Friday, 24 July 2026

বছর তিনেক আগে- রঘুরাজপুর



আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেটে গেল রঘুরাজপুর গ্রামে।   অনেকে আবার একে শিল্পীগ্রাম বলেও থাকে। উৎকল ঘরানার ছবি আঁকাই এদের পেশা আর নেশাও। একজন দুজন নয় সারা গ্রামের লোকেরাই এই পেশায় যুক্ত। সারাবছর ট্যুরিষ্টরা আসে আর মেলায় মেলায় ঘুরেই এদের বিক্রিবাট্টা। তাছাড়া বিদেশেও এদের শিল্পসামগ্রীর চাহিদা আছে। মূলত ঘর সাজাবার ডেকর হিসেবে এগুলোর চাহিদা।সরকারি সাহায্যও প্রচুর মেলে। সাহায্য ছাড়া এদের টিঁকিয়ে রাখা যাবেনা। আমরাও ঘুরে ফিরে দেখলাম। আমি তো শিল্পের বুঝি,ঘেঁচু। কুন্তলাই ঘুরে ঘুরে দেখল, কিনলোও কিছু।হয়তো গিফট করবে কাউকে কাউকে। তবে রঘুরাজপুর গ্রামটা আমার বেশ লাগে। কি দারুণ সবুজ। একটা নৃত্যাঙ্গন ঘিরে ছোট্ট একটা স্টেডিয়াম। মাঝে জগন্নাথদেবের মন্দির। আর ওড়িশি নাচ তো জগতবিখ্যাত। গুরু কেলুচরন এই গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন। তার সেই বাড়ী আজ ভগ্নস্তুপ। কেউ তার স্মৃতিটুকু বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টাই করেনি। এতদিন জানতাম বাঙালীই শুধু আত্মবিস্মৃত জাতি। আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাও কম নয়। সেসব যাইহোক, রঘুরাজপুর আমার বেশ পছন্দের গ্রাম।  আগে যদি জানতুম তাহলে এখানেই হয়তো বিয়েশাদি করে থিতু হতেম। তাম্বুল খাইতাম আর কি করতাম?  আঁকা আমার কম্ম নয়। হাতের লেখাই কাগের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং, তার উপরে আঁকা? হবে নি? ওড়িশি নাচ, তাও নয়। তবে পান্ডাগিরিই করতাম। এটা আমায় ঠিক মানিয়ে যেতো। ভগবানের হয়ে দালালি সে কি কম হালালের কাজ? 


যাক, এসব। এর একটা দ্বিতীয় পর্বও আছে। পুরীর চ্যাঙ ওওয়া তে লাঞ্চ। চমৎকার ছিমছাম রেস্তোরাঁ। দুপুরে খুব লোকজন ছিলেন না। অনেকের রিকমেন্ডেশন ছিলো এখানে আসার জন্যে। তাই এলাম। আমি সেইরকম চীনে খাবারের ভক্ত নই। তবুও এসেই।গেলাম।  বেশ ভালো। আমিও রেকমেন্ড করছি আসার জন্যে। আমরা খেলাম থাই সুপ, কুং ফু চিকেন আর মিক্সড ফ্রায়েড রাইস। পরিমাণে যথেষ্ট আর স্বাদিষ্ঠ ।  টোটাল বিল ৮৪০ টংকা মাত্র। এটুকু এফোর্ড করাই চলে। তবে চাইনিজ হোক, চাই মুঘলাই আমার আসল পছন্দের খাবার ছ্যাঁচড়া। আমার স্বভাব চরিত্রের সাথে বেশ মেলে। শুধু আমি কেন, বাঙালী চরিত্রের আসল দিকই হলো, ছ্যাঁচড়ামি । ছ্যাঁচড়া আমাদের জাতীয় খাবার আর ছ্যাঁচড়ামি বাঙালীর জাতীয় চরিত্র। জয় জগন্নাথ।

No comments:

Post a Comment