Friday, 5 June 2020











আজ বিশ্বপরিবেশ দিবস
ফেসবুকের পাতা উল্টে দেখলুম প্রতিবারই এই দিনে দুচার লাইন লিখি। তাতে সুভাষ সরোবরের ছবি থাকে,গাছপালা, বাগান ম্যায় ফেরার পথে কাদাপাড়ার বাজার থেকে ঝালের জন্যে বাটা মাছ কিনলুম না হুগলির হিমসাগর কিনলুম তারও সচিত্র বিবরণ থাকে।
এবার সেইসব কিছুই হয়নি। করোনা নামের এক বর্গীর অত্যাচারে দেশ ছাড়া না হলেও গৃহবন্দী। চার দেয়ালের মধ্যে কতক্ষণই বা ভালো লাগে। কখনো শোবার ঘরে,কখনো বসার ঘরে আধশোয়া হয়ে সোফায়। টিভি দেখতেও ভালো লাগে না। বই সব কয়েক পাতা করে পড়েই পেজ মার্ক দিয়ে উল্টে রেখেছি।
শেষমেষ ছুটকিকে নিয়ে ছাদে উঠে এলুম। অল্প হলেও হলো পরিবেশের সাথে কিছু ছোটি সি বাৎ। ফুরফুরে হাওয়ায়, কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি আর কিছু হাত পা ছুড়ে মন শান্ত হলো অবশেষে।
যারা ভাবছেন, এবার আর বাজার হলো না। তা কিন্তু নয়। অনলাইনে জলঙ্গীতে ফরমায়েশ দিয়ে রেখেছি, সুন্দরবনের কচি কালো পাঁঠার মাংস আর ক্যানিঙের দেশী কই। সেসব কালই এসে পড়বে। কইয়ের তেল কই হবে না কচি পাঁঠার নিরামিষ ঝোল হবে, তাও সময়ে জানিয়ে দেব। তবে কচি পাঁঠার কথায় ভারী কষ্ট হলো মনে। এবার তো এক অবলা প্রাণের অকাল মৃত্যুর জন্যে আমি পরোক্ষে হলেও তো কিছুটা দায়ী। ভারী অপরাধী লাগলো নিজেকে।
বিশ্বপরিবেশ দিবসে শপথ নিলাম, আমি নিরামিষাশী হবো। তবে আজ থেকে নয়, রোববার কাটিয়ে ঠিক সোমবার থেকে। যা ভুল করার তা তো করেই ফেলেছি। তবে আর নয় এ নিশ্চিত।



Jayasree Roychowdhury, Arun Bikas Das and 60 others

16 comments


Like
Comment
Share




বেলাশেষে জামাইষষ্ঠী
কাল গেছে জামাইষষ্ঠী। প্রতিবারেই আসে আবার চলেও যায়। শ্বশুর বাড়ী থেকে ডাক পড়ে নি কোনদিনই। তাদের নাকি নেই ওইসব। কি জানি কোন মগের দেশে বিয়ে হয়েছিল। অদ্ভুত সব নিয়ম। জামাই ষষ্ঠী নেই,ভাঁইফোটা নেই। কি অদ্ভুত না? এরা অবশ্য নিজেদের বাঙালী বলে দাবী করে না। বলে তেনারা নাকি বাঙাল। বাঙালির একদম উল্টো মেরুর মানুষজন। আসলে কোন ছোটবেলায় বে হয়েছে, বুঝতেই পারিনি কি হচ্ছে, হচ্ছেই বা কোন মগের মুল্লুকে। বুঝলে কি আর ওমুখো হতুম? তবে যাই বলিনা কেন, আমার শ্বশুর,শ্বাশুড়ি ভারী ভালোমানুষ ছিলেন। অযাচিত স্নেহবর্ষণ করে গেছেন জীবনভোর। আর জামাইষষ্ঠী নিয়ে একটা আফসোস থেকে গেলেও তা পুষিয়ে দিয়ে গেছেন কিন্তু ষোল আনায় নয় আঠারো আনায়। আর এখন তো শ্বশুর শ্বাশুড়ি দুজনেই প্রয়াত। তাই সেই ডাক পাবার আশা, ভরসা গেছে টুঁটে।
কাল গেছে এক বিস্ময়কর দিন। বেলাশেষের মরসুম যাচ্ছে। করোনায় আপন করে নেয়, না আমfun আমায় নিয়ে লোফালুফি খেলে তাই নিয়েই ত্রস্ত থাকি।
এসময় ওপর থেকে ডাক! না না সে ওপর নয়, ওপরের ফ্ল্যাটে ছোট শ্যালিকার দুই সুপুত্রী,রাধিকা আর রুকমিনীর কাছ থেকে জরুরী তলব। যেতে হবে, ভারী জরুরী কাজ।
গিয়ে তো বিস্ময়ে শিবনেত্র অবস্থা। আজ নাকি আমাদের জামাইষষ্ঠী। এ কি বিস্ময় জাগে প্রাণে। শ্বশুর শ্বাশুড়ি বেঁচে থাকতে হলোনি। আজ বেলাশেষে এ কোন আমন্ত্রণ? ভারী মজবুত আর দমদার বন্দোবস্ত। জামাইষষ্ঠীর কেক,গ্লাসভর্তি সোনালী পানীয় আর আরসালানের বিরিয়ানি। কাল যেন আসমান থেকে খোদার রহমৎ ঝরে পড়ল। ওই যে কথায় আছে না, ভগবান কা ঘর মে দের হ্যায় আন্ধের নেহী।
আঁধার কেটে যখন আলোর প্রকাশ হয়েই গেল তখন থেকেই যাই আর কবছর, কি বলেন? আপনারাও দাবী তুলুন, "আসছে বছর আবার হবে।"
আমার বিশ্বাস আগামী বছরও হবে। হতেই হবে। আর এবারের মতই সে উৎসবেরও পুরোহিত হবেন এরাই, রাধিকা আর রুকমিনী।



Jayasree Roychowdhury, Balaram Banerjee and 106 others

56 comments

2 shares


Like
Comment
Share