Friday, 7 March 2025

ননীগোপালের রাস বনাম করোনার ত্রাস

 করোনার ত্রাস

বনাম

ননীগোপালের রাস


সারা দেশ কেন গোটা জগৎ জুড়েই হইহই।করোনা আর করোনা। কে হবে জয়ী? সেটা আপনারাই দেখুন। আজই ননীগোপালের দলের জনা বিশেক তল্পিতল্পা বেঁধে চললেম উত্তরে দোল খেলতে। 

সবরকমের প্রিকশান নিয়ে, যেমন আমাদের ডায়েবেটিক এসোসিয়েশনের সভাপতি সুজিত আসছে ভবানীপুর থেকে গুলি সন্দেশ নিয়ে। গুলি শুনেই বোঝা যাচ্ছে সুজিত হাইলি এটাকিং মুডে আছে। ছোড়েঙ্গে নেহি কিসিকো। ১৫০ পিস কম হবে? আরে গোলাও তো আসবে ভদ্রেশর, চন্নননগর থেকে। সুর্য মোদকের জলভরা।  সে কি তার সাইজ। এসব ব্যাপারে অশোক ঢালি ভেরী আনপ্রেডিক্টেবল। নতুন নতুন  চমক দেবার জন্যে তৈরি সবসময়। কি কি যে করবে খোদায় মালুম।  যেমন যেমন দেখব, ঠিক জানিয়ে দেব আপনাদের। 


কোথায় যাচ্ছি বলিনি তো? ভারী সুন্দর জায়গা সে সব। মিরিক, তাবোকোশি আর সাংশের। তার কিছু ছবি থাকছে সঙ্গে। ওখানেই এবারের দোলযাত্রা।  তবে ফুলের রঙে রঙীন হবে সবাই। করোনার ভয় আমরা করছিনে। কারন করোনার স্যানিটাইজার বেরিয়ে গেছে। জানেন নিশ্চয়ই।  আমাদের সঙ্গেই এনজিপিতে গাড়ীতে উঠবে ক্রেট ক্রেট হুইস্কির বোতল।চীনে নয় সব খাঁটি স্কচ।  ভেতর বাইরে সব ধুয়ে দেবে। করোনা তো যাবেই তার সঙ্গে আপনার মনের গোপনে যদি কোন দুঃখ, ব্যর্থ প্রেমের জ্বালা আজও না জুড়িয়ে থাকে, তাও যাবে সাফ হয়ে।  সব পুরনো সব মলিনতা মুছে পাবেন তাজগী ভরা সদাবাহার দিলখুশ জিন্দেগী এই বসন্ত উৎসবেই। বসন্ত তো এসেই গেছে। আশেপাশে যত ফুলকুমারীরাই ফুটে উঠুক না কেন। পাণী পীড়নের চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। দুরত্ব রেখেই নমস্কার বিনিময় করুন। আদাব আরজও করতে পারেন। ভালো থাকবেন সবাই। হ্যাপি হোলি। 😍😍😍😇😃😁

Thursday, 6 March 2025

চার ইয়ারী






 এক বাঁও মেলে না, দো বাঁও মেলে না,  তিন বাঁও মেলে না.... শেষে কত বাঁও মেলেনি,  তা আমরা কেউই জানি না। মনে আছে রবি ঠাকুরের এই গল্পের কথা? ফটিক শেষ বাঁওয়ের আর খবর জানতে পারে নি। কিন্তু আমরা?  আমরা মানে আমরা চারজন, মানে আমি, শিশির, নির্মাল্য আর জয়, এসবিআইয়ের এই চারজন যত অতলেই নামি না কেন, ঠিক ভেসে উঠেছি। ফটিকের মত, অতলে তলিয়ে যায়নি। আজকের এই ত্রৈমাসিক সম্মেলনের হোস্ট ছিল, জয়। ভেনু সেই একই শিশিরের ঝিলপারের ভদ্রাসন। একটাই যোগসুত্র আমাদের সেই আদি আর অকৃত্তিম SBI. আর স্টেট ব্যাঙ্ক মানে কে না জানে It stands for excellence.  আজকের এই মিট ছিলো ভারি বুদ্ধি বৃত্তিক। হরেক বিষয়ের আলোচনা আর মতবিরোধ।সেটাই স্বাভাবিক।  আর এটা আমাদের আলোচনায় কোন বিরোধ ঘটায় না। চলতেই থাকে। যুক্তি, পাল্টাযুক্তি আর গ্লাস পে গ্লাস। যারে কয় গ্লাসনস্ত। শিশিরের মন্দির শিল্প থেকে অষ্টম রিপু। অষ্টম রিপুর কথা শুনেছেন কোনদিন?  আমাদের মান্যবর বন্ধু যেমন মন্দির শিল্পের প্রবক্তা তেমনিই এই অষ্টম রিপুরও।  যদি জানতে চান আরো বিশদে, তবে যোগ দিন আমাদের সাথে এই তরল বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডায়।আপনার বেম্মহজ্ঞান হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন। ৬ টার আসরের সমাপ্তি হলো ১০-৩০! তারপর আর কি? জয় চলে গেল তার ভটভটিতে। এস ইউসাল হেল এন্ড হার্টি। আমি আর নির্মাল্য স্বরণ করলুম ওলার। ডরিয়ে মত।  কোন বাঁওই আমাদের তলে নিয়ে যেতে পারবে না। ঠিক ভেসে উঠবো। আমাদের খানদান আবার কি? স্রোতের শ্যাওলা। অজেয় অক্ষয়।

Monday, 3 March 2025

লালন








 উঁহু, যা ভাবছেন তা নয়। মাথায় ক্যাপ পরে একে মনে হতে পারে ডক্টর দেবী শেঠীর ছোট ভাই। কিন্তু আদতে লালন অন্য পরিবেশের মানুষ।  লালনের জন্ম এক দরিদ্র মুসলমান পরিবারে।  লালবাগে কাটরা মসজিদের পেছনে কাপাসডাঙ্গা গ্রামে লালনের জন্ম। জীবন শুরু খুব সামান্য কাজ দিয়েই,কারণ শিক্ষার জোর বা অর্থবল কোনটাই তার পেছনে ছিল না। তার কাজের শুরু রাজমিস্ত্রির সামান্য জোগাড়ে হিসেবে।  কিন্তু তার একটাই গুণ, যে কাজই করেছে, সে করেছে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে। কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়ত তার নেই, কিন্তু জীবনের কোন শিক্ষাই সে অবহেলা করেনি। ছিল জোগাড়ে, হল রাজমিস্ত্রী।  তারপর,  কলকাতা ডকে কেটে গেল কয়েকটা বছর। সেখানে সে পরে গেল এক ফিল্ম প্রোডিউসারের চোখে। তার সাথে কাটল বেশ কয়েকটা বছর। সিরিয়াল,ফিল্ম, সর্ট ফিল্মেও সচ্ছন্দে কাজ করল। তার ব্যবহারের গুণে বহু নামীদামি অভিনেতা, অভিনেত্রীর কাছের মানুষ হয়ে উঠল।


কিন্তু  বাবার মৃত্যুর পর, সংসারের প্রয়োজনে ফিরেও এল লালবাগে। কাজ নিল সাগ্নিক হোটেলে৷ সামান্য হোটেল বয় থেকে হয়ে উঠল, সাগ্নিকের ক্যাটারিং ইনচার্জ। পাক্কা রসুইকার। তার রন্ধনশৈলির জাদুতে, সাগ্নিকের সুনাম আজ চারিদিকে । আমি বেশ কয়েক বছর থেকেই লালনকে চিনি। তার বিবর্তন আমাকে মুগ্ধ করে।  এত সহজ ও সুন্দরভাবে লালন জীবনের শিক্ষাকে আয়ত্ত্ব করেছে,যা তার ব্যক্তিগত জীবনকেও মহিমান্বিত করেছে।  দুই বোনের বিয়ে, ভাইদের প্রতিষ্ঠিত করা,কোনটাতেই  কোন ত্রুটি রাখেনি। আজ তার বিরাট বাড়ি।  সুন্দরী বউ। আমবাগান।  আমার নেমন্তন্ন এবার ওর বাড়িতে আম খাবার। আমি তো আসবই। আপনারাও আমার সঙ্গী হতে পারেন।

বিলে

 বিলে


আজ সকাল সকাল যেতে হয়েছিল বিষ্টু ঘোষের পাড়ায়। কি দরকারে সেটা না হয় নাই বললাম। আর সবকিছুই যে ঢেরা পিটিয়ে বলতে হবে এমন পেটপাদলা আমি নয়। আর সে সব শুনেও আপনাদের এমন কিছু বেম্মজ্ঞান হবেনি। আখড়ার কাছেই বিলের সাথে দেখা। বিলে কে চেনেনা এ তল্লাটে এমন কেউ নেই। বিরাট শিশু বলতে যা বোঝায় তাই। যেমন বিশাল দেহ তার তেমনি বিশাল মন। একদমই অল্প বয়স।  তবে এ পৃথিবীতে বিলে জানেনা বা চেনেনা এমন জিনিস নেই। যেখানে গপ্পের গন্ধ পাবে, বিলে ঠিক সেঁধিয়ে যাবে। তখন তাকে নড়াই কার সাধ্যি। মোহনবাগান অন্ত প্রান৷ ক্লাবের দুঃখে বিলের চোখ দিয়ে জল গড়ায়। খাঁটি ঘটির বাচ্চা। ক্লাবের হয়ে




জান লড়িয়ে দেবে। যেখানে মো'নবাগান সেখানেই বিলে হাজির সে শিলিগুড়ি হোক বা চেন্নাইই। সেই বিলের বড় দুঃখ।  কবে বিএ পাস দিয়েছে আজ পর্যন্ত একটা ভদ্রস্থ চাকরি জুটল না। যে কথা বলছিলাম।  বিলে ধরল গে ঠিক শ্রীমাণির বাজারের মুখটাতে। ও আমাকে জ্যেঠু বলে ডাকে। বলল জ্যেঠু, শুনেছ, শম্ভু কাকা তোমায় কিছু বলেছে? আমি বলি না তো রে বিলে,কি হয়েছে? বলে  বলেনি? তাহলে থাক, জানলে শম্ভু কাকা আমার উপর রাগ করবে। আমি বলি বলে ফেল না আমি আর শম্ভুকাকা কি কিছু আলাদা। এক মুহুর্তেই বিলে সব উগরে দিল ওর ক্ষোভ দুঃখের কথা। শম্ভুকাকা যে কাজটা ওকে যোগাড় করে দিয়েছে, সেটা ওর মোটেই পছন্দ নয়। ও তাই ঠিক করেছে, চাগরীটা ছেড়েই দেবে। 

আপনারা শুনলেন তো বিলের কথা। ভারী ভাল,সরল, সৎ ছেলে। দেখুন না যদি ওর জন্যে ভদ্রস্থ কিছু চাকরীর জোগাড় হয়। আমার অনুরোধ রইল। 


বিলের সাথে গপ্পে কেটে গেল অনেকটা সময়। একটু মার্কেটিংও করলাম, জানেন। বিরাট কিছু নয়। আমার পছন্দের ধুলো শাক,সজনের ফুল আর মাছের মধ্যে কাঁচকি আর ফলি। আমার বাজারের সওদা শুনে জানি অনেকেই মৃদু মৃদু হাসবেন। হাসুন। তাতে আমার বয়েই গেল। আমার আজকের মেনু সজনে ফুলের বড়া,ধুলোর শাক, কাচকি র চচ্চড়ি আর বড়ি দিয়ে ফলি মাছের ঝোল। ইচ্ছেটা পেশ করলাম। জানিনা শেষ পর্যন্ত পাতে পড়বে কিনা।

Friday, 21 February 2025

জিলিপি আর চায়ে গরম




লাভা থেকে সুন্দর সুন্দর তিনটে কফি মগ নিয়ে এসেছি। দুটো আমার দুই নাতি নাতনির। আর একটা আমার৷ নাতি নাতনি পছন্দ করে লাল আর নীল রঙের দুটো নিয়ে নিয়েছে। আর এই হলুদ মাগ টা আমার।  সকালের চা টা আমি বেশ আয়েশ করে খাই। ঘুমের পরে বেশ বিশ্রামের মতন। আগেকার জমিদার বাবুদের মতন। তামুকে গুড়ুক গুড়ুক আওয়াজ তুলে অধো নিমীলিত চোখে। আর হবে নাই বা কেন। আমাদের দাদু ঠাকুর্দারাও একসময় জমিদারই তো ছিলেন, ঢুলিপাহাড়ী আর কাঞ্চনতলার । সে যাকগে,  সেসব গেছে চুকেবুকে। তবে স্বভাবটা রয়ে গেছে মৌজ করে চা খাওয়ার। এক মাগ ভর্তি সবুজ সবুজ চা৷ আর সঙ্গে অবশ্যই জিলিপি। জিলিপির কোন বিকল্প হয় নাকি? জিলিপির বিকল্প উন্নততর জিলিপি। আজ যেমন খাচ্ছি। প্যাঁচে প্যাঁচে রস। হচ্ছিল কফি মাগের কথা। জিলিপি এসে দিকভ্রষ্ট করে দিয়ে গেল। 


মাগটা তো দেখলেন।  সুন্দর না। মাত্র ২৫০ টাকা দাম। ঢাকনিতে সুন্দর আয়না লাগানো।  ইচ্ছে করলে চা খেতে খেতে নিজের মুখও দেখে নিতে পারেন। আমিও চেষ্টা করেছিলুম দেখতে। কিন্তু যতবারই দেখি, এক বুড়ো শেয়ালের মুখ ভেসে ওঠে। ছি ছি অশোক রায়, তোমার এতো অধঃপতন?  সত্যিই তো বাঘ যখন হতে পারিনি, শেয়াল ছাড়া আর কিই বা হতে পারি? আপনারা একটু কনফার্ম করবেন তো, আমাকে  কি সত্যি সত্যিই শেয়াল শেয়াল দেখতে?

Friday, 14 February 2025

হলং

 কাল ছিল আমাদের ডুয়ার্স সফরের দ্বিতীয় দিন। এর আগে জলপাইগুড়িতে কোনদিন রাত্রিবাস করিনি। এবারও সে অপূর্ণতাও পূর্ণ হয়ে গেল। কারণ এবার নিউজলপাইগুড়ি থেকে আমাদের যাত্রার ট্রেন খুব সকালে। রাত্রিবাস জরুরী ছিল। স্টেষনের কাছেই হোটেল। ঝকঝকে  হোটেল। ননী কোন অপূর্ণতা রাখে নি। ওই রাত্রে তরুণ যখন চিতল মাছের পেটি খোঁজে, তখন বুঝে নিন, আথিতেয়তার কোন পর্য্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। 


সে সব যাই হোক, ওই সকালে সবাই স্নান সেরে আলুর পরোটা প্যাকেট নিয়ে উঠলুম ট্যুরিস্ট স্পেশাল ভিস্তাডোমে। চারিদিকে কাঁচ ঘেরা ট্রেন। ভিস্তাডোম। ভারী সুন্দর।  ছবি দিয়েছি কয়েকটা দেখবেন। বেশ লাগে এসব ট্রেনে সফর করতে। ট্রেন লাইনের দুপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে। সেই নিশ্চিন্তপুরের অপু, দুর্গারও ভালো লাগতো।  আমরা যারা এই যুগের, কেউ কেউ যারা আজো অপু রয়ে গেছি, তারাও আজো জানালার ধারে বসে এই ডুয়ার্সের নদী পাহাড় অরণ্য আজও অবাক বিস্ময়ে দেখেই চলে। অপুরা চিরকালই পৃথিবীতে রয়ে যায়। একসময় এই ভিস্তাডোম সফর শেষ হল। ট্রেন যেন তাজগী ঘোড়ার সওয়ার করে নিমেষে পৌঁছে দিল, মাদারীহাট স্টেশনে৷ মাদারীহাট, হলংএ ঢোকার সিংহদ্বারই বলা যায়।এবার তিনদনের মৌরসীপাট্টা আমাদের এই হলং ইকো রিসোর্টেই। কটেজ টাইপের বাড়ী। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।  আমাদের গুলতানি মারার আদর্শ জায়গা। তবে আমাদের কটেজের মালিক বিশ্বনাথদা৷ বিশ্বনাথবাবুর পরিচয় যদি এককথায় দিতেই হয়৷ তবে তার পরিচয় প্রেমিক আর বিপ্লবী।  বিপ্লব করতে করতে প্রেম। বিপ্লবের সর্বনাশ। প্রেমের জয়। আর কেই বা না চায় প্রেমের জয়, বলুন? আমিও তাই। আপনিও নিশ্চয় দলছাড়া হতে চাইবেন না৷ 


এক সময়ের নকশাল। সেই স্কুলের দশম ক্লাস থেকেই, গলায় ইন্টারন্যাশনাল, আর রবীন্দ্রনাথের, 'ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে, মোদের বাঁধন ততই টুটবে" গলায় নিয়ে মুর্শিদাবাদের গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প। সেসব ছিল একদিন। তবে বিপ্লবের বারুঁদে ভেজাল ছিল। বেশীওপরে উঠতে পারেনি। কমদামি হাওয়াইয়ের মতো পপাতধরণীতলে হতে সময় লাগেনি মোটেই। আর প্রেমও তো ছিল অনেক। মঞ্জু,ডলি, মলি, জ্যোতিকণার দল। সবাই কিন্তু রুপসী কন্যা। প্রেমটা একতরফাই ছিল৷ মুখফুটে বলা হয়নিকো আর৷ বিপ্লব, প্রেম সবই শেষ।  এবার ফিরে আসুন জলদাপাড়ায়। শিং বেঁকানো গন্ডারের আড্ডায়৷ এখানে প্রেমের প্রবেশ নিষেধ।  বেশী ট্যাঁফোঁ করলে, গণ্ডারের গুতোয় এফোঁড ওফোঁড় হয়ে যাবার শঙ্কা৷ 

আপাতত প্রেমে ইতি দিয়ে চলুন, জঙ্গলে যাই। বন্যেরা বনে সুন্দরের খোঁজে। 


হলং রিসার্ভ ফরেস্ট৷ ১৮ জনের দল৷ মহিলাও বেশ কয়েকজন আছেন। ক্যাচোর ম্যাচর চলছেই সারাক্ষণ।  এদের নিয়েই জঙ্গলে।  হলংএ ননীর সাথে আগেও এসেছি। সেবার কপালে এক ভারী গরীব ধরণের গণ্ডার ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। তবে এবার ননীর কপাল একেবারে তুঙ্গে বৃহস্পতি।  জন্তু জানোয়ার আর পাখী, ময়ুরের মেলা। একটা দুটো নয়৷ দলে দলে আর পালে পালে৷ আর ময়ুরেরা  তো সারাক্ষণ পেখম মেলে আমাদের মনোরঞ্জন করেই চলল। বিশালাকায় হাতীর দল, ষণ্ডামার্কা সব শিং বেঁকানো শম্বরের দল, দৈতাকায় সব বাইসন বা গৌড়, যাই বলুন। দারুণ জমজমাট এক জাঙ্গল সাফারি হলো। 


কিন্তু আসল আড্ডা তো হবে ভর সন্ধ্যে বেলায়। হাম তুম আর ব্যাগপাইপার। ও কিছু নয়। একটু ক্যাটালিটিক এজেন্ট মাত্র৷ দু এক পেগ পেটে পড়লেই সব এক একজন আঁতেল মার্কা হয়ে ওঠেন। আর এই আড্ডাটার জন্যেই আমরা বারবার ফিরে আসি ননীগোপালের দলে। দুতিনঘন্টা নিমেষে কেটে যায়। ফরাসী বিপ্লব, নাজিম হিকমত, চে গুয়েভারা, সত্যজিত, সুনীল শক্তি আরো সব নামী অনামী হস্তীদের চুলচেরা বিশ্লেষণে৷ দারুণ জমজমাট আড্ডা। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চললেও আড্ডা থামতে চায় না৷ দুপেগ তিনপেগের পড়ে আবার শুরু হয় অনুরোধের আসর। অনারের খেলা তখন৷ এ খেলা ননীর তৈরি আমরা তখন একে অন্যকে সম্মান জানায়,  খাদা দিয়ে নয় পেগ দিয়ে। এ খেলাও একসময়ে থেমে যায়। খালাসীটোলার আলোও  নিভে যায়। 

"তখন থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন। "

অথবা

" ভ্রুপল্লবে যদি ডাক দিয়ে থাক, 

চন্দনবনে দেখা হতে পারে।"

আপনারাও আসুন। 

আজ আমরা বনে নয়, সবাই মিলে যাব চন্দনবনে।


ছবি ঃ সৌজনেঃ ননীগোপাল।

Saturday, 23 November 2024

এ শ্যাম এ মস্তানি

 এ শ্যাম এ মস্তানী


আজকের সন্ধ্যেটা সত্যিই মনে রাখার মতই। আজ ছিল আমাদের সিটং যাবার প্রি-ওয়েডিং বা ওয়ার্মিং পার্টি। এই সবে সীসামারা জলদপাড়া ঘুরে এসেছি গত মাসেই। সীসামারার সবুজ বনানী, পাহাড়ি নদীর কুলুকুলু ঠান্ডা ঠান্ডা জলে অবগাহন স্নান আর নদীর পাড়ে ময়ুর ময়ুরীর  নাচ এখনও ফিকে হয়নি স্মৃতি থেকে। সীসামারার হ্যাংওভারের রেশ এখনও কাটেনি । এমনকি জলদাপাড়ার সেই গন্ডারের কাতর চাহনি এখনো বিহ্বল করে রেখেছে। 

এর মধ্যেই নতুনের আমন্ত্রণ।  এবার সিটং থেকে। মংপু ছাড়িয়ে আরো ওপরে। মংপু নিশ্চয় সবার চেনা,সবার জানা। সে যান আর নাই যান। মৈত্রিয়ী দেবীর 'মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ' কে না পড়েছেন বা নাম শুনেছেন।  তারও ওপরে সিটং কমলা লেবুর বাগান ঘেরা এক অপুর্ব সুন্দর পাহাড়ি উপত্যকা।  যার সৌন্দর্য নাকি বহুগুণ বাড়িয়ে রেখেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।  সেখানেই আমাদের কাটবে আগামী চারটে দিন। এবারের দল সীসামারার থেকেও আড়ে বহরে ভারী। মোট ২১ জন।  সবাই আমরা ননীচোরার দলে। ননীকে নিশ্চয়ই আলাদা করে চেনাতে হবে না। এই যে আমাদের ঘোরাফেরা সবই ননীর নিয়ন্ত্রণে।  আজকের আসর ছিল পার্ক স্টীটে Bar-B-Que. উদ্দেশ্য একটাই ওই যে বললাম ওয়ার্ম আপ মানে একটু গা ঘেষাঘেষি করে ভাইচারার ওমের উত্তাপ নেওয়া। আজকের উদ্যোক্তা ছিলেন সুব্রতদা। তারই রিফ্রেশার কোর্স হল আজ বারবিকিউ এ। যথেষ্ট পরিমাণ শান্তি বারির আয়োজন ছিল উপাচার সমেত। এর মধ্যে গৌতমের ফোন এল রাঁচি থেকে। গৌতমকে মনে নেই?  ননীর সহকর্মী আর আমার সহযাত্রী ছিল টাইগার্স নেস্টের চূড়া পর্যন্ত।ওর স্ত্রীর কথা মনে পড়ে খুব। যেমন গান গান তেমনি ট্রেকিং এ পারদর্শী।  ওনার সাহসে সাহসী হয়ে আমার মত ভীতু লোকও বাঘের পিঠে চাপতে পেড়েছিলাম শেষ পর্যন্ত।  আর অক্ষত শরীরে নেমে আসার পেছনেও তারই অসীম সাহস৷ গৌতমের ভারী অনুযোগ,আমি কথা দিয়েও কথা রাখিনি৷ অর্থাৎ এবার গৌতমের রাঁচির বাড়িতে যেতেই হবে। না এবার সত্যি সত্যিই যেতে হবে রাঁচি। যদিও মাথা এখন পর্যন্ত সাফই আছে।  ভারী ভালো মানুষ এই গৌতম আর তার স্ত্রী। এবার পুরোন কথা থাক। ফিরে চলি সেই সিটং য়েই।


সিটং এর এডভান্স পার্টি বেরিয়ে পড়ছে এই সাত তারিখেই দার্জিলিং মেলে। আমরা এবার ট্রেনের টিকিট পাইনি। তাই আমি সুব্রতদা আর সুজিত যাচ্ছি এরোফ্লোটে বাগডোগরা।  ননীরা আমাদের তুলে নেবে ওখান থেকেই। ২১ জনের দল। বুঝতেই পারছেন হবে একদম নরক গুলজার। সে খবর যথাসময়ে দেব। আজ এখানেই থাক৷ আমার আবার বড় লেখা লিখতে ইচ্ছে করে না এমনকি পড়তেও। আপনিও নিশ্চয় আমারই দলে।