ক্ষন। কোন গুরু নয়, নেই কোন দেবদেবী। নেহাৎই শূন্যের ধ্যান। হয়ত শুনে অনেকেরই অবাক লাগবে। এ আবার হয় নাকি? অয় অয় zIনতি পার না। আসলে সবই তো শূন্য দিয়ে শুরু। আর শূন্যতেই শেষ। এই শুন্যের সাথে যদি আপনার একটু ইয়ারদোস্তি হয় তাহলে দেখবেন আপনাকে আর কেউ ডরপুক আদমি বলবে না। আসলে আমাদের যত ভয় সব তো এই শূন্যকে ঘিরেই। তাই যখন শূন্যের পিঠে চেপে দোল খাবেন, দেখবেন ভয়ের সাগর আপনি কখন পেরিয়ে মহানন্দে মহাকাশের দোলনায় দোল খাচ্ছেন। অনেকটাই সেইরকম। তো আজ সকালের শূন্যফল হল ভারী জবরদস্ত। তনমন সব সাফ। একটু গোদা উদাহরণ দিই। ধরুন কোন এক কোষ্টকাঠিন্যে ক্লীষ্ঠ বাঙালী বাবু, কোন এক ' আজি এ প্রভাতে রবির করের মত..." দীর্ঘ দিনের ক্লেদমুক্ত হলে, তার মধ্যে যেমন একটা দিব্য অনুভূতি জাগে তার থেকেও দিব্যতর এক অনুভূতির রাজ্যে আপনার প্রবেশাধিকার ঘটবে। তাই বন্ধু,অবন্ধু সবাইকে আমার আমন্ত্রণ এই শূন্য রাজ্যে। সুনীলের দিকশূন্যপুর তো সবাই পড়েছেন, এ তারও গভীর গহনে। যেতে গেলে চাই ধৈর্য আর এক চামচে সাহস। শরীর শূন্য,মন শূন্য,ভয়শূন্য ভারী এক চমকদার অবস্থা। স্পেশ ষ্টেশনের মহাকাশচারীদের তো দেখেছেন, কেমন ভেসে ভেসে বেড়ায়। সেইরকমই হবে আপনার এই শুন্য সফর। শুরু করুন নেতি নেতি দিয়েই। মায়া শূন্য, মমতা শুন্য, দেহ শূন্য আরো আরো এগিয়ে যান। দেখবেন আলোয় আলোয় ভরা। কোন অন্ধকার নেই, ভয় নেই, নেই কোন বন্ধন। এক আনন্দময় জীবন হবে আপনার। তখন আমার কথা যদি মনে পরে একটু মুচকি মুচকি হাসবেন। এতে কোন গুরু লাগে না। শুধু বসে পরা, চাইলে শুয়েও পরতে পারেন।
ভেবেছিলাম আজ অর্ধেক জীবনের কথা বলব আপনাদের। কিন্তু শূন্য নিয়েই বহুক্ষণ ঘ্যানর ঘ্যানর করলাম। ফেসবুক কি এর বেশি ট্রাশ এলাও করবে? যা হোক, অর্ধেক না হোক সিকি দিয়েই শুরু করি। আসলে সকালের শূন্য বড় পুন্য, পুর্ণও রাখে আমায় সারাদিন। ভারী দিলবাহার হয়ে থাকি। আর শুরু করে দি আমার সফর। এ সফরে ট্রেন, প্লেনের টিকেটও কাটতে হয়না। নেই হোটেল,হলিডে হোম বুকিংএর ঝক্কি। চাই একটা ইচ্ছে গাড়ি তাতে টাইম মেশিন লাগানো। এ দেশ, সে দেশ, মহাদেশ মহাবিশ্ব সব জায়গায় আমার অবাধ যাতায়াত। আমার বর্তমান তো শুধু বর্তমান নয়, অতীত, ভবিষ্যৎ সব দিয়ে মোড়া। একেই বলে ম্যাজিক রিয়েলিজম। আমি এখানকারই বাসিন্দা। তাই আমার কোন বন্ধন নেই, পিছুটান নেই, সচ্চিদানন্দ হয়ে বসে আছি। আমার অতীতেরা আমার বর্তমানে হানা দেয়, ভবিষ্যতের কেউ কেউ উকি মারে। সবার সাথেই আমার ভারী সদ্ভাব। আপনারা কি করবেন, সেটা আপনাদেরই বিবেচ্য। এ ব্যাপারে আমি দিদির মতই ব্যক্তি সাধনায় ভারী বিশ্বাসী। আমাকে দেখে আপনারা ছাপ্পা মারুন, এ আমি চাইব না মোটেই।
অনেক বকর বকর হল। আমার অর্ধেক জীবনের একটা কথাই বলি শুধু আজ। আমার ইস্কুল বেলায় উর্দু শিখেছিলাম বেশ। আমাকে শিখিয়েছিল আমার ক্লাসের কামার আলি। লিখতে, পড়তে বেশ শিখেছিলাম । কিন্তু সে অভ্যেস রাখতে পারিনি মোটেই। প্রায় ভুলেই গেছি। কিন্তু ভারী খারাপ লাগে যখন গালিব, রুমি আর ওমর খৈয়ামের মত লেখা অনুবাদে পড়ি। উর্দুর মত এইরকম ঐশ্বর্যময়ী,বেহতরিন ভাষায় শের শায়েরী তার কি কোন দুসরা হয়? তারপরে, যদি সঙ্গে থাকে ইয়ার দোস্ত, ঘাসের মখমলি গালিচায়, তাকিয়ায় হেলান দিয়ে সিরাজীর পেয়ালায় ঠোঁট ছুইয়ে, শায়েরীর বুলবুল দাও উড়িয়ে। শূন্য জীবন, অর্ধেক জীবন, সিকি জীবন পুর্ণ থেকে পূন্যতর হয়ে উঠবে অচিরেই। কি বলবেন? উল্লাস, উল্লাস না ইরশাদ, ইরশাদ?

Thursday, 5 March 2020

গেঁয়োখালির কড়চা

সামতাবেড়ের শরৎবাবুর গ্রামের মুগ্ধতা কাটতে না কাটতেই ননীর ডাক এল গেঁয়োখালি যাবার৷ এর আগে শরৎবাবুর রুপনারায়নের কোলে তার গ্রাম আর রুপনারায়নের রুপে আমি মজে গেছি৷ ওই যে কে যেন লিখে গেছেন না, রবিবাবু নিশ্চয়, " রুপনারানের কুলে জেগে উঠিলাম, জানিলাম এ জগৎ সত্য নয়"! আমারও ওইরকমই একটা উপলব্ধি হল। আগে গ্রাম সম্মন্ধে আমার নাক সিঁটকানো একটা  ব্যাপার স্যাপার ছিল। সেটা একদম কেটে গেছে। তাই গেঁয়োখালি যতই গেঁয়ো হোক না কেন। আমার কোন আপত্তি নেই তার সঙ্গ করতে। তাই রাজী হতে সময় নষ্ট করিনি মোটেই।  এ গ্রাম আবার যেখানে সেখানে নয় গঙ্গা, রুপনারায়ন আর সমুদ্রের ত্রিবেণী সঙ্গমে। তাছাড়া গেঁয়োখালি নিয়েই আমার একটা মনখারাপ ছিলই। আপনার সবাই জানেন, একটা বাচ্চা ডলফিন তার সঙ্গ ছেড়ে এসে পরেছিল গেঁয়োখালি নদীতে। বাঁচান যায়নি। কি করেই বা বাঁচে সমুদ্র থেকে এসে এই ছোট নদীতে?

যা হোক, শেষমেশ উঠেই পড়লাম হলদিয়া লোকালে। লোকাল শুনে ভুরু কোঁচকাবেন না। এ লোকাল কিন্তু পক্ষীরাজকেও হার মানায়। কিছুটা দৌড়ে আর  উড়ে পৌঁছে দিল সতীশ সামন্ত হল্টে। এই হল গেঁয়োখালির স্টেশন। এখান থেকে টুকটুক। আমরা ৬ জন। ও হো সবার সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হয় নি। আমাকে তো চেনেনই।  একজন আম আদমি।  আজকাল আম আদমি কথাটা বেশ খায় পাবলিকে। আম আদমি কিন্তু বেশ শক্তি ধরে। তাই আমাকেও হেলাফেলা করবেন না। আর আমাদের দল মানে "ননীগোপালের দল" যার আমরা লাইফ মেম্বার তার সেনাপতি"ননী"। আছে তরুণ যেমন লম্বা তেমনি চওড়া আর যাত্রাদলের রাবণের মত পিলে চমকানো গলার আওয়াজ আর এক এক চুমুকে সুরা কি সমুদ্র শুষে নেবার অসীম ক্ষমতা। আছে সুব্রত। ভারী হিউমারিস্ট ছেলে, আর বড়ো শিব, চন্দ্রনাথ।  চন্দ্রনাথ এর পরিচয় এখন উহ্যই থাক। এক লাইনে শেষ হবার নয়, ওর পরিচয় দেব যথাসময়ে, যথাস্থানে।  গৌতম কে সবাই তো আপনারা চেনেনই। আমরা সঙ্গী ছিলাম টাইগার্স নেস্টের চুড়োয় ওঠার সময়। ভারী ভালোমানুষ।  বারবার আমায় তার রাঁচীর বাড়ীতে যেতে বলেন। এবার যেতেই হবে। পাগলা গারদ বলে এতদিন এড়িয়ে গিয়েছি। এবার যাবোই যাব।

সবার পরিচয় তো পেলেন, এবার সামনে এগোই।  টুকটুকে করে টুকটুক করে পৌঁছে গেলাম হলদিয়া পোর্ট অথোরিটির গেষ্ট হাউসে। দারুণ ঘর, দারুন লোকেশন আর দারুণ দারুন ব্যাবস্থা।  এত সব দারুণ যখন, দারু কি অনুপস্থিত থাকতে পারে। ননীর এ সব ব্যাপারে ভারী উঁচু নজর। একদম ব্লু ক্যাটাগরির ব্যবস্থা। সঙ্গে মাছ, সোহাগি আঁচে ভাজা, ওপরে সোনালি আর ভেতরে নরম অনাস্বাদিত স্বাদ। এই পর্ব চলল যেমন চলে। এসব বলে বোঝানো যাবে না। যে জন জানহ
 করহ সন্ধান। দুপুরেও হল জম্পেশ খাওয়া দাওয়া। তারপর সেলিমের টুকটুকে লঞ্চ ঘাট আর লঞ্চে চেপে গাদিয়াড়া। গাদিয়ারা লোকে কেন যে যায়? হতাশ হতে হল এর ছিরি দেখে।
ফিরে এসে আবার আড্ডা আবার মৌতাত। বেশ জমজমাট আড্ডা চলল রাত পর্যন্ত।  রাতে দেশী মুরগীর পাতলা ঝোল।  আর কি চায় জীবনে?  এইরকম গড়িয়ে গড়িয়ে রসেবশে কেটে যাক জীবন। চাই নে মা আমি রাজা হতে।

এর পর?  এর পর শিব্রামের সেই বিখ্যাত উক্তির মত " ঘুম,  ঘুম থেকে উঠে বিশ্রাম আর রাবড়ি। " আমাদেরও চায়ের পর রাবড়ি(?) দিয়ে শুরু। বাইরে এলে আমরা ঠিক সকাল সন্ধ্যে মানি না। চলে মানে চলতেই থাকে রসে আর বশেও। বাড়াবাড়ি একদম নয়। পরের দিন অনেক কিছু দেখলাম টুক টুক করে। সুন্দর সবুজ গ্রাম।  গ্রাম আর সেই গ্রাম নেই চকচকে রাস্তা। মানুষজন, ঘরবাড়ি সবই বেশ চকচকে৷ গ্রামের মানুষেরা বেশ ভালই আছেন, সচ্ছল, সচ্ছন্দ। বেশ ভাল লাগল দেখে। চার্চ, রামকৃষ্ণ মিশন, মন্দির, মসজিদ সব বেশ আছে পাশাপাশি।  ফেরার পথে মহিষাদল।  মহিষাদল রাজবাড়ী তো সবাই দেখেছেন। কিন্তু খেয়েছেন কি "সুরুচি " তে? খাবেন একবার। আমি একটু খাওয়ার গপ্প করতে ভালবাসি। কি খেলাম শুনুন। ভাত তো বটেই সঙ্গে করলা ভাজা, মুগের ডাল,আলুভাজা, বেগুনের ঝাল(অনবদ্য), পাঁচমিশেলি সব্জী, পুকুরের চিংড়ি অনবদ্য স্বাদ, নরম আর মাথাভর্তি ঘিলু, চাটনি, পাপড় আর মিষ্টি মিষ্টি দই। ভাল না? যা হোক সব ভালোরই শেষ থাকে। যা যা বলা হল না দেখে নেবেন ছবিতে।  ফেরা সেই পক্ষীরাজেই। দু'ঘন্টায় হাওড়া। শেষ হয়েও হবেনাকো শেষ। সামনের শুক্কুরবার আবার শুরু। এবার লম্বা ট্যুর। বিরাট দল। দল সেই একই। আমাদের আস্থা "ননীগোপালের দলেই"!






























Saturday, 14 December 2019

এবারে সিটিং- সিটঙে

আজ আমরা,  আমি, সুজিত আর আমাদের সবার দাদা সুব্রতদা চলেছি সিটং এর পথে। আমাদের লীডার ননী  দলবল সমেত গত কালই রওনা দিয়েছে দার্জিলিং মেলে। ট্রেনে আমাদের জায়গা মেলেনি, তাই এই বায়ুমার্গে সফর। আমার আবার ট্রেনই পছন্দ বেশী। জানলার ধারে বসে ভোরের কুয়াশা মাখা সবুজে সবুজ এই বাংলার ভারী মোহময়ী রুপ। মনে হয় নেমেই পড়ি কোন এক অজানা স্টেশনে, আর জীবনের বাকী দিনগুলো কেটে যাক এই মায়াবী লোকেই কোন এক রসকলি বোষ্টুমীর সাথে অচেনা একতারার সুরে। 😁

তবে ট্রেন নয় চলেছি এয়ার এশিয়ায় । এখানে সেই অবসর নেই। তবে কল্পনার ফানুস কি এখানেও ওড়ানো যায় না? বেশ যায়। চলুন তবে যাই এন্ড্রোমিডা নীহারিকা। সেখানে কোন রাজকুমারী হয়ত যুগ যুগান্ত ধরে অপেক্ষায় আছে আমারই জন্যে। অনেকদিন আগে এক সাইন্স ফিকশন পড়েছিলুম, আমার ছোটবেলায়।  তাতে এইরকমই এক ঘটনা ছিল। পৃথিবীর এক কোনে, কোন এক বেচারি এইরকম প্রেমে পড়েছিল  এক রাজকন্যের যে কিনা থাকে কয়েক কোটি আলোকবর্ষ দুরে।আমারও সেইরকম বদভ্যাস । এইরকম স্বপ্নে স্বপ্নে ঘোরা। কোনটা সত্যি,কোনটা স্বপ্ন সে হিসেব কি রাখা যায়? কেমন সব মিলেমিশে যায়। স্বপ্নও যে বড্ড বেশি সত্যি আমার জীবনে। এইজন্যেই হয়ত আমি এখনো বড়ই হইনি। সবাইকেই যে বড় হতেই হবে এমন দিব্যি কে কবে দিয়েছে? আমি না হয় বালক হয়েই রইলাম। আমাদের গুরু রবিশঙ্করও তাই বলেছেন, বালক বন যাও। বেকসুর খালাস। কেউ আটকাবে না, জীবন চলবে তরতর করে।।  এতে কিন্তু ভারী মজা। কোন কিছুই আটকাতে পারবে না। চাপমুক্ত জীবন বস। কোপারনিকাসের একটা কবিতা আজো মনে পড়ে "আকাশ মাপি আমি, ছায়ার পথে পথে, মন চলে যায় আকাশ পথে, আমি পৃথিবীতে। "
এবার কিন্তু আকাশ থেকে নেমে পড়ার সময় হয়েছে। নীচে আমাদের দলবল দাঁড়িয়ে আছে। এবার চলব দলবেঁধে সিটং এর দিকে। সীটং এ বেজায় শীত। -৭ ডিগ্রি।  তাই অনিচ্ছা স্বত্বেও অনেক ধরাচুড়া গায়ে চাপিয়েছি। তবে মনে হয়না সেরকম কোন অসুবিধে হবে। এর আগেও কল্পায় গিয়েছি -৫ ডিগ্রিতে। বুঝিনি কিছু।

সিটং কিন্তু ভারী সুন্দর। 
 কমলালেবুর বাগান, কাঞ্চনজঙ্ঘা,দিগন্তে জোড়া বিশাল উপত্যকা,শীতল বায়ু আর মুক্তপ্রাণ আমরা। সুর আর সুরায় সে লোকও যে দুরের নীহারিকার থেকে কম মনোহারি হবে না সে  আশ্বাস আপনাদের এখনই দিতে পারি। সঙ্গীরা তাড়া দিচ্ছে।আজ  থাক এই পর্যন্তই। পরে ফিরব আবার সব খবর,বেখবর  আর এই কদিনের সব বজ্জাতির আদ্যোপান্ত নিয়ে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন সবাই। আর ঠান্ডা থেকে বাঁচতে বেশী বেশী করে কমলালেবু খান।

Saturday, 23 November 2019











মন চলে নিজ নিকেতনে,
এই সংসার বিদেশে, বিদেশীর বেশে
ভ্রম কেন অকারণে ..

শুনেছি রামকৃষ্ণ দেবের প্রিয় গানের মধ্যে এটি একটি। তা বলে আমাকে তার ভক্তদের মধ্যে ফেলবেন না। উনি ছিলেন ঈশ্বর নামে কোন এক অজানা অস্তিত্বের জন্য পাগল। আমিও প্রায় পাগল তবে সেয়ানা। ঈশ্বরের কোন অস্তিত্ব আমার অভিধানে নেই। আমাদের মাতালও বলতে পারেন। মন মাতাল। কোন এক কস্তুরীর তীব্র সুবাস তাড়িয়ে  নিয়ে চলে। আমাদের মন ইতি উতি ভ্রমে কারণে অকারণে। সংসার নামক যন্ত্রণা সয়না দীর্ঘদিন। তখনই বেড়িয়ে পরি কোন এক দিকশুন্যপু্রের সন্ধানে। রামকৃষ্ণদেবের একটা কথা আমার ভারী প্রিয় সংসারে থাকবে পাকাল মাছের মত। আমরাও সব পাকাল মাছেরই জ্ঞাতিগুষ্টী। মাঝে মধ্যেই পিছলে বেরিয়ে পরি।

আজকেও সেই রকমই এক দিন। আমরা চারমূর্তি আবার পথে। আমাদের নেতৃত্বে আজ প্রফেসর শঙ্কু, চেনেন না? আরে ও আমাদের সুজিত আমাদের ভারী ইয়ারি দোস্ত। সঙ্গে ফেলুদাও যাচ্ছেন। তবে এ ফেলুদা কিন্তু পঞ্জাব তনয় রাভিন্দার পল্টা। এক্কেবারে পঞ্চনদীর তীরে বেণী পাকাইয়া শিরে। ও অবশ্য বেণীটা রাখেনি। এর কাছেই আমি দীক্ষিত।  প্রায় বাঙ্গালী তবে হোবেটাকে এখনও হবে বলতে পারেনি। অব্যর্থ নিশানাবাজ। তবে ইদানিং এক চকিতাহরিণীর বাংলা কবিতার গুতোয় উনি নিজেই ধরাশায়ী। ও রাস্তা মাড়াচ্ছেন না মোটেই।  এবার আর লালমোহনবাবু আসতে পারেননি। শুনেছি উনি ভুটানে ওনার নতুন উপন্যাসের প্লটের সন্ধানে। আমিও ওনার ওখানে যাচ্ছি আর দিন পাঁচেকের মধ্যেই৷ আর এসেছেন প্রফেসর শঙ্কুর বড়দা। ভারী মানী আর দামী লোক। আর আমি নীলু আসল নয় নীললোহিতের ক্লোন। আমার ভারী সাধ ছিল নীলুর মত হবার। তাই আজ সবাই মিলে দিকশুন্যপুরের খোঁজে। আমাদের মধ্যে ভারী মিলমিশ।  আমরা সবাই সুরালোকের বাসিন্দা। সবাই সুরালাপী আর কি। আজ সনঝবেলা আমাদের সুরালাপ যে সুরধ্বনির সৃষ্টি করবে তা নিশ্চিত।  তবে চলুন বেরিয়ে পরি কোন একদিকে। এ কদিন আমার কাজ হবে মহাভারতের সঞ্জয়ের মত। আপনাদের মত সংসারে অন্ধ আঁতুড়জনের জন্য নিয়ে আসব মুক্ত হাওয়া আর মুক্তির আশ্বাস। সঙ্গে থাকুন,চলতে থাকুন।

Friday, 15 November 2019

অরণ্যের দিন রাত্রি

ইদানীং বেশ ঘন ঘন বেড়িয়ে পরা যাচ্ছে। ছোট ছোট ট্যুর। খুব বড় নয়, ৪/৫ দিনের! কাছেপিঠেই। এবার এলেম সীসামারা নদীর পাশে এক রিসর্টে। টংয়ের উপর বাড়ী। লোহার সিড়ি পেরিয়ে অনেকটাই উচুতে।  চারিদিক নিবিড় বনে ঘেরা আর সামনেই ছোট্ট পাহাড়ী নদী, সীসামারা। ঘরের সামনের বারান্দায় বসেই চোখে পড়ে ময়ুরের নাচ, নদীর পার ঘেষে দল বেঁধে তাদের খাদ্য অন্বেষণ । এবারের এই সফরে নদীর এক বিশেষ ভুমিকা। এই নদীর বর্ষায় হয়ত অন্যরুপ। তবে শীতের আগমনে সে যেন তটীনি সম এক সুন্দরী নারী। আমাদের  নারীবর্জিত এই ট্যুরে নারীর স্থান তার সব মাধুরী দিয়ে পরিপুর্ন করে রেখেছে সীসামারা নদী । পান পাত্র উছলি উঠিছে সকাল সন্ধ্যেই।  কচিপাঁঠা থেকে নদীর বোরোলী মাছ নিরন্তর মিটিয়ে যাচ্ছে রসনা। তবু এই বেড়ানোটা একেবারে অন্যরকম। অপার্থিব রকমের কিছু একটা।  আগে এমনটি হয়নি যেন কোন দিনও।

 সম্মোহিত করে রেখেছে আমাদের এই অরণ্য, এই নৈশব্দ, আর পুর্ণিমা চাঁদের আলোস্নাত এই নদী পাহাড় আর অরণ্য।   আমাদের  চন্দ্রাহত করে রেখেছে।  দিনরাত্রি তার সৌন্দর্যেই আমরা রমণীয় হয়ে উঠছি। এই নদীরুপ নারীর  বুকেই আমরা সমর্পন করেছি নিজেদের বারবার  প্রতিদিন।  সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে জীবন। জীবন যেন এখানে  এক অনন্ত রমণ। নদীর সাথে, পাহাড়ের সাথে অরণ্যের সাথে। আমরা  মেতে উঠেছি অনন্তের সাথে ক্লান্তিহীন সঙ্গমে। কে বলে জীবন ক্ষণস্থায়ী? আমরা খুজে পেলাম এমন এক জীবন যা অসীম, অনন্ত মধুময়।







Sunday, 27 October 2019

পন্ডিত উবাচ

এই যে এতটা পথ পেরিয়ে এলুম,বলুন তো কোন জায়গাটা আপনাদের সবচেয়ে প্রিয়। যদি ফিরে যেতে চান  কোথায় যাবেন? আমি নিশ্চিত  আপনারা শতকরা  ১০০ জনই চাইবেন আবার স্কুল জীবনে ফিরে যেতে। কারন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় তার স্কুল জীবনই আর জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধুরা সব স্কুল জীবনের চৌহদ্দির মধ্যেই রয়ে গেছে।

আমার স্কুল জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় গেছে, লালবাগের নবাব বাহাদুর  স্কুলের বিশাল গন্ডীর মধ্যে। আমরা সেখানে যেমন সাধারন ঘরের ছেলেরা ছিলুন তেমনি আমাদের বন্ধুরাও ছিল সব একদা নবাব উজীরের ছেলে। কত নাম করব, জামা নবাব, পাপ্পু নবাব,আলিবান,খাস মীরজাফরের উত্তরপুরুষ।  এখনও ওদের পুরনো বাড়ী নেমকখারাম দেউরির কাছেই। এর মধ্যে পাপ্পু ছিল সবথেকে বদ। সব অসভ্য অসভ্য ছড়ার বিরাট ভান্ডার ছিল ওর কাছে। তার থেকে একটাও যদি আপনাদের এখন শোনাতে যায়, ফেসবুক আমাকে নির্বাসন দেবে চিরদিনের মত। বেশ মজা করে স্বপ্নের মত দিন কাটত তখন।

আজও আমি ফিরে ফিরেই লালবাগে যায়। পুরনো বন্ধুরা অনেকেই হারিয়ে গেছে। কিন্তু জামা নবাব যে এখন ছোটে নবাব মুর্শিদাবাদের একইরকম রয়ে গেছে। দিলদার, রংবাহারি। ওর সাথে দেখা হলেই ছোটবেলাটা যেন হুড়মুড়িয়ে ফিরে আসে।
  স্কুলে আমার সবচেয়ে প্রিয়বন্ধু ছিল অপু আর পন্ডিত। অপু শ্যামল আর উজ্জ্বল আর জ্বলজ্বলে দুটো চোখ।  অপুকে নিয়ে অনেকে গল্প আছে সে এখন বলা যাবে না। তারথেকে বরং ছোট্ট একটা গল্প নয় বরং ছোট্ট ঘটনা শুনুন। আমরা তখন লালবাগের সাহানগরে থাকতুম,কুঞ্জবুড়ীর বাড়িতে। আর পন্ডিতদের বাড়ী ছিল ঠিক আমাদের পেছনেই। আর আমাদের সামনেই থাকত তুতুন। ভারী ডাটিয়াল মেয়ে। বেণী দুলিয়ে গটমট করে হেটে যেত আমাদের সামনে দিয়ে। পাত্তাই দিত না। তবে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ সবটাই যে ওর পথের পানে উদগ্রীব হয়ে থাকত,সেকি আর বলার কথা? আমাদের পন্ডিতও কিছু কম ছিলনা।  মেধাবী,রূপবান।  ওর বড্ড বেশি ক্রাশ ছিল (বাংলায় কি যেন বলে মোহগ্রস্ত হয়ত)  তুতুনের উপর।আমরা বন্ধুরা মিলে বন্ধুর সাহায্যে এগিয়ে এলুম। ঠিক হল তুতুনকে চিঠি দেবে পন্ডিত। আশা যাবার পথে তুতুনের হাতে ধরিয়ে দেবে ওর আত্মসমর্পণের জবানবন্দী।  তো সে চিঠি সব কাঁচা মাথার মিলিত উদ্যোগে লেখা হল।  মতিঝিলের মসজিদের  এক ঘরের ছাদে বসে। ওখানে তখন লোকজন কম যেত। পন্ডিতের হাতের লেখা ছিল খুব সুন্দর।  ক্যালিগ্রাফির অলংকরণে লেখা হল প্রেমিক হৃদয়ের জবানবন্দি।  সেই চিঠি পকেটে নিয়ে পণ্ডিত উদভ্রান্তের মত দাঁড়িয়ে থাকত তুতুনের আশা যাবার পথে। সাহসে আর কুলোত না।

তারপর কি হল আমি ঠিক জানিনা।  কেউ বলে পন্ডিত চিঠিও দেবার আগেই তুতুনের হাত ধরে চুমু খেয়ে ছিল। তার উত্তর  এসেছিল চড়ে। আমরা অবশ্য বিশ্বেস করিনি একেবারেই।  বিশেষ করে চুমুখাবার কথাটা। কারন আমাদের মনেও এমন গোপন বাসনাই যে ছিল। তবে এরপরে কিছুদিন ওর টিকিটাও দেখিনি।

এ কাহিনির শেষটা একটু ট্রাজিকই। পন্ডিত ওর বাবা মারা যাবার পর  চলে গিয়েছিল কৃষ্ণনগরের নেদেরপাড়ায়,মামার বাড়ি।  ঘটনাচক্রে, তুতুনের বিয়েও হয়েছিল কৃষ্ণনগরে। দেখা হয়েছিল কোন এক শাড়ির দোকানে কোনদিন।  তুতুন বড়াবড়ই বড় সপ্রতিভ।  পন্ডিতের কোলে ওর ছেলেকে তুলে দিয়ে বলেছিল ' এই তোমার পন্ডিত মামা' আর নিজে শাড়ি পছন্দে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

বেচারি পন্ডিত!!!!