Saturday, 25 July 2026

দিল্লি দূর নেহী

 ছবিতে এই যে ছেলেটাকে দেখছেন কমেডিয়ানের সাজে, ও এসেছে দিল্লিতে নিজের ভাগ্য গড়ে  নিতে। ও নিজের ভাগ্য আদৌ গড়তে পারবে কি না, না ভাগ্যও ওকে নিয়ে কমেডি করবে,  তা  বলতে  পারে কেবল সময়। এসেছে সেই সুদূর রাজস্থানের শিকার জিলার কোন এক অখ্যাত গ্রাম থেকে। আপাতত এক পাঞ্জাবী বার কাম রেস্ট্যুরেন্টের খদ্দের ধরার কাজ করে করোলবাগের এই সদা সরগরম বাজারে। সকাল ১১ থেকে রাত ১১টা অব্দি ওর ডিউটি। ওর কাজ খদ্দের ধরা ওই বার কাম রেস্টুর‍্যেন্টের জন্যে।  ১১টার পরে,  ওর বাসায় যাবে সেই দূর রজৌরী গার্ডেনে।  সকাল থেকেই আমার পেছনে লেগে ছিল, ওর রেস্ট্যুরেন্টে নিয়ে যাবার জন্যে। দারুণ সব অফার। পাঞ্জাবী হোটেল যখন দারুর প্রাধান্যটাই বেশী। এক পেগ হুইস্কী নিলে, এক পেগ ফ্রি। দুইয়ে দুই। তার সাথে দারুণ সব স্বাদিষ্ঠ খানা। কিন্তু পাঞ্জাবী খাবারে এতই বাল্লে বাল্লে মালাই আর দেশী ঘিওয়ের ছড়াছড়ি যা পেটরোগা বাঙালীর মোটেই সয় না। এর আগে সে শিক্ষে আমার হয়ে গেছে। সে সব যাইহোক, ওর সাথে কথা বলে আমার মন ভিজে গেছে। আমি কথা দিয়েছি একদিন আমি যাবই ওদের রেস্ট্যুরেন্টে গলা ভেজাতে।  অনুরোধে ঢেঁকীও গিলতে হয়। আর এ আর এমন কি। সামান্য ওয়ান প্লাস ওয়ান, কিই বা এমন। হয়তো দুপেগও নিয়ে নিতে পারি, ওর মুখ চেয়ে। দুই দুগুনি চার। সে ম্যানেজ করা যাবে। তবে ওই মালাই আর দেশী ঘিয়ের মহোৎসব কি ভাবে ম্যানেজ করব সেটা নিয়েই বড্ড চিন্তা ছিল। 

পুনশ্চ : দিল্লিতে সেবার চারদিন ছিলাম। তার পরের তিনদিন,  সেই রেস্টুর‍্যেন্টেই পরের তিনটি সন্ধ্যেই কেটেছিল। ইভিনিং ড্রিংক্স সে ডিনার তক। সেখানে ভালো চাইনিজ খাবারও পেয়ে গিয়েছিলাম। ওয়েটার যারা ছিল সব এই বাংলার। রোজ বসতো ,লাইভ গানের আসর।  লক্ষনৌর এক ওস্তাদ আর তার সঙ্গীনি দিল্লিরই এক সুন্দরী কন্যে ভারী সুন্দর গজল আরো সব গান গাইতেন।  একে দিল্লি, তাই করোলবাগের চত্তর, চারিদিকে সব লম্বাচওড়া সর্দারজী তাদের পরিবার সমেত, আর পাতিয়ালা পেগ। ভারী সুন্দর তিনটে সন্ধ্যে কেটেছিল সেবার দিল্লিতে। সাউথ আফ্রিকার এক বিরাট ব্যবসায়ী সর্দারজীর সাথেও ভারী ভাব হয়ে গিয়েছিল সেবার।


 ভারতবর্ষের কথা ভেবে, অবাকই লাগে। কি বিরাট বিচিত্র দেশ আমাদের, কি বিশাল তার সংস্কৃতি আর বৈচিত্র্য।  এমন ঐশ্চর্য্যময়ী বিচিত্র দেশ এই বিশ্বসংসারে আর দুটি নেই।  কি যেন এক অদৃশ্য সুরে বাঁধা।  গর্ব হয় নিজেকে  আরতবাসী ভেবে। 

ছবির এই ছেলেটির সাথে আর দেখা হয়নি আমার। আমার বিশ্বাস, আজ নিশ্চয় সে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে পেরেছে। আজ হঠাৎই তার কথা মনে পরে গেল। সে যেন তার ঠিকানা খুঁজে পেয়ে থাকে দিল্লিতে।

No comments:

Post a Comment