Friday, 5 June 2020

স্মৃতি সত্ত্বা ভবিষ্যৎ 😁
একটু বয়স বাড়লে অনেকেই স্মৃতি রোমন্থনের রাস্তা ধরেন। যেমন, কে কবে কোন বাঘ,সিংহ মারলেন, কাকে এক্কেবারে টাইট করে দিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে সবাই নন, কিছু আছেন যারা আবার জ্ঞানতপস্বী, তারা পড়াশোনা নিয়েই থাকেন। পুরু চশমার আড়ালে ড্যাবড্যাবে চোখে খালি তত্ত্ব তালাশ করেই চলেন। ভারী ইনটেলেকচুয়াল লোক তারা, তবে তারা মেড ইন 'মা মাটি মানুষ' এর তথাকথিত বুদ্ধিজীবি নন। তাদের ঘরানাই আলাদা। এরা যথার্থই শ্রদ্ধার পাত্র। আর এক ক্যাটাগরির আছেন, যারা আবার বাবাজীদের চেলা । সবসময় কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে করছেন, মালা জপে চলেছেন কিন্তু মন আর দৃষ্টি পড়ে আছে ভাগাড়ে। এদেরকে নিয়েই মুশকিল। বোঝা যায়না সবসময়। কখন ফোঁস করে ওঠেন। বিপদ হয়ে যাবে তা'লে। ঘোরতর বিপদ। তখন আমাকে আপনাকে জুতো বগলে নিয়ে লাপাতা হয়ে যেতে হবে। অন্তত কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে তো থাকবেন নিশ্চয়ই।
ইদানিং, আর এক দল উঠে এসেছে। সত্যি বলতে কি এরাই এখন রাজ করছে। এরা হচ্ছে ফেসবুক এডিক্ট। যা সব কাজকারবার এদের সব ফেসবুক কেন্দ্রিক। ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট, ফেসবুকে ঝগড়া, প্রেম, বগেরা বগেরা। এ গ্রুপের লোকেরা বেশ আছেন। বাড়ির কারুর এটেনশনের তোয়াক্কা আজকালকার বয়স্কেরা একেবারেই করেন না। তাদের সব মনোযোগ ফেসবুকেই। আমি তো বলব আজকালকার বুড়োদের(?) কাছে ফেসবুক এক আশীর্বাদ। এদের শরীর, মন তনদুরস্ত হয়ে আছে সব ফেবুর দৌলতে।
আসলে এ লেখাটা লেখার উদ্দেশ্য ছিল আমার জীবনের কিছু ঘটনা নিয়ে লেখার। কিন্তু এ দেখছি বাঁকা রাস্তা ধরেছে প্রথমেই। আমার কথাই বলি আমি ফেসবুকে আছি আবার নেইও। আসলে সময় কোনদিনই বোঝা হয়ে ওঠেনি আমার কাছে তাই আমি এতটা ভরাক্রান্ত হয়নি এখনো। নিত্য নতুন জিনিস ঠিক খুজে নি। আসলে আমি বড়ই হইনি। সোনার কেল্লায় মুকুল বলেছিল না, "আমি তো বড় হয় নি।" আমারও সেই মুকুলিত অবস্থা। বড় হয়নি মোটেই , তাই বুড়ো? আমার বন্ধুদেরও সেই অবস্থা। আমরা সবাই নাবালক। তাই যার যা ইচ্ছে করে বেড়ায় এখানে সেখানে। সেটা অল্পবিস্তর আপনাদের বলিও অবরে সবরে।
যাক সে সব কথা। এবার শুনুন আমার গ্রাম দর্শনের কথা। চাকরি জীবনে বহুত ম্যানেজারি করেছি। তো একবার জীবনদীপের ঠান্ডা ঘর থেকে এনে ফেলল কামারপুকুরের কাছে এক রুখুসুখু গ্রামে। হাজীপুর এসবিআই এর নতুন ম্যাঞ্জার বাবু হয়ে। গ্রাম নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না। প্রথম প্রথম কিছুতেই থই পেতাম না। কয়েক আলমারি ভর্তি লোন ডকুমেন্টস। প্রচুর তামাদি। এত সব কি বিলি বন্দোবস্ত এই নিয়ে ভাবনা ছিল খুব৷ ডিটেইলসে যাচ্ছি না। তবে ব্যবস্থা করে ফেললাম ঠিকই। আমরা ওরা সবাই মিলে। ওরা মানে স্কুলের টিচার, পঞ্চায়েতের কর্মচারী সবাই মিলে। সবাইকে বসিয়ে দিতেম ব্যাংকের কাজ নিয়ে সন্ধ্যের পর। আসলে ব্যাংকের দোতলায় ছিল আমার কোয়ার্টার। আর সেখানেই বসত আড্ডা। একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া, লাফিং ক্লাব করা সব নিয়ে বেশ কাটিয়েছি কয়েক বছর।
তবে একটা আফশোস থেকে গেছে। এক জ্যোতিষী নিয়ে। আমার অফিসের রামকে একবার কুকুরে কামড়াল। রাম বলে কিনা কদিন আগেই ওকে এক জ্যোতিষী, কুকুরে কামড়ানোর ভবিষ্যৎ বাণী করেছে। আমার ভারী ভক্তি আর বিশ্বাস জন্মাল সেই জ্যোতিষীর উপর। এমন খনার বচন যার মুখে সে যে, যেসে নয় তা আপনারাও মানবেন। রাম তাকে পাকড়াও করে নিয়ে এল একদিন । ভারী ভয় ভক্তি ধরানো চেহারা তার। গেরুয়াধারী তাই কপালে কাপালিকের মত দগদগে লাল সিঁদুর ল্যাপটানো। ভারী মনোযোগ সহকারে আমাকে আর আমার হাত নিয়ে বহু পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষন করে নিদান দিল এ জাতকের প্রচুর ধনযোগ। আর তা মিলবে ষাট পেরোবার আগেই। আর পেলেই মায়ের পুজো দেবেন আর কামারপুকুরে আমার ডেরায় এসে জানিয়ে যাবেন। আগেই বলেছি, কুকুর কামড়ানো ভবিষ্যৎবক্তার বক্তব্যে আমার ভারী বিশ্বাস । সে বিশ্বাস আজও টাল খায়নি। তাই আজও আছি ধনযোগের অপেক্ষায়। কিন্তু গোলযোগ নিশ্চয় কিছু ঘটেছে না হলে এতদিনে বাক্সভর্তি মণিমুক্তো এসে যাওয়ার কথা। আর ওইজন্যই আমি আজও ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও কামারপুকুর যেয়ে উঠতে পারিনি। আগে ধনসম্পদ আসুক৷ তারপর যাওয়া যাবেখন। তবে যেটা হচ্ছে ইদানীং রাস্তাঘাটে মাঝে মাঝেই কুকুর তাড়া করছে। একটু সন্দেহ হয় ওই বেটা কাপালিক, মোদীজীর গুরু নয়তো। লাখ লাখের স্বপ্ন দেখিয়ে কুকুর লেলিয়ে দিলে গা? এরকম গুরু না মিললে, মোদীজী কি করে সারা দেশকে ভুলাল ১৫ লাখের মায়াজালে? আপনারই এর বিচার করুন।
Jayasree Roychowdhury, Sujit Kumar Basu and 55 others
60 comments
2 shares
Like
Comment
Share

দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ
এ বড় ঘাবড়ে যাওয়ার মতই বিষয়। বিশেষ করে আমার, আপনার মত আম আদমীদের কাছে। তবে আমি যদি বলি এই বস্তুবাদ আপনার ঘরেই মজুত, তাহলে বড় ধন্দে পরে যাবেন। খুজে খুজে হাল্লাস হয়ে যাবেন কিন্তু ধরতে পারবেন না। " তারে ধরি ধরি মনে করি, ধরতে গেলে আর মিলে না..." তবে মিলবে মিলবে নিশ্চয়ই যদি থাকে প্রেম আর নিষ্ঠা।
তবে, এই বস্তুবাদের সাথে আমার মোলাকাত নয় মোকালাত ছোটবেলা থেকেই। সেই সময় সিপিএম, নকশাল আর মারক্সবাদের জয়জয়কার। আমাকেও ক্লাস নাইনে থাকতেই, ছাত্র ফেডারেশনের মেম্বার করে নিল তুষার। তুষার আর তরূণ সিপিএম বাড়ীর দুভাই। ভারী একবগগা আর কি বলে নিবেদিত প্রাণ ছিল এইসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। লালবাগে রতনপুর পাড়ায় ওদের বাড়ী। প্রতি রোববার ক্লাস বসত সেখানে। তুষার বলত আমাদের মতামত চাইত আমাদের চটি চটি বই দিত পড়ার জন্য, সবই মারক্সবাদের উপর। তো এইরকম এক ক্লাসে আমি জিজ্ঞেস করে বসলুম, "কমরেড ( বলতে ভারী ভালো লাগত, মনে হত যুদ্ধে যাচ্ছি) দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ কি?" তুষার এই বেমক্কা প্রশ্নবানে ভারী বিব্রত হয়ে পরল। ভাবতেও পারেনি এইরকমভাবে ওকে বিদ্ধ হতে হবে। আর তখন ওরই বা কত বয়স। আমাকে আড়ালে ডেকে বলল, জেনে বলবে। যা হোক পরে আর ওর অবসর হয়নি জানার বা জানাবার। তবে দুভাই ওদের রাজনৈতিক নিষ্ঠা নিয়ে একনিষ্ঠ থেকে গেছে আজও। তুষার বোধহয় পরবর্তীতে বুদ্ধদেব বসুর ঘনিষ্ট জনদের একজন হয়ে উঠেছিল আর তরুণের সাথে দুএক বছর আগে লালবাগে দেখা হয়েছিল। তখন ও লালবাগ মহকুমার সিপিএমের সম্পাদক। দুভাইই ভারী সরল সোজা। সেই অর্থে ওদের কোন ক্যারিয়ারই গড়ে ওঠেনি।
সিপিএমের কথাই যখন উঠল, আর একটু বলি। কৃষ্ণনাথ কলেজে পড়ার সময় আমাদের সন্ধ্যের অনেকটাই কাটত বহরমপুর সিপিএম অফিসের সন্ধ্যের আড্ডায়। প্রভাত দা, পল্টুদা আরো তাবড় তাবড় নেতাদের সঙ্গে আড্ডা হত। ভারী নির্ভেজাল চরিত্রের সহজ,সরল মানুষ ছিলেন এরা। আমাদের মত বাল্যখিল্যদের সঙ্গে আমাদের মত করেই মিশতেন। নেতা সুলভ কোন গুমর ছিলনা। এদের মধ্যে পল্টু বোস ছিলেন সবথেকে মাই ডিয়ার লোক। পুরু পাওয়ারের চশমাপরা তার চোখের দিকে তাকালে মনে হবে ভারী রাশভারি লোক। কিন্তু স্বভাবে শিশু। চুনট করা ধুতী, গিলে করা পাঞ্জাবি ছিল তার রোজকার পোশাক। ভারী ধোপদুরস্ত আর সৌখিন। পলটু বোসকে অনেকেই হয়ত চিনবেন। একসময় ইস্টবেঙ্গলের গোলকীপার ছিলেন। পা ভেঙ্গে যাওয়ায় খেলা ছেড়ে দেন। তার দুটো প্রিয় জিনিস ছিল, মতি সাবান আর রাধারঘাটের ভগবানের দোকানের বিড়ি। ভগবানে বিশ্বাসী না হয়েও, ভগবানের বিড়িতে তার মতি ছিল স্থির। তো এইসব রংবেরঙের মানুষজনের সঙ্গে একসময় আড্ডা মেরে কাটিয়েছি ভেবেও আজ আনন্দ জাগে।
এইযে এত কথা বললাম এর মধ্যে আসল কথাটাই অধরা থেকে গেল। দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ? অবশ্য গুগল খুললেই বস্তুবাদের পুরো অভিধান খুলে যাবে তার মধ্যে দ্বন্ধমূলক, ঐতিহাসিক, শ্রেণীদ্বন্ধ, বিপ্লব সবকিছুরই চটজলদি সুত্র পেয়ে যাবেন। বুঝলে বুঝবেন না বুঝলেও কোন চাপ নেই।
তবে আগেই বলেছি এই দ্বন্ধের জিতে জাতা সবুদ তো আপনার হাতের কাছেই। যাকে নিয়ে অনেক বার্ষিকী, রৌপ হয়ত সুবর্ন জয়ন্তীও পালন করেছেন। মনে কি হয়নি তাকে মূর্তিমতী দ্বন্ধময়ী বলে? তিনি ভীষণ বাস্তব আর? আর কিছু বলার সাহসই নেই আপনার। দ্বন্দ্বমূলক হলেও এই বস্তুটিকে মেনে নিতেই হবে। না নিলে আপনি অচল। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ আসলে এগিয়ে চলার মন্ত্র। দ্বন্ধের মধ্যেই জীবন আর সেই জীবন এগিয়ে নিয়ে চলার সারথি আপনার দ্বন্ধময়ী। একান্তভাবেই আপনার। 😀😁😀
You, Balaram Banerjee, Sujit Kumar Basu and 7 others
3 comments
Like
Comment

অর্ধেক জীবন
আজ সকালে অনেকক্ষণ ধ্যানে বসেছিলুম। রোজই বসি। আজ বসেছিলাম দীর্ঘ ক্ষন। কোন গুরু নয়, নেই কোন দেবদেবী। নেহাৎই শূন্যের ধ্যান। হয়ত শুনে অনেকেরই অবাক লাগবে। এ আবার হয় নাকি? অয় অয় zIনতি পার না। আসলে সবই তো শূন্য দিয়ে শুরু। আর শূন্যতেই শেষ। এই শুন্যের সাথে যদি আপনার একটু ইয়ারদোস্তি হয় তাহলে দেখবেন আপনাকে আর কেউ ডরপুক আদমি বলবে না। আসলে আমাদের যত ভয় সব তো এই শূন্যকে ঘিরেই। তাই যখন শূন্যের পিঠে চেপে দোল খাবেন, দেখবেন ভয়ের সাগর আপনি কখন পেরিয়ে মহানন্দে মহাকাশের দোলনায় দোল খাচ্ছেন। অনেকটাই সেইরকম। তো আজ সকালের শূন্যফল হল ভারী জবরদস্ত। তনমন সব সাফ। একটু গোদা উদাহরণ দিই। ধরুন কোন এক কোষ্টকাঠিন্যে ক্লীষ্ঠ বাঙালী বাবু, কোন এক ' আজি এ প্রভাতে রবির করের মত..." দীর্ঘ দিনের ক্লেদমুক্ত হলে, তার মধ্যে যেমন একটা দিব্য অনুভূতি জাগে তার থেকেও দিব্যতর এক অনুভূতির রাজ্যে আপনার প্রবেশাধিকার ঘটবে। তাই বন্ধু,অবন্ধু সবাইকে আমার আমন্ত্রণ এই শূন্য রাজ্যে। সুনীলের দিকশূন্যপুর তো সবাই পড়েছেন, এ তারও গভীর গহনে। যেতে গেলে চাই ধৈর্য আর এক চামচে সাহস। শরীর শূন্য,মন শূন্য,ভয়শূন্য ভারী এক চমকদার অবস্থা। স্পেশ ষ্টেশনের মহাকাশচারীদের তো দেখেছেন, কেমন ভেসে ভেসে বেড়ায়। সেইরকমই হবে আপনার এই শুন্য সফর। শুরু করুন নেতি নেতি দিয়েই। মায়া শূন্য, মমতা শুন্য, দেহ শূন্য আরো আরো এগিয়ে যান। দেখবেন আলোয় আলোয় ভরা। কোন অন্ধকার নেই, ভয় নেই, নেই কোন বন্ধন। এক আনন্দময় জীবন হবে আপনার। তখন আমার কথা যদি মনে পরে একটু মুচকি মুচকি হাসবেন। এতে কোন গুরু লাগে না। শুধু বসে পরা, চাইলে শুয়েও পরতে পারেন।
ভেবেছিলাম আজ অর্ধেক জীবনের কথা বলব আপনাদের। কিন্তু শূন্য নিয়েই বহুক্ষণ ঘ্যানর ঘ্যানর করলাম। ফেসবুক কি এর বেশি ট্রাশ এলাও করবে? যা হোক, অর্ধেক না হোক সিকি দিয়েই শুরু করি। আসলে সকালের শূন্য বড় পুন্য, পুর্ণও রাখে আমায় সারাদিন। ভারী দিলবাহার হয়ে থাকি। আর শুরু করে দি আমার সফর। এ সফরে ট্রেন, প্লেনের টিকেটও কাটতে হয়না। নেই হোটেল,হলিডে হোম বুকিংএর ঝক্কি। চাই একটা ইচ্ছে গাড়ি তাতে টাইম মেশিন লাগানো। এ দেশ, সে দেশ, মহাদেশ মহাবিশ্ব সব জায়গায় আমার অবাধ যাতায়াত। আমার বর্তমান তো শুধু বর্তমান নয়, অতীত, ভবিষ্যৎ সব দিয়ে মোড়া। একেই বলে ম্যাজিক রিয়েলিজম। আমি এখানকারই বাসিন্দা। তাই আমার কোন বন্ধন নেই, পিছুটান নেই, সচ্চিদানন্দ হয়ে বসে আছি। আমার অতীতেরা আমার বর্তমানে হানা দেয়, ভবিষ্যতের কেউ কেউ উকি মারে। সবার সাথেই আমার ভারী সদ্ভাব। আপনারা কি করবেন, সেটা আপনাদেরই বিবেচ্য। এ ব্যাপারে আমি দিদির মতই ব্যক্তি সাধনায় ভারী বিশ্বাসী। আমাকে দেখে আপনারা ছাপ্পা মারুন, এ আমি চাইব না মোটেই।
অনেক বকর বকর হল। আমার অর্ধেক জীবনের একটা কথাই বলি শুধু আজ। আমার ইস্কুল বেলায় উর্দু শিখেছিলাম বেশ। আমাকে শিখিয়েছিল আমার ক্লাসের কামার আলি। লিখতে, পড়তে বেশ শিখেছিলাম । কিন্তু সে অভ্যেস রাখতে পারিনি মোটেই। প্রায় ভুলেই গেছি। কিন্তু ভারী খারাপ লাগে যখন গালিব, রুমি আর ওমর খৈয়ামের মত লেখা অনুবাদে পড়ি। উর্দুর মত এইরকম ঐশ্বর্যময়ী,বেহতরিন ভাষায় শের শায়েরী তার কি কোন দুসরা হয়? তারপরে, যদি সঙ্গে থাকে ইয়ার দোস্ত, ঘাসের মখমলি গালিচায়, তাকিয়ায় হেলান দিয়ে সিরাজীর পেয়ালায় ঠোঁট ছুইয়ে, শায়েরীর বুলবুল দাও উড়িয়ে। শূন্য জীবন, অর্ধেক জীবন, সিকি জীবন পুর্ণ থেকে পূন্যতর হয়ে উঠবে অচিরেই। কি বলবেন? উল্লাস, উল্লাস না ইরশাদ, ইরশাদ?

Thursday, 5 March 2020

গেঁয়োখালির কড়চা

সামতাবেড়ের শরৎবাবুর গ্রামের মুগ্ধতা কাটতে না কাটতেই ননীর ডাক এল গেঁয়োখালি যাবার৷ এর আগে শরৎবাবুর রুপনারায়নের কোলে তার গ্রাম আর রুপনারায়নের রুপে আমি মজে গেছি৷ ওই যে কে যেন লিখে গেছেন না, রবিবাবু নিশ্চয়, " রুপনারানের কুলে জেগে উঠিলাম, জানিলাম এ জগৎ সত্য নয়"! আমারও ওইরকমই একটা উপলব্ধি হল। আগে গ্রাম সম্মন্ধে আমার নাক সিঁটকানো একটা  ব্যাপার স্যাপার ছিল। সেটা একদম কেটে গেছে। তাই গেঁয়োখালি যতই গেঁয়ো হোক না কেন। আমার কোন আপত্তি নেই তার সঙ্গ করতে। তাই রাজী হতে সময় নষ্ট করিনি মোটেই।  এ গ্রাম আবার যেখানে সেখানে নয় গঙ্গা, রুপনারায়ন আর সমুদ্রের ত্রিবেণী সঙ্গমে। তাছাড়া গেঁয়োখালি নিয়েই আমার একটা মনখারাপ ছিলই। আপনার সবাই জানেন, একটা বাচ্চা ডলফিন তার সঙ্গ ছেড়ে এসে পরেছিল গেঁয়োখালি নদীতে। বাঁচান যায়নি। কি করেই বা বাঁচে সমুদ্র থেকে এসে এই ছোট নদীতে?

যা হোক, শেষমেশ উঠেই পড়লাম হলদিয়া লোকালে। লোকাল শুনে ভুরু কোঁচকাবেন না। এ লোকাল কিন্তু পক্ষীরাজকেও হার মানায়। কিছুটা দৌড়ে আর  উড়ে পৌঁছে দিল সতীশ সামন্ত হল্টে। এই হল গেঁয়োখালির স্টেশন। এখান থেকে টুকটুক। আমরা ৬ জন। ও হো সবার সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হয় নি। আমাকে তো চেনেনই।  একজন আম আদমি।  আজকাল আম আদমি কথাটা বেশ খায় পাবলিকে। আম আদমি কিন্তু বেশ শক্তি ধরে। তাই আমাকেও হেলাফেলা করবেন না। আর আমাদের দল মানে "ননীগোপালের দল" যার আমরা লাইফ মেম্বার তার সেনাপতি"ননী"। আছে তরুণ যেমন লম্বা তেমনি চওড়া আর যাত্রাদলের রাবণের মত পিলে চমকানো গলার আওয়াজ আর এক এক চুমুকে সুরা কি সমুদ্র শুষে নেবার অসীম ক্ষমতা। আছে সুব্রত। ভারী হিউমারিস্ট ছেলে, আর বড়ো শিব, চন্দ্রনাথ।  চন্দ্রনাথ এর পরিচয় এখন উহ্যই থাক। এক লাইনে শেষ হবার নয়, ওর পরিচয় দেব যথাসময়ে, যথাস্থানে।  গৌতম কে সবাই তো আপনারা চেনেনই। আমরা সঙ্গী ছিলাম টাইগার্স নেস্টের চুড়োয় ওঠার সময়। ভারী ভালোমানুষ।  বারবার আমায় তার রাঁচীর বাড়ীতে যেতে বলেন। এবার যেতেই হবে। পাগলা গারদ বলে এতদিন এড়িয়ে গিয়েছি। এবার যাবোই যাব।

সবার পরিচয় তো পেলেন, এবার সামনে এগোই।  টুকটুকে করে টুকটুক করে পৌঁছে গেলাম হলদিয়া পোর্ট অথোরিটির গেষ্ট হাউসে। দারুণ ঘর, দারুন লোকেশন আর দারুণ দারুন ব্যাবস্থা।  এত সব দারুণ যখন, দারু কি অনুপস্থিত থাকতে পারে। ননীর এ সব ব্যাপারে ভারী উঁচু নজর। একদম ব্লু ক্যাটাগরির ব্যবস্থা। সঙ্গে মাছ, সোহাগি আঁচে ভাজা, ওপরে সোনালি আর ভেতরে নরম অনাস্বাদিত স্বাদ। এই পর্ব চলল যেমন চলে। এসব বলে বোঝানো যাবে না। যে জন জানহ
 করহ সন্ধান। দুপুরেও হল জম্পেশ খাওয়া দাওয়া। তারপর সেলিমের টুকটুকে লঞ্চ ঘাট আর লঞ্চে চেপে গাদিয়াড়া। গাদিয়ারা লোকে কেন যে যায়? হতাশ হতে হল এর ছিরি দেখে।
ফিরে এসে আবার আড্ডা আবার মৌতাত। বেশ জমজমাট আড্ডা চলল রাত পর্যন্ত।  রাতে দেশী মুরগীর পাতলা ঝোল।  আর কি চায় জীবনে?  এইরকম গড়িয়ে গড়িয়ে রসেবশে কেটে যাক জীবন। চাই নে মা আমি রাজা হতে।

এর পর?  এর পর শিব্রামের সেই বিখ্যাত উক্তির মত " ঘুম,  ঘুম থেকে উঠে বিশ্রাম আর রাবড়ি। " আমাদেরও চায়ের পর রাবড়ি(?) দিয়ে শুরু। বাইরে এলে আমরা ঠিক সকাল সন্ধ্যে মানি না। চলে মানে চলতেই থাকে রসে আর বশেও। বাড়াবাড়ি একদম নয়। পরের দিন অনেক কিছু দেখলাম টুক টুক করে। সুন্দর সবুজ গ্রাম।  গ্রাম আর সেই গ্রাম নেই চকচকে রাস্তা। মানুষজন, ঘরবাড়ি সবই বেশ চকচকে৷ গ্রামের মানুষেরা বেশ ভালই আছেন, সচ্ছল, সচ্ছন্দ। বেশ ভাল লাগল দেখে। চার্চ, রামকৃষ্ণ মিশন, মন্দির, মসজিদ সব বেশ আছে পাশাপাশি।  ফেরার পথে মহিষাদল।  মহিষাদল রাজবাড়ী তো সবাই দেখেছেন। কিন্তু খেয়েছেন কি "সুরুচি " তে? খাবেন একবার। আমি একটু খাওয়ার গপ্প করতে ভালবাসি। কি খেলাম শুনুন। ভাত তো বটেই সঙ্গে করলা ভাজা, মুগের ডাল,আলুভাজা, বেগুনের ঝাল(অনবদ্য), পাঁচমিশেলি সব্জী, পুকুরের চিংড়ি অনবদ্য স্বাদ, নরম আর মাথাভর্তি ঘিলু, চাটনি, পাপড় আর মিষ্টি মিষ্টি দই। ভাল না? যা হোক সব ভালোরই শেষ থাকে। যা যা বলা হল না দেখে নেবেন ছবিতে।  ফেরা সেই পক্ষীরাজেই। দু'ঘন্টায় হাওড়া। শেষ হয়েও হবেনাকো শেষ। সামনের শুক্কুরবার আবার শুরু। এবার লম্বা ট্যুর। বিরাট দল। দল সেই একই। আমাদের আস্থা "ননীগোপালের দলেই"!