Wednesday, 8 May 2019

The return of the prodigal son

It was a Sunday.I was born in a small town in the district of Murshidabad called (Raghunathganj) Jangipur.
I remember the day very fondly when I first entered the premises of State Bank of India not as a customer but as an employee. It was long ago. But the day is very clear on my vision.I was just 20 then.,I was nervous to enter into the room of the Branch Manager to whom I had to report with my appointment letter. At that time, State Bank of India was very glamorous and people envy those who worked in that institution.

My first day in the Bank went peacefully. My initial nervousness meltdown. My first branch was a small one, there was not much work and at that time Bank was not required to do varieties of work. It was simple deposits accounts and a little bit of advance and general banking. So life was not much hard. But entering into the service life so early made me rebellious within a few weeks. I started missing my friends every evening

I am a rich man. Rich with plenty of time. I wake up early in the morning. I rise before the sun rises. And my mind starts working instantly what next, what next? I get out of my home. There is hardly any person on the streets and I start my walk rather a long march. I walk from one street to another. I walk in different directions. But there is hardly any destination for me. Nowhere to reach.

How painful, it is for a man who has started his journey long ago, could not find any destination. Do We really have any destination? Or am I not inclined to reach to any particular station? Possibly, the second one is right. I never intend to reach anywhere where I can end my journey and possibly rest in peace. But RIP is used for the dead men and to be very honest, nobody wants to rest in peace as also me.

I envy those people who appear to be fully composed with their day to day mundane activities and not complaining about anything. They possibly are resting in peace. Did they really exist? I doubt after seeing all those people who are well placed and doing all the worldly activities but the doors and windows of their minds are closed. But I can not blame them. They are organised that way. And perhaps this is the way, most of us are usually are accustomed to surviving.




স্মৃতি স্বত্তা ভবিষ্যৎ

স্মৃতি স্বত্তা ভবিষ্যৎ 😁

একটু বয়স বাড়লে অনেকেই স্মৃতি রোমন্থনের রাস্তা ধরেন। যেমন কবে কে কোন বাঘ,সিংহ মারলেন, কাকে এক্কেবারে টাইট করে দিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি।  তবে সবাই নন, কিছু আছেন যারা আবার জ্ঞানতপস্বী, তারা পড়াশোনা নিয়েই থাকেন। পুরু চশমার আড়ালে ড্যাবড্যাবে চোখে খালি তত্ব তালাশ করেই চলেন। ভারী ইনটেলেকচুয়াল লোক তারা, তবে তারা মেড ইন 'মা মাটি মানুষ' এর তথাকথিত বুদ্ধিজীবি নন। তাদের ঘরানাই আলাদা। এরা যথার্থই শ্রদ্ধার পাত্র। আর এক ক্যাটাগরির যারা বাবাজীদের চেলা হয়েছেন। সবসময় কৃষ্ণ কৃষ্ণ করছেন, মালা জপে চলেছেন কিন্তু মন আর দৃষ্টি সবসময় পরে আছে ভাগাড়ে। এদেরকে নিয়েই মুশকিল।  বোঝা যায়না সবসময়।  কখন ফোঁস করে ওঠেন। বিপদ হয়ে যাবে তা'লে। ঘোরতর বিপদ। তখন আমাকে আপনাকে জুতো বগলে নিয়ে লাপাতা হয়ে যেতে হবে। অন্তত কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে তো থাকবেন নিশ্চয়ই।

ইদানিং, আর এক দল উঠে এসেছে।  সত্যি বলতে কি এরাই এখন রাজ করছে। এরা হচ্ছে ফেসবুক এডিক্ট। যা সব কাজকারবার এদের সব ফেসবুক কেন্দ্রিক।  ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট, ফেসবুকে ঝগড়া, প্রেম, বগেরা বগেরা। এ গ্রুপের লোকেরা বেশ আছেন। বাড়ির কাউরির এটেনশনের তোয়াক্কা আজকালকার বয়স্কেরা করেন না। তাদের সব মনোযোগ ফেসবুকেই। আমি তো বলব আজকালকার বুড়োদের(?) কাছে ফেসবুক এক আশীর্বাদ।  এদের শরীর, মন তনদুরস্ত হয়ে আছে ফেবুর দৌলতে।

আসলে এ লেখাটা লেখার উদ্দেশ্য ছিল আমার জীবনের কিছু ঘটনা নিয়ে লেখার।  কিন্তু এ দেখছি বাঁকা রাস্তা ধরেছে প্রথমেই। আমার কথাই বলি আমি ফেসবুকে আছি আবার নেইও। আসলে সময় কোনদিনই বোঝা হয়ে ওঠেনি আমার কাছে তাই আমি এতটা ভরাক্রান্ত হয়নি এখনো। নিত্য নতুন জিনিস ঠিক খুজে নি। আসলে আমি বড়ই হয়নি। সোনার কেল্লায় মুকুল বলেছিল না, "আমি তো বড় হয় নি।" আমারও সেই মুকুলিত অবস্থা। বড়ই হইনি, তাই বুড়ো? আমাদের বন্ধুদেরও সেই অবস্থা।  আমরা সবাই নাবালক।  তাই যা ইচ্ছে করে বেড়ায় এখানে সেখানে।  সেটা অল্পবিস্তর আপনাদের বলিও অবরেসবরে।

যাক সে সব কথা। এবার শুনুন আমার গ্রাম দর্শনের কথা। চাকরি জীবনে বহুত ম্যানেজারি করেছি। তো একবার জীবনদীপের ঠান্ডা ঘর থেকে এনে ফেলল কামারপুকুরের কাছে এক রুখুসুখু গ্রামে। হাজীপুর এসবিআই এর নতুন ম্যাঞ্জার বাবু হয়ে। গ্রাম নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না। প্রথম প্রথম কিছুতেই থই পেতাম না। কয়েক আলমারি ভর্তি লোন ডকুমেন্টস।  প্রচুর তামাদি।  এত সব কি বিলি বন্দোবস্ত এই নিয়ে ভাবনা ছিল খুব৷ ডিটেইলসে যাচ্ছি না। তবে ব্যবস্থা করে ফেললাম ঠিকই। আমরা ওরা সবাই মিলে। ওরা মানে স্কুলের টিচার, পঞ্চায়েতের কর্মচারী সবাই মিলে। সবাইকে বসিয়ে দিতেম ব্যাংকের কাজ নিয়ে সন্ধ্যের পর।  আসলে ব্যাংকের দোতলায় ছিল আমার কোয়ার্টার। আর সেখানেই বসত আড্ডা। একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া, লাফিং ক্লাব করা সব নিয়ে বেশ কাটিয়েছি কয়েক বছর।

তবে একটা আফশোস থেকে গেছে। এক জ্যোতিষী  নিয়ে। আমার অফিসের রামকে একবার কুকুরে কামড়াল। রাম বলে কিনা কদিন আগেই ওকে এক জ্যোতিষী কুকুরে কামড়ানোর ভবিষ্যৎ বাণী করেছে। আমার ভারী ভক্তি আর বিশ্বাস জন্মাল সেই জ্যোতিষীর উপর। এমন খনার বচন যার মুখে সে যে, যে সে নয় তা আপনারাও মানবেন।  রাম তাকে পাকড়াও করে নিয়ে এল। ভারী ভয় ভক্তি ধরানো চেহারা তার। গেরুয়াধারী তাই কপালে কাপালিকের মত দগদগে লাল সিঁদুর ল্যাপটানো। ভারী মনোযোগ সহকারে আমাকে আর আমার হাত নিয়ে বহু পর্যবেক্ষণ, নিরিক্ষন করে নিদান দিল এ জাতকের প্রচুর ধনযোগ। আর তা মিলবে ষাট পেরোবার আগেই। আর পেলেই মায়ের পুজো দেবেন আর কামারপুকুরে আমার ডেরায় এসে জানিয়ে যাবেন। আগেই বলেছি কুকুর কামড়ান ভবিষ্যৎ বক্তায় আমার ভারী বিশ্বাস।  সে বিশ্বাস আজও টাল খায়নি। তাই আজও আছি ধনযোগের অপেক্ষায়। কিন্তু গোলযোগ নিশ্চয় কিছু ঘটেছে না হলে এতদিনে বাক্সভর্তি মণিমুক্তো এসে যাওয়ার কথা। আর ওইজন্যই আমি আজও ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও  কামারপুকুর যেয়ে  উঠতে পারিনি। আগে ধনসম্পদ আসুক৷ তারপর যাওয়া যাবেখন। তবে যেটা হচ্ছে ইদানীং  রাস্তাঘাটে মাঝে মাঝেই কুকুর তাড়া করছে। একটু সন্দেহ  হয় ও বেটা মোদীর গুরু নয় তো। ১৫ লাখের স্বপ্ন দেখিয়ে কুকুর লেলিয়ে দিলে গা।  এরকম গুরু না মিললে, মোদী কি করে সারা দেশকে ভুলাল ১৫ লাখের মায়াজালে? আপনারই এর বিচার করুন।
আজ দীপকের সাথে বহুদিন পরে দেখা হল। বোধহয় বছর পেরিয়ে গেছে। সেই রামধুরার পরে এই প্রথম।  আজ আমরা তিনমূর্তি ভাই বলরাম আর অগতির গতি,  দীনবন্ধু সুজিত গিয়েছিলাম দীপক সন্দর্শনে। দীপক যেমন ছিল, ঠিক তেমনি আছে। সেইরকম গমগমে,ঝকঝকে প্রত্যয়ে অটল দীপক। বরঞ্চ আরও প্রত্যয়ী। সাধে কি আর ও প্রত্যয়ের প্রাণপুরুষ।  হাজারো লোক ওর দিকেই তাকিয়ে থাকে আর থাকে ওর লেখার অপেক্ষায় ,  চায় ওর চলার পথের সঙ্গী হতে।  ভারী ভাল লাগল দীপককে দেখে, এ দীপক, দীপক রাগেও জ্বলল না, মেঘমল্লারেও ঝরে পরল না বরং দরবারি কানাড়ায় বেজে উঠল গমগম করে। তাতে বেজে উঠল আত্মপ্রত্যয় আর আগামীর আশ্বাস । আপনারা আশ্বস্ত থাকুন দীপক ভালো আছে, খুব ভাল আছে, নব আনন্দে আবার সে ফিরে আসছে আপনাদের মধ্যেই। দীপকের কাছেই দেখা মিলল স্বপন রায় বিশ্বাস আর গৌতমের ।  দুজনেই ভারী ভালমানুষ, ভালোবাসায় ভরা। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। তাই ওদেরই মত আপনার আমার সবার বিশ্বাস দীপক বিশ্বাসেই। জানি এমত বন্ধুভাগ্য যাদের তাদের জব্দ করবে কোন সে কোতোয়াল?

  আমরা তিন বন্ধু এসে জড়ো হলাম  কোন মাইখানায় নয়, ঢাকুরিয়া লেকের পাড়ে আর স্মরণ করলাম আরেক বন্ধু গালিবকে, গ্লাসের ঠুংঠাং আওয়াজে। শেষে কি হল? শেষ বলে কিছু  তো নেই। রবি ঠাকুর লিখে গেছেন না, "আমারে তুমি অশেষ করেছ....".

আর গালিব, তাকে কি দূরে রাখা যায়?

৷   "হাজারো খোয়াসে এইসি কি হার খোয়াস পার দম নিকলে
৷৷   বহুত নিকলে মেরে আরমান,লেকিন ফির ভি কম লিকলে।"

বুঝলেন কিছু? দরকার নেই বোঝার। আনন্দে থাকুন।

Thursday, 2 May 2019

ভুলোমন

ভুলোমন
 বেশী বয়সে লোকের ভুলভাল একটু আধটু হতেই পারে কিন্তু তা নিয়ে হইচই করা বোধহয় উচিৎ কাজ হবে না। চিরদিন  কাহারো সমান নাহি যায়। এ গান কে না শুনেছেন। তবে তার মধ্যেও কেউ কেউ কেন, অনেকেই আছেন যাদের মন ওই ভুলভুলাইয়ার ফাঁদে পরা বেচারীদের মত যারা বেরোবার রাস্তাটা আর খুঁজে পাননা হাজারো চেষ্টাতেও৷ ওই ইসে, আর কি যেনোতে আটকে থেকে হাঁসফাঁস করেন  অবিরাম যতক্ষণ না কেউ তাদের উদ্ধারে নামছেন। তো আমিও সেইরকম একজন ভুলোমন আম আদমি।  এইরকম কেন, বিচ্ছিরি রকমের ভুলোমন আমার। আমি আস্ত আস্ত লোককে একদম ভুলে যায়। আজ বলে না। আমার অল্প বয়েস থেকেই। কেউ হয়ত এসেছে পুরনো আলাপের সুবাদে আর আমি কিনা তাদের চিনতেই পারিনি।  কোনজন্মে তাদের দেখেছি বলেই মনে হয় না।তখন আমার বয়স কিন্তু মাত্র ত্রিশের কোঠায়। এটা কি কোন রোগ? হতেও পারে। তবে এর পরে অন্তত লোক চেনার ব্যাপারে সেইরকম গণ্ডগোলে আর পরতে হয়নি।  আমার অবশ্য একটা  গুণ আছে, রাস্তা ঘাট ভুলে গেলেও  আমি গন্ধ চেনায় খুব দড়। গন্ধ শুকে শুকে ঠিক পৌঁছে যাব সঠিক গন্ত্যবে। অনেকটা স্নির্ফার্স ডগের মত। ঠিক ওরা যেমন খুজে পেতে কোথায় লুকোনো ড্রাগ ঠিক বের করে ফেলে। আমি অবশ্য অত উঁচুদরের নয়। তবে শেখরের বাড়ি আমি ঠিক বের করে ফেলি। কষ্ট হয়না মোটেই  আর শেখর আমাদের গন্ধগোকুল।  ওর বাড়ির গন্ধই আমাকে টেনে নিয়ে যায়। এদিক ওদিক হয় না মোটেই  কিসের গন্ধ সেটা না হয় উহ্যই থাক।

তবে ভুলোমন ব্যাপারটা আমাকে এখন আর সেইরকম জ্বালায় না। তবে ভারী দিকভ্রষ্ট লোক আমি।  উত্তর দক্ষিণ, বাম ডান বোধ নেই একরকম৷ বেশীরভাগ সময়ই আমি উলটোপথে হাঁটি। সেদিন তো দেখলেন নাকতলা পোস্ট আফিসের বদলে আমি উলটোপথে হাঁটা লাগলাম।  তবে শুধরে নিই ঝটপট।  আর রাস্তাঘাটের মানুষ জনেরাও ভারী উপকারী৷ আমার ভুল বুঝতে পেরে তারা ভারী ব্যস্ত হয়ে পরে আমাকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে। তাই মানুষের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস। সে আপনি ভার্চুয়াল বলুন আর যাই বলুন। আর বিশ্বাসের উপরই তো আমাদের জীবনের  অস্ত্বিত্ব দাড়িয়ে আছে, তাই না? তাই 'জয় বাবা ফেলুনাথ' এর  ছোট্ট রুকুর মত যদি বলতে পারেন ' সব সত্যি, মহিষাসুর সত্যি, হনুমান সত্যি, ক্যাপ্টেন স্পার্ক সত্যি আর ডাকু গন্ডারিয়াও সত্যি।'  সত্যকে মেনে নেওয়ার সাহস যদি থাকে তাহলেই জীবনে আনন্দ আপসেই চলে আসবে। কোন টেনশন থাকবে না বস।

তবে যাই বলি  আর তাই বলি এটাও তো ঠিক,  কিছু মানুষ নানা রোগভোগের শিকার হন তার মধ্যে আলঝাইমার্স, ডিমনেশিয়ার মত দুরারোগ্য রোগও আছে।  তাদের জন্য অবশ্য একটা টোটকা আছে। সেটা হল ঘুম থেকে উঠেই টাং টুইস্টিং গোছের একটা জিভের ব্যায়াম। জিভ দশবার ডান দিক দিয়ে ঘোরাতে হবে আর দশবার বা দিক দিয়ে। তাহলেই আপনি মুক্ত এই ডিমনিশিয়া বা আলঝাইমার্সএর শঙ্কা থেকে।  আয়নার সামনে দাড়িয়ে,আমি কয়েকদিন করেছিলাম। কিন্তু সাতসকালে আয়নায় নিজেকে জিভ ভেঙাতে কার ভাল লাগে? তাছাড়া ভেবেও দেখলাম কি দরকার এ সবের। এই পরন্ত বেলায় সব কিছু আকড়ে ধরে কার কি লাভ। ভুলে যাবার মত ভাল ব্যাপার আর কিছু আছে নাকি? ' কা তব কান্তা, কস্য পুত্র' এটাতো জানেন আর মানেনও নিশ্চয় । কেউ কাউরির নয়, এ যে জীবনের মোক্ষম সত্য। তাই মন মিছে কর কেন প্রবঞ্চনা? আমি বলি কাজ কি এতসব ব্যায়ামের।  দরকার কি এতসব মনে রাখার।  আলঝাইমার্স না হোক ডিমনেশিয়া হয়ে সব ভুলে গেলেই  মন্দ তো নয় । এখন এ সংসারে আপনি বাড়তি আসবাব ছাড়া আর কিছু তো নন।

তাই ভুল যান সবকুছ,
 তারপর বেরিয়ে পরুন এই মায়ার গন্ডী ফেলে। পেছন ফিরে যদি তাকান তবে দেখবেন আপনার পেছন পেছন আসছে পাড়ার কটা নেংটি কুকুর মাত্র। ছেলে, বউ কেউ নয়। বড়রাস্তা পর্যন্ত পৌছে দেবে তারা আপনাকে। যদি কেউ থেকেও যাই আপনার সাথে তাহলে জানবেন  সে সাক্ষাৎ ধর্মরাজ, কুকুরের ছদ্মবেশে। আপনার এসকর্ট হয়ে চলবে একদম অমরাবতীর দোরগোড়া পর্যন্ত। তাই আজ থেকে যদিও ভুলেও যান কিছু, চিন্তা করবেন না, আরো বেশী করে ভুলুন। তাহলে পাখোয়াজ বাজিয়ে আর গাইতে হবে না, ' শেষের সে দিন ভয়ংকর। '

ক্যা আয়া বাত সমঝমে? 😀😁😀



Wednesday, 24 April 2019

ভবানীদার গপ্প

ভবানীদার গপ্প

কত বছরই বা হবে। আমাদের বয়স তখন ১৪/১৫,  তার বেশী নয়। এমন কিছু আগের নয়। আসলে এখন ৫৩/৫৪ বছর সময় আমার কাছে কোন সময়ই নয়। নেহাৎই কালকের কথা। সময়ের হিসেব একেবারে পালটে গেছে। আর পালটানোর আসল হোতা হচ্ছে ছোটকা। ছোটকা কিন্তু আমার কাকা বা জ্যাঠা কেউ নয়। ছোটকা আমাদের ফ্যামিলির সবচেয়ে ছোট সদস্য। তাই আমার কাছে কখনও ও ছোটকা, কখনও বা টুটুম। ওর আর একটা নাম আছে যেটা আমার এক্কেবারে পছন্দ নয়। আর সেইজন্য সেটা নিয়ে আমি পাঁচ কান করতেও চাইনা। তবে যা বলছিলাম ৫০/৫৫ বছর কেন আমার কাছে, কোন সময়ই নয়? কারণ আমার সাথে টুটুমের যা কিছু গপ্পসপ্প, সব আলোকবর্ষের হিসেবে।  এই মহাবিশ্ব নিয়ে ওর ভারী আকর্ষণ। রাত্রে ও আমার পাশে শুয়ে ওর প্রশ্নের ঝাঁপি খুলে বসে।আর ওর সব কিছু প্রশ্নই এই আকাশ  আর বিশাল মহাবিশ্ব ঘিরে। ও ওর দাদুকে ভাবে ভারী পন্ডিত গোছের কিছু।তাই আমাকেও ওর প্রশ্নের উত্তর নিয়ে তৈরি থাকতে হয়। চন্দ্র, সূর্য্য, তারা শুধু নয়। ওর আকর্ষণ আরো গভীরে।  নোভা,সুপারনোভা, নিউট্রন, নেবুলা আর এখন শুধু ব্ল্যাকহোল।  আর এ সবের মূলে কিন্তু ইউটিউব। কম্পিউটারের পর্দায় ওর দেখার বিষয় হল এই সব মহাজাগতিক বিষয়। ওটা নিয়ে ওর ভয় ও ভাবনা দুটোই আছে। ব্ল্যাকহোল কতদুরে? সব আলোকবর্ষের হিসেব। কত মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে সেটা বুঝতে, বোঝাতে আমার ভারী মাথা খাটাতে হয়। তবে আমরা দুজনেই একসময় পৌঁছে যায় ব্ল্যাকহোলের দোরগোড়ায়। ওর ভারী ভয়, ওর দাদু যেন হারিয়ে না যায় ব্ল্যাকহোলের অতল গভীরে। আমি বোঝায় ভয় কিসের, ব্ল্যাকহোল দিয়ে ঢুকে ঠিক বেরিয়ে আসব হোয়াইট হোল দিয়ে।  জীবনও তো তাই। জীবনের অজস্র ফুটোফোটার ব্লাকহোল পেরিয়ে বাঁচবার পন্থা নিশ্চয়ই আছে। শুধু পথটা চিনে নেওয়া চাই। হোয়াইট হোল তো আমাদের সবারই অপেক্ষায়।

বলতে যাচ্ছিলাম আমাদের নবাব বাহাদুর স্কুলের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট ভবানীদার কথা, চলে এলাম বহুদুরে। তবে এ পথ পেরোতে আমার সময় লাগবে না মোটেই।  কল্পনার দৌড় থাকলে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের ভারী হাত ধরাধরি ভাব। তাহলে শুরু করি? সে একটা দুষ্টু মিষ্টি গল্প। ভবানীদা ছিলেন আমাদের কেমিষ্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট।  আর আমার বয়সী ছেলেদের হাত দেখতে তার বেশ আগ্রহ। বেশি কিছু লাগত না। স্কুল ক্যানটিনে একটা চা, বিস্কুট খাওয়ালেই ভবানীদা ভারী মনোযোগ সহকারে  আমাদের হাত নিয়ে বসে পরতেন তা নিরিক্ষন করতে। আর আমাদের বয়সী ছেলেদের মনের গতি প্রকৃতি তার ভারী জানা। বিড়িতে একটা লম্বা টান দিয়ে বলতেন, 'বুঝলে নিলু, একজন তোমাকে খুব পছন্দ করে।" ১৫ বছরের নবীন হার্টও সে অচেনা ত্রয়োদশী বা চতুর্দশীর সম্ভাবনায় ধড়ফড় করে ওঠে। ' স্কুলে আসার পথে দেখবে তো ভাল করে, একটা বিনু দোলানো মিষ্টি মেয়ে তোমার দিকে আড়চোখে তাকায় কিনা?' যদি তাকায় তবে জানবে ওই সেই মেয়ে। আতিপাতি করে খুঁজে ফিরি? কে সেই মেয়ে। ডলি,মঞ্জু, চায়না?  কে সে? সেটা যে আড়চোখে তাকিয়েই জীবন নদীতে অবগাহনের সময়।  সেই অবগাহন আজও তো শেষ হয়নি। যদিও জানি, ব্ল্যাকহোলের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছি তবুও হোয়াইট হোলের রাস্তাওতো আমার জানা৷ ঠিক পৌঁছে যাব জানি একদিন। 

Friday, 19 April 2019

এলোমেলো কথা

 এলোমেলো কথা

বলছি বটে আমার কথা। কিন্তু আদপে আমার কোন কথাই নেই৷ ফেসবুকে ইদানিং দুচার কথা লিখে ফেলি। কিন্তু সেগুলো শুধুই কথার কথা। সেসব কথার কোন মানে নেই,মুল্যও নেই। আমার কিছু কাছের জন আছে যারা দূরে হলেও আমায় ঠিক মনে রাখে মানে মনের মধ্যেই রাখে। তারা আমার এই সব বেচাল কথায় ভারী বিমর্ষ হয়। এই কদিন আগে লিখেছিলুম ইতালির এক আঙুরবাগানের সুন্দরীর কথা যার সাথে আমার দেখা হওয়ার কথা ছিল প্রেম হওয়ারও ছিল,কিন্তু সেটা আর ঘটেনি৷ বাংলা ব্যাকরণে কি সব কথা আছে না 'ঘটনাম অতীত',  আমারটা সেইরকমই অনেকটা। তবে আমার ক্ষেত্রে সেটা অঘটনাম। মানে ঘটা উচিৎ ছিল কিন্তু ঘটলনা। কি আর করা যাবে। আসলে মনের মধ্যে কতরকম ছবি ফুটে ওঠে কেউ কেউ মনে রাখে কেউ উড়িয়ে দেয় ফুৎকারে।  এসব ব্যাপারে আমি ভীষণ সঞ্চয়ী। মনের এই সব ফুলগুলোকে তরতাজা করে রাখি। মাঝে মাঝে তার সুবাস,সৌন্দর্য দুলিয়ে দিয়ে যায়। আর সেই দোলার ভাগ আপনাদেরও দিতে চাই। আর তাতেই কেউ কেউ মনক্ষুন্ন হয় বলে এত বয়স হল তবু্ও অশোকের জ্ঞানগম্যি হল না।
সত্যিই তো বয়স হয়তো অনেক হলো। কবে পেরিয়েছি তিনকুড়ি। তিনকুড়ির কথায় মনে পড়ল আমাদের ছোটবেলায় দেখেছি গাঁ গঞ্জের অনেকেই কুড়ির বেশি গুণতে পারত না। তাদের সব হিসেবই, কুড়ির গুণিতকে। যেমন তিনকুড়ি দশ,পাঁচ ইত্যাদি ।  এইরকম হিসেব। আমিও  সেরকমই একজন অজ্ঞানী।  আমার সব কুড়ির হিসেব। জ্ঞানী লোকেদের অনেক চোখ। চারিদিকে তাদের ক্ষর দৃষ্টি।  তারা অনেক দূর অনেক গভীরে দেখে । আমি কিন্তু মায়োপিকের দলে। বেশী দূরে দেখি না। আসলে আমি কুড়ির বাইরে বেরোতে চাই না। কুড়িই আমার জন্য যথেষ্ট। এর বেশি হলে সত্যি সত্যিই আমি বুড়িয়ে যাব। আর কেই বা বুড়ো হতে চাই। ওই জন্যই আমার পিঠে বেধেছি কুলো, কানে দিয়েছি তুলো। যে যাই বলুক আমি এইরকমই। আসলে বলছিলাম না মনের মধ্যে অনেক ছবি আঁকা হয় যা থেকেই যায়, মোছে না কিছুতেই। রবি ঠাকুরের ছিন্নপত্রের এক লেখায় এইরকম ইতালির এক আঙুরবাগান আর কিছু তরুণীর কথা পড়েছিলাম । সে ছবি কখন যেন আমার মনের মধ্যে ঢুকে গেছে আর আমিও সেই ছবির একজন হয়ে গেছি। আর তা নিয়েই যত অঘটন। রমেশ বলল এই বয়সে বউকে জড়িয়েই বেঁচে থাকা আর আমার এক তরুণী বান্ধবী বলল, যান তবে আঙুরবালার খোঁজে। খোঁজ?  সত্যিই এক গভীর কথা। আমরা কে যে কি খুঁজি তা কেই বা জানে। তবু চলা থেমে থাকে না। থেমে যাওয়া নেই আর থেমে গেলেই যে গভীর গহন অন্ধকার।  তাই চলতেই থাকুন। শত শত আলোকবর্ষ পেরিয়ে যান। এ চলার যেন শেষ না হয়।

পুনশ্চঃ ঘুম আসছিল না, তাই টাইম পাস করছিলাম। এখন ভোর হয়ে আসছে, উঠে পড়ুন,সামনে নতুন দিন। আমি এখন ঘুমোই। 

Sunday, 7 April 2019

হঠাৎ সফর সঙ্গে হামসফর।














হঠাৎ সফর সঙ্গে হামসফর।
হটাৎ শান্তিনিকেতন যেতে হয়েছিল। হটাৎই। কারন বলা নেই, কওয়া নেই। কুন্তলা ধরে বসল, শান্তিনিকেতন যেতে হবে। এবং কালকেই। কারণ? কারণ, কলাভবনের শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে, কলাভবন নন্দনে বিনোদবিহারী মুখার্জীর ছবির প্রদর্শনী চলছে এবং তা প্রায় শেষের মুখে।
কুন্তলা আমার বিয়ে করা বৌ, তাই অনেকদিন একসাথে আছি। হটাৎ করে না বলতে পারি নে। যদিও আমি শিল্পী, শিল্পরসিক বা শিল্পবোদ্ধা কোনটাই নই। ছিলামও না কোনদিন। হবার ইচ্ছেও নেই। তবুও যেতে হবেই। কারন কুন্তলার ওসবে ভারী সখ। ওর রুটি রোজগারও ওই শিল্প বেচেই। কথাটা খারাপ শোনাচ্ছে না? শিল্প কি বেচার জিনিষ। মহৎ অর্থে হয়ত নয়। তবে আজকাল সারা সংসার জুড়েই তো শুধুই বেচাকানা। শিল্পীরা দোকানদার হলেই বা ক্ষতি কি? তবে মহৎ শিল্পী বা কালোত্তীর্ণ অনেকেই তো আছেন, যাদের ছবি হয়ত তাদের জীবদ্দশায় তত বিকোয়নি কিন্তু আজ লক্ষ লক্ষ ডলার তার দাম। আমার গগ্যার কথায় মনে আসে। কি অসাধারণ প্রতিভা। কিন্তু চরম পাগলামি আর ততোধিক দারিদ্র। সমাজ সংসার ছেড়ে, নিরাপদ জীবন ফেলে, তাহিতি কন্যাদের মধ্যে জীবন যাপন। ছবি আঁকা আর তাহিতি কন্যাদের সঙ্গে 'Sex under the mango grove' Oh,what a life.
.ছবি বুঝি চাই না বুঝি। এইরকম একটা জীবনের সাধ আমারো ছিল। এখন বুঝি তা আর সম্ভব নয়। অগত্যা শান্তিনিকেতনই সই। পল গঁগ্যা কে নিয়ে সম্ভব হলে কুরোসাওয়ার একটা ছবি আছে, পারলে দেখবেন। ছবিটার নাম 'Dream'. অনেকগুলো সর্ট ফিল্মের কম্পোজিশন। খুব ভাল লাগবে। আমার একজন প্রিয় সাহিত্যিক সসমারসেট মম। মমও গঁগ্যার আকর্ষন কাটাতে পারেননি। ওকে নিয়ে আস্ত একটা উপন্যাসই লিখে ফেলেছেন। বলুন তো কোনটা? ' The moon and the sixpense'. এর নায়ক চার্লস স্টিকল্যান্ড, শেয়ার মার্কেটের দালাল। গঁগ্যার আদলে গড়া। হঠাৎই তার মনে হল, I am destined to be an artist. আর তিনি সব ছেড়েছুড়ে চললেন তাহিতি দ্বীপে। এইরকম ইচ্ছে আমার অনেকবারই হয়েছে। অবশ্য শিল্পী হতে নয়। ধরূণ ভুপর্যটক হতে। কিন্তু 'Escape velocity' জোগাড় করতে পারিনি। বাঙ্গালির ছাতির জোর বড়ই কম। এই ভুপর্যটক হবার লোভ আমার রাশিয়ান গল্প/উপন্যাস পড়ে। বেলেকিনের একটা গল্প ছিল এক ভবঘুরে ছেলের এক অজানা শহরের মেয়ের প্রেমে পরার। সে প্রেম অবশ্য পরিণতি পায়নি। সেই থেকে আমার মনের মধ্যে দানা বেঁধে আছে একটুকরো লোভ, এক মেমসাহেবকে বিয়ে। সে তো আর এই জন্মে হল না মশাই। এখন এই দিশি কালো মেমসাহেবকে নিয়ে রওনা দিই বিনোদ বিহারীর সন্ধানে।
এবার আসল কথায় ফিরি। শান্তিনিকেতন তো পৌছে গেলাম। আর শান্তিনিকেতন আরামে ঘুরতে হলে টোটোর কোন বিকল্প নেই। পৌছে গেলাম নন্দন, কলাভবনে। বিনোদবিহারীকে অল্পবিস্তর আপনারা সবাই তো জানেন। কলাভবনের শিক্ষক ছিলেন কিছুকাল। রামকিংকর, মানিদা, মুজতুবা আলি এরা সব একবাগানের ফুল ছিলেন। আপনারা যতটুকু জানেন এদের সমন্ধে, আমি তার থেকে বেশী কিছুই জানিনা। বিনোদবিহারী সম্মন্ধে আমি প্রথম জানতে পারি, সত্যজিৎ রায়ের একটি ডকুমেন্টারি থেকে, 'The inner eye'. সে বোধহয় আশির দশকের প্রথম দিকে। ওনার দৃষ্টি খুব ক্ষীণ ছিল। পরে তো অন্ধই হয়ে যান। তা সত্বেও অদ্ভুত সব ছবি একে গেছেন।
সেইসব ছবির ছবি তোলা বারণ। তাও আমি লুকিয়ে চুরিয়ে স্রেফ আপনাদের জন্যই কিছু ছবি তুলে এনেছি । এই নন্দনে কলাভবনের পঞ্চকন্যার এক প্রদর্শনী চলছিল। তারও কিছু ছবি দিলাম। এইসব ছবি যদি আপনাদের ভাল লাগে, তবেই আমার এই চুরি করা সার্থক। আমার এই মহাপাপের ভাগীদার হবেন তো? না আমাকে আবার বাল্মীকির মতই ডিচ করবেন?