Saturday, 1 June 2019

শনিবারের বারবেলায়।

সাতজন্ম হেঁদুর ছেলে।  বারবেলা মানব না, তাও কি হয়। যতই বামঘেষা হয়, আদতে তো সাতপুরুষের ধম্মকম্ম ছেড়ে বেরোতে পারিনে মোটেই।  তাই বারোটাও নয় সব পালাপাব্বন চুকিয়ে বেরোলেম সেই ৫/৫-৩০ টাতেই। অভিলাষ,  ঠিক পৌঁছে যাবই সাড়ে ছটায়। আমার সময় জ্ঞান বড় টনটনে।  এক মিনিট এদিক ওদিক হয় না৷ কিন্তু আজ ভাসাবার বদলে ডোবাল সেই ওলায়। ৪ মিনিটে পৌঁছবে বলে সেই যে সে ডুব দেল, তাপ্পরে তার হদিশ পাই নে মোটেই। হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করে শেষে পোঁছুলুম রোয়িং ক্লাবের দৌড় গোড়ায় পাক্কা আধ ঘন্টা দেরিতে।  রেলের দৌড় হলে কিছুই যেত আসত না৷ তবে এখানে দেরিতে আসা মানেই এক রাঊন্ড মিস। তবে আমিও ছোড়নে বালা পাত্তর নয়। ওই যে কথায় আছে না, ' চৌধুরীর পো -- -- খায় চোঁ-চোঁ।  তো আমিও কিছু কম চৌধুরী নয় পোঁ পোঁ করে এক দৌড়ে সব মেক আপ করে দিলুম।

এটুকু পড়েই আপনারা কি  জানি  কি ভাবছেন।  আসলে আমাদের ছোট্ট একটা গেট্টু ছিল আজ ক্যালকাটা রোয়িং ক্লাবে। আমি, বলরাম,  কুন্তলা, রেখা আর সুজিত।  আসলে সুজিত এমন একজন, যাকে বাদ দিয়ে কিছু হলেই শিবহীন যজ্ঞ হয়ে যায়। তাই সুজিতকে সামনে রেখেই আমাদের এই ছোট্ট আসর। ভারি ভব্যসভ্য এক ঘরোয়া আসর। প্রায় সবাই সফট আর কফি নিয়েই অজস্র কথা বলে গেল। আমি আর ভাই বলরামই শুধু গন্ডী পেরোলাম। একে যদি আপনার বলেন পেঁচোয় পাওয়া, তবে তাই৷  আমাদের তাতে বয়েই গেল।

Sunday, 26 May 2019

অনেকদিন পরে আজ স্বপনের কথা মনে পরল। প্রায় বছর ত্রিশেক হবে। আমাদের বাজারে ওর খাঁসীর মাংসের দোকান ছিল। কত আর বয়েস? ৩০/৩৫ । একেবারে খাট্টা মাট্টা জোয়ান ছেলে। আর খদ্দেরদের সাথে ওর ভারী ভাব ভালবাসা ছিল। অনেকে বাকিতেও নিত ওর থেকে। মাংসেরও মাসকাবারী, আর কি। তখন আমাদের এই পাড়ায় অনেক বাঙালী ছিল। এত ইউপি আর রাজস্থানের লোক আসেনি। রোববারের বাজারে মাংসের দোকানে লম্বা লাইন পরে যেত। গোটা ত্রিশেক খাসি তো সেদিন বিকোতোই স্বপনের দোকান থেকে। ভাল ব্যাবসা ছিল।
স্বপনকে মাঝে মাঝে দেখতাম বিকেলবেলায় বউ, ছেলে নিয়ে বাইকে চেপে ঘুরতে। ভারী সুখী সুখী ভাব। দেখে ভাল লাগত। বউয়ের চেহারা আবঝা মনে আছে। মিষ্টি চেহারা তৃপ্ত মুখ। স্বপনকে নিয়েই খুশি ছিল খুব। আর বাচ্চাটা ২/৩ বছর। কপালে কাজলের টিপ,দুচোখে মোটা করে কাজল লাগানো। ভারী আত্মতৃপ্ত একটা পরিবার। ছোট পরিবার, সুখী পরিবারের এক পারফেক্ট ছবি।
এক রোববার বাজারে গেছি। লম্বা লাইন, সারি সারি খাসি ঝোলান। স্বপন বলল, মেজদা, তুমি পাশে দাড়াও। তোমাকে আমি আলাদা করে দিচ্ছি। ও জানত আমার কি পছন্দ। রাং,চাপ আর মেটে ওই আলাদা করে রাখত। তো দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি অনেক দোকানীই দৌড়াদৌড়ি করছে। সরকারি অফিসারেরা এসেছেন ওজনের বাটখারা চেক রাখতে। স্বপন লাফ দিয়ে সব বাটখারা লুঙ্গির কোচরে ভরে দৌড় লাগাল। বেশীদূর যেতে পারল না। হুমড়ি খেয়ে পরল। সব বাটখারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরল। স্বপনের কি হল? স্বপনের স্বপ্নের শেষ হল। স্বপন পরেই মরে গেল। আর হুকে লাগানো খাসীগুলো দুলতেই থাকল। আর মৃত স্বপন বিস্ফারিত চোখে চেয়ে রইল আকাশের দিকে। কারও কাছে কি কোন ফরিয়াদ জানাল? জানি না।
স্বপনের ছেলে বউকে আর দেখিনি। মাঝে মাঝে মনে হত ওর ছেলে বৌএর কি হল? আজও সেইরকমই মনে হল। ওর কাছে যারা বাকীতে নিত, তারা কি টাকা দিয়েছিল ওর বৌকে? ছেলেটার কি হল? আজ তাদের দেখলেও চিনতে পারব না। তবে স্বপনের কথা মনে পরলে আজও বুকের মধ্যে চিনচিন করে ওঠে।

Saturday, 25 May 2019

হঠাৎ বৃষ্টি সঙ্গে সিঙ্গারা

আমাদের এই ফুলবাগান অঞ্চলে যমুনার সিঙ্গারার ভারী নামডাক। পরতে পায় না। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই চাঙারি ভরা সিঙারা সাফ। এ কিন্তু হলদিরামি সিঙ্গারা নয়। বাঙালী সিঙারা। বাঙালির মতই ছোটখাটো গড়ন। কিন্ত ভারি মিষ্টি স্বভাবের।

তবে, ডালডায় ভাজা। ডালডা শুনে নাক কুঁচকোবেন না। ডালডায় ভাজার একটা আলাদা স্বোয়াদ আছে, সেটা কি মনে আছে? মনে না থাকলে একদিন খেয়ে দেখুন। ভারী আলাদা রকম।
একটা কামড় মাললেই এর খাস্তা স্বাদ মন কেড়ে নেবে। ভেতরে মিষ্টি মিষ্টি তরকারি আর ছোট্ট এক টুকরো বাদাম। খেতে খেতে মনে হবে সারা শরীর মন  যেন সুরবাহার হয়ে ঝরে পরছে।

আজ আখড়ায় যাইনি। বাড়িতেই হাফ আখড়াই করে নিয়েছি।  এ কিন্তু কালোয়াতি আখড়াই নয়। যোগা মানে বিশুদ্ধ যোগাভ্যাস। এমন দিন কি গেছে,যেদিন আমি যোগভ্রষ্ট হয়েছি? বোধহয় নয়।  আখড়ায় না যাওয়াতে হাতে সময় এসে গেল কিছু। হাঁটতে বেড়ুলুম। ইচ্ছে ছিল ফুচকা খাবার, ফুচকায় ভারী পেট পরিস্কার হয়। এটা নিশ্চয়ই জানা। না? তাহলে এখন তো জানলেন। অসুবিধে হলে ফুচকাওয়ালা ডাকবেন, ঠিক কাজ দেবে। কিন্তু, ফুচকাই আজ ভারী ভিড়। ফুচকাওয়ালা সবসময়ই নারী বেষ্টিত হয়ে থাকে। কাছে যাবার ফাঁকফোকর পেলেম না।

তবে  আজ মনে একটা ক্ষীণ প্ররোচনা কাজ করছিল। সুদীপদার চিটিং ডের মতো কিছু একটা  করে ফেলি? ডায়েটিশিয়ানের মেনু  ঢের মেনে চলেছি  গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে। একটা দিন চিটিং, সেতো আমার হকের পাওনা। জীবনে যদি একটু আধটু চিটিং না থাকে তাহলে জীবনের রঙ রুপ বড় ফিকে হয়ে যায়। তাই পেয়েই গেলাম তাকে মানে যমুনার সিঙারাকে। আর তাকে হস্তগত করেই হাঁটা দিলুম ।  মনে বড় সাধ আজ দিদির পাতা আসনে বসে এর সদগতি করব। এর মধ্যেই এল বৃষ্টি, বসা না হলেও হালকা বৃষ্টির ছাটে সারা শরীর মন স্নিগ্ধ করে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই আজ আমার চিটিং এর প্রথম হাতেখড়ি হল।

Wednesday, 22 May 2019

ভূত না-ভূতের গপ্প


আপনারা কেউ কি ভূতে বিশ্বাস করেন বা ভগবানে? আসলে বিশ্বাস আছে বললেই যে তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে দশ বিশটা কারণ দেখাতে হবে তা নয়।  আসলে বিশ্বাস আছে বললেই হবে। কিউ কি, বিশ্বাসটা আমাদের ভীষণ প্রেয়োজন😁। কারণ এই বিশ্বাস না থাকলে আমি,আপনি কোন দমকা হাওয়ায় উড়ে গিয়ে কোন কৃষ্ণ গহবরের ভেতর সেঁধিয়ে যাব সে কোন শর্মাই বলতে পারবে না। তাই ভয়ে বা ভক্তি যাই হোক, বিশ্বেস ভারী জরুরী আর উপকারীও।

আমার আবার ভূত আর ভগবান দুটোতেই ভারী ভক্তি। ভগবান কে দেখিনি ঠিকই কিন্তু লক্ষ কোটি মানুষের বিশ্বাসে, শ্রদ্ধায় তার অস্তিত্বের একটা আভাস তো পাওয়া যায়। বৈষ্ণোদেবীতে যখন গিয়েছি দেখি একই রাস্তায় হাজারো মানুষের ভীড়।  তারা সবাই যে শক্তসবল তাও নয়। তবু কি এক বিশ্বাস তাদের টেনে নিয়ে চলেছে শিখরের দিকে। তারা শেষে কি পেল জানি না? বেদীতে বসান  বৈষ্ণোদেবীর তিন টুকরো পাথর আমার বিশ্বাসের নিক্তিতে স্থান পায়নি ঠিকই কিন্তু আসার পথে শত সহস্র মানুষের যে বিশ্বাসের রুপ আমি দেখেছি তাকে উড়িয়ে দেব এমন সাধ্যি আমার নেই। শুধু যে তীর্থস্থানেই ভগবানের দেখা মেলে তা কিন্তু নয়। পথে বেরোলেই তার দেখা মেলে। আজকেই সুফি সাধক রুমির একটা লেখা চোখে পরল।
ভ্রমণে  বেরোলেই তুমি পাবে শক্তি আর ভালোবাসা। আর ভালবাসাই তো ভগবান। আমার ভগবান আমার এই দেশ,এই পৃথিবী আর তার লক্ষকোটি মানুষ। এই ভগবানের দেখা মেলে চলার পথে, চেনা অচেনার ভিড়ে।

আর ভূতেও আমার ভারী বিশ্বেস আর ভালোবাসাও।সেই কবে ডিকেন্সের " ক্রিশমাশ ক্যারল' এর সেই উপকারী ভূতকে ভালোবেসে ফেলেছিলুম,সেই ভালবাসা সময়ের সাথে সাথে গাড় হয়েছে  কিন্তু একটুও ম্লান হয়নি, দ্যুতি ছড়িয়েই চলেছে। এ ভূতেদের আমি দেখেছি, আমার ছোটবেলা জুড়ে জড়িয়ে আছে তারা। আমার ছোটবেলা কেটেছে জিয়াগঞ্জের ভট্ট পাড়ায়। আমাদের বন্ধু, পাঠ ভবনের অনিরুদ্ধ, তার দেশের বাড়ি এই ভট্টপাড়ায়। তো এখানের ভূত বলুন বা অশরীরী, তারা কিন্তু ভারী মানুষ ঘেষা। সন্ধ্যে হতেই তারা আমাদের সঙ্গী হত। ঘরে, বাইরে, আবছা আলোর ঝাপসা অন্ধকারে তাদের উপস্থিতি  বেশ ভরসা যোগাত আমাদের। এবার বহুবছর পরে জিয়াগঞ্জে গিয়ে তাদের আর দেখা পেলুম না। আমাদের পুরনো শ্যাওলা ধরা বাড়ির জায়গায় মাল্টিস্টোরিড ফ্ল্যাট বাড়ি। তারা আর নেই।  সেইসব ভূতেরা বোধহয় আমার ছোটবেলার মতই হারিয়ে গেছে। আর ফিরে আসবে না।


Friday, 17 May 2019

আম আর হাম

আম আর আমি এ কি আজকের সম্পর্ক? যদি বলি যুগ যুগান্তের তাহলেও কম বলা হবে। মুর্শিদাবাদ যখন মুকসুদাবাদ ছিল, কি তারো আগে থেকে, তবে তা মিথ্যাবচন হবে না অতি অবশ্যই।  আসলে আমরা মানে আমার পুর্বপুরুষেরা সেই কবে থেকেই গেঁড়ে বসে আছি এই মুর্শিদাবাদেই,  তা খোদাই মালুম। আমি,আমার দাদু তার দাদু তার পরদাদার সবারি এই চৌহদ্দির মধ্যেই যত আনাগোনা, কান্ডকারখানা ইত্যাদি ইত্যাদি।  তার আগে কোথায় ছিলুম,  সেটাতে আপনাদের মত আমারও ভারী কৌতুহল।  ভেবে চিন্তা আমি একটা কিছু খুজে পেয়েছি,রিসার্চ ওয়ার্কও বলা যায়। মানে আমাদের বিরাদরীর পুরনো দিনের নিশান বলুন, চাই সাকিন। সবাইতো জানেন আমাদের আদি মাতার ঠেক ছিল আফ্রিকা।  আমার আপনার সবার। সে অর্থে আমি আপনি কিন্তু তুতো-ভাই।  কি দারুণ, না? এটা কিন্তু বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে। মানে পুরো সায়েন্টিফিক।  আর সাইন্সে কার না আস্থা। বিশ্বাস এক নেই আইসিস জঙ্গীদের।  আপনি নিশ্চয়ই তা নন। এটুকু বিশ্বেস আপনাকে করতেই পারি। তো যাই হোক আফ্রিকার পর আপনি কোন মুল্লুকের বাসিন্দা হলেন, তা আমার জানার দরকার নেই। শুধু নিজেরটাই বলি। আমরা আসলে মিশরের বাসিন্দা। মিশরের ফারাওদের চেনেন তো?  আমরা আসলে সেই ফারাওদের উত্তরপুরুষ। রা বংশের রামেশিস, তুতেনখামুন এদের নিশ্চয়ই চেনাতে হবে না। এরা সবই হামলোগ মানে আমাদেরই লোক৷ আজ যা দেখছেন, পিরামিড, স্ফিংক্স এ সবই আমাদের বুজর্গদেরই বানানো।  এরপর? এরপর আর কি? দেশছাড়া রোমানদের অত্যাচারে। এন্টনি না কে যেন আমাদের ঘরের মেয়ে  ক্লিওপেট্রাকে ইলোপ করে নে গেল তখন আর সহ্য হলনি, দেশছাড়া হলুম। এখন এই ভারতবর্ষই আমার দেশ। পুরনো পরিচয় সব ঝেড়ে ফেলেছি।  কবে রাজা উজীর ছিলুম সে সব ভেবে আর লাভ কি বলুন? আমিও আপনাদের মতই একজন আম আদমি।

যাকগে, হচ্ছিল আমের কথা চলে গেলাম মিশরে। মিশরে কি আম পাওয়া যায়? কে জানে? আসলে এমনিতেই আমার এখন ভুলোমনে ধরেছে, তাতে পাঁচহাজার বছর আগের কথা কেমনে রাখি মনে? তবে আম বটে আমাদের মুর্শিদাবাদের। সত্যি বলতে কি আমের রাজধানী।  এইরকম জাত আম আর কোথায় হয়,কে জানে? আর কি স্বোয়াদ আর সূরভী সেইসব আমের। ইন্দ্রলোকের অমৃতসম সুরা ফেলে পাবলিক লুফে নেবে এইসব আমকে। আর রাজসিক তাদের চেহারা আর চলন। নবাব পসন্দ, বেগম পসন্দ, ক্ষিরসাপাতি, হিমসাগর,আনারস,সাদুল্লা, মধুচুসকী আরও হাজারো রকম। কোহিতুর আম কি খেয়েছেন? খাননি তো? এ আমের গাছ আমাদের ছোটবেলায় নবাবের বাগানে একটাই ছিল। আর সে আম একবার এসেছিল বাড়িতে একাই মানে একটাই।  তুলোর বিছানায় তার স্থান হল। আর তার খুসবাই আর স্বাদ? 'ও শোভানাল্লা'। ব্রম্ম কেমন বলতে পারবেন? না তো।  কোহিতুরের স্বাদ সেরকমই। এর কাছাকাছি হয়ত কোহিনূরই যেতে পারে এর ঝলকানিতে।

আমার আমে খড়ি সেই হামাগুড়ির বয়স থেকেই। আসলে আমাদের সময় তো আমের হিসেব ওজনে ছিলনা। ছিল শতকে  আর সেই অঙ্কও ছিল ভারী ভুলভাল। আমের হিসেব যদি অঙ্কের খাতায় মেনে চলেন, তাহলে আপনার কপালে মিলবে শূন্য। একটু নরম স্বভাবের স্যার হলে হয়ত শূন্যের বদলে একটা ক্ষিরসাপাতি আমও একে দিতে পারেন। তো যা বলছিলাম আম কেনা হতো শয়ের হিসেবে।  বাবা কিনতেন, লালবাগের আস্তাবল বাজার থেকে। আর সেই আম কাঁচাপাকা অবস্থায় স্থান পেত চৌকির তলে আমের পাতার শয্যায়।  আর হামাগুড়ি দিয়ে আমরা সেই চৌকির তলায়। বলছিলাম না বড় হয়েও হামাগুড়ি দেওয়ার অভ্যেস যায়নি। আর আজও ছোট হয়ে থাকার এই একটাই কারণ। বড় বয়স পর্যন্ত হামাগুড়ি দেওয়া। তবে এই বয়সে আর হামাগুড়ি দেবার চেষ্টা করবেন না। তাতে হয়ত হাঁটুর খিলই খুলে যাবে আপনার। ডাক্তারবদ্যি হাজারো ঝকমারি, ভারী অশৈলী ব্যাপার হয়ে যাবে।

তো এখন যদি বলি আমি আম ছেড়ে দিয়েছি, কেউ বিশ্বেস করবে না। কিন্তু বিশ্বাস করুন সত্যিসত্যিই ছেড়ে দিয়েছি। আমি এখন ডায়েটিশিয়ানেই মন দিয়েছি। অবশ্য তিনি আমের মত না হলেও বেশ স্মার্ট এন্ড স্লিম  একজন সুন্দরী।  আর কে না জানে ডায়েটিশিয়ানরা কন্যেই হন আর সুন্দরীও। আমি এখন ডায়েটিশিয়ানেই মজে আছি। আম না লেঙ্গে হাম। তাতে আমার শরীরের  শর্করারা বিধুমুখী থেকে নতমুখী হয়েছে। এর জন্য আমার এখন হরিষে বিষাদ।  এতদিনের সঙ্গী আমার আম তাকে কি ছেড়ে দেব? একদিনের জন্য হলেও আম হবে আমার সঙ্গীনি, সে মধুচুসকীই  হোক চাই (হিম) সাগর। আর আমার কাছে এখন 'সব সাগর বারবার, হিমসাগর একবার "! যেদিন সাগরে এসে মিলব, সেদিনের ছবি নিশ্চয়ই দেব ফেবুর পাতা জুড়ে।

Tuesday, 14 May 2019

অর্ধেক জীবন

আজ সকালে অনেকক্ষণ ধ্যানে বসেছিলুম।  রোজই বসি। আজ বসেছিলাম  দীর্ঘ ক্ষন। কোন গুরু নয়, নেই কোন দেবদেবী।  নেহাৎই শূন্যের ধ্যান। হয়ত শুনে অনেকেরই অবাক লাগবে। এ আবার হয় নাকি? অয় অয়   zIনতি পার না। আসলে সবই তো শূন্য দিয়ে শুরু।  আর শূন্যতেই শেষ। এই শুন্যের সাথে যদি আপনার একটু ইয়ারদোস্তি হয় তাহলে দেখবেন আপনাকে আর কেউ ডরপুক আদমি বলবে না।  আসলে আমাদের যত ভয় সব তো এই শূন্যকে ঘিরেই। তাই যখন শূন্যের পিঠে চেপে দোল খাবেন, দেখবেন ভয়ের সাগর আপনি কখন পেরিয়ে মহানন্দে মহাকাশের দোলনায় দোল খাচ্ছেন।  অনেকটাই সেইরকম। তো আজ সকালের শূন্যফল হল ভারী জবরদস্ত। তনমন সব সাফ। একটু গোদা উদাহরণ দিই। ধরুন কোন এক কোষ্টকাঠিন্যে ক্লীষ্ঠ বাঙালী বাবু, কোন এক ' আজি এ প্রভাতে রবির করের মত..." দীর্ঘ দিনের ক্লেদমুক্ত হলে, তার মধ্যে যেমন একটা দিব্য অনুভূতি জাগে তার থেকেও দিব্যতর এক অনুভূতির রাজ্যে আপনার প্রবেশাধিকার ঘটবে। তাই বন্ধু,অবন্ধু সবাইকে আমার আমন্ত্রণ এই শূন্য রাজ্যে। সুনীলের দিকশূন্যপুর তো সবাই পড়েছেন, এ তারও গভীর গহনে। যেতে গেলে চাই ধৈর্য আর এক চামচে সাহস। শরীর শূন্য,মন শূন্য,ভয়শূন্য ভারী এক চমকদার অবস্থা। স্পেশ ষ্টেশনের মহাকাশচারীদের তো দেখেছেন, কেমন ভেসে ভেসে বেড়ায়। সেইরকমই হবে আপনার এই শুন্য সফর। শুরু করুন নেতি নেতি দিয়েই। মায়া শূন্য, মমতা শুন্য, দেহ শূন্য আরো আরো এগিয়ে যান। দেখবেন আলোয় আলোয় ভরা। কোন অন্ধকার নেই, ভয় নেই, নেই কোন বন্ধন। এক আনন্দময় জীবন হবে আপনার। তখন আমার কথা যদি মনে পরে একটু মুচকি মুচকি হাসবেন। এতে কোন গুরু লাগে না। শুধু বসে পরা, চাইলে শুয়েও পরতে পারেন।

ভেবেছিলাম আজ অর্ধেক জীবনের কথা বলব আপনাদের। কিন্তু শূন্য নিয়েই বহুক্ষণ ঘ্যানর ঘ্যানর করলাম।  ফেসবুক কি এর বেশি ট্রাশ এলাও করবে? যা হোক, অর্ধেক না হোক সিকি দিয়েই শুরু করি। আসলে সকালের শূন্য বড় পুন্য, পুর্ণও রাখে আমায় সারাদিন। ভারী দিলবাহার হয়ে থাকি। আর শুরু করে দি আমার সফর। এ সফরে ট্রেন, প্লেনের টিকেটও কাটতে হয়না। নেই হোটেল,হলিডে হোম বুকিংএর ঝক্কি। চাই একটা ইচ্ছে গাড়ি তাতে টাইম মেশিন লাগানো।  এ দেশ, সে দেশ, মহাদেশ মহাবিশ্ব সব জায়গায় আমার অবাধ যাতায়াত।  আমার বর্তমান তো শুধু বর্তমান নয়, অতীত, ভবিষ্যৎ সব দিয়ে মোড়া। একেই বলে ম্যাজিক রিয়েলিজম।  আমি এখানকারই বাসিন্দা। তাই আমার কোন বন্ধন নেই, পিছুটান নেই, সচ্চিদানন্দ হয়ে বসে আছি। আমার অতীতেরা আমার বর্তমানে হানা দেয়, ভবিষ্যতের কেউ কেউ উকি মারে। সবার সাথেই আমার ভারী সদ্ভাব। আপনারা কি করবেন, সেটা আপনাদেরই বিবেচ্য। এ ব্যাপারে আমি  দিদির মতই ব্যক্তি সাধনায় ভারী বিশ্বাসী। আমাকে দেখে আপনারা ছাপ্পা মারুন,  এ আমি চাইব না মোটেই।

অনেক বকর বকর হল। আমার অর্ধেক জীবনের একটা কথাই বলি শুধু আজ। আমার ইস্কুল বেলায় উর্দু শিখেছিলাম বেশ। আমাকে শিখিয়েছিল আমার ক্লাসের কামার আলি। লিখতে, পড়তে বেশ শিখেছিলাম । কিন্তু সে অভ্যেস রাখতে পারিনি মোটেই।  প্রায় ভুলেই গেছি। কিন্তু ভারী খারাপ লাগে যখন গালিব, রুমি আর ওমর খৈয়ামের মত লেখা অনুবাদে পড়ি। উর্দুর মত এইরকম ঐশ্বর্যময়ী,বেতরিন ভাষায় শের শায়েরী  তার কি কোন দুসরা হয়? তারপরে, যদি সঙ্গে থাকে ইয়ার দোস্ত, ঘাসের মখমলি গালিচায়, তাকিয়ায় হেলান দিয়ে সিরাজীর পেয়ালায় ঠোঁট ছুইয়ে, শায়েরীর বুলবুল দাও উড়িয়ে।  শুন্য জীবন, অর্ধেক জীবন, সিকি জীবন পুর্ণ থেকে পূন্যতর হয়ে উঠবে অচিরেই। কি বলবেন?   উল্লাস, উল্লাস না ইরশাদ, ইরশাদ?

Saturday, 11 May 2019

দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ

দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ

এ বড় ঘাবড়ে যাওয়ার মতই বিষয়।  বিশেষ করে আমার, আপনার মত আম আদমীদের কাছে। তবে আমি যদি বলি এই বস্তুবাদ আপনার ঘরেই মজুত, তাহলে বড় ধন্দে পরে যাবেন। খুজে খুজে হাল্লাস হয়ে যাবেন কিন্তু ধরতে পারবেন না। " তারে ধরি ধরি মনে করি, ধরতে গেলে আর মিলে না..." তবে মিলবে মিলবে নিশ্চয়ই যদি থাকে প্রেম আর নিষ্ঠা।

তবে, এই বস্তুবাদের সাথে আমার  মোলাকাত নয় মোকালাত ছোটবেলা থেকেই।  সেই সময় সিপিএম, নকশাল আর মারক্সবাদের জয়জয়কার। আমাকেও ক্লাস নাইনে থাকতেই,  ছাত্র ফেডারেশনে মেম্বার করে নিল তুষার। তুষার আর তরূণ সিপিএম বাড়ীর দুভাই। ভারী একবগগা আর কি বলে নিবেদিত প্রাণ ছিল এইসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। লালবাগে রতনপুর পাড়ায়  ওদের বাড়ী। প্রতি রোববার ক্লাস বসত সেখানে। তুষার বলত আমাদের মতামত চাইত আমাদের চটি চটি বই দিত পড়ার জন্য, সবই মারক্সবাদের উপর। তো এইরকম এক ক্লাসে আমি জিজ্ঞেস করে বসলুম, "কমরেড ( বলতে ভারী ভালো লাগত, মনে হত যুদ্ধে যাচ্ছি) দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ কি?" তুষার এই বেমক্কা প্রশ্নবানে ভারী বিব্রত হয়ে পরল। ভাবতেও পারেনি এইরকমভাবে ওকে বিদ্ধ হতে হবে। আর তখন ওরই বা কত বয়স। আমাকে আড়ালে ডেকে বলল, জেনে বলবে। যা হোক পরে আর ওর অবসর হয়নি জানার বা জানাবার।  তবে দুভাই ওদের রাজনৈতিক নিষ্ঠা নিয়ে একনিষ্ঠ থেকে গেছে আজও।  তুষার বোধহয় পরবর্তীতে বুদ্ধদেব বসুর ঘনিষ্ট জনদের একজন হয়ে উঠেছিল আর তরুণের সাথে দুএক বছর আগে লালবাগে দেখা হয়েছিল।  তখন ও লালবাগ মহকুমার সিপিএমের সম্পাদক। দুভাইই ভারী সরল সোজা। সেই অর্থে ওদের কোন ক্যারিয়ারই গড়ে ওঠেনি।

সিপিএমের কথাই যখন উঠল, আর একটু বলি। কৃষ্ণনাথ কলেজে পড়ার সময় আমাদের সন্ধ্যের অনেকটাই কাটত বহরমপুর সিপিএম অফিসের সন্ধ্যের আড্ডায়। প্রভাত দা, পল্টুদা আরো তাবড় তাবড় নেতাদের সঙ্গে আড্ডা হত।  ভারী নির্ভেজাল চরিত্রের সহজ,সরল মানুষ ছিলেন এরা। আমাদের মত বাল্যখিল্যদের সঙ্গে আমাদের মত করেই মিশতেন। নেতা সুলভ কোন গুমর ছিলনা। এদের মধ্যে পল্টু বোস ছিলেন সবথেকে মাই ডিয়ার লোক। পুরু পাওয়ারের চশমাপরা তার চোখের দিকে তাকালে মনে হবে ভারী রাশভারি লোক। কিন্তু স্বভাবে শিশু। চুনট করা ধুতী, গিলে করা পাঞ্জাবি ছিল তার রোজকার পোশাক।  ভারী ধোপদুরস্ত আর সৌখিন।   পলটু বোসকে অনেকেই হয়ত চিনবেন।  একসময় ইস্টবেঙ্গলের গোলকীপার ছিলেন। পা ভেঙ্গে যাওয়ায় খেলা ছেড়ে দেন। তার দুটো প্রিয় জিনিস ছিল, মতি সাবান আর রাধারঘাটের ভগবানের দোকানের  বিড়ি। ভগবানে বিশ্বাসী না হয়েও, ভগবানের বিড়িতে তার মতি ছিল স্থির। তো এইসব রংবেরঙের মানুষজনের সঙ্গে একসময় আড্ডা মেরে কাটিয়েছি ভেবেও আজ আনন্দ জাগে।

এইযে এত কথা বললাম  এর মধ্যে আসল কথাটাই অধরা থেকে গেল।  দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ?  অবশ্য গুগল খুললেই বস্তুবাদের পুরো অভিধান খুলে যাবে তার মধ্যে দ্বন্ধমূলক, ঐতিহাসিক, শ্রেণীদ্বন্ধ, বিপ্লব সবকিছুরই চটজলদি সুত্র পেয়ে যাবেন। বুঝলে বুঝবেন না বুঝলেও কোন চাপ নেই।

তবে আগেই বলেছি এই দ্বন্ধের জিতে জাতা সবুদ তো আপনার হাতের কাছেই। যাকে নিয়ে অনেক বার্ষিকী, রৌপ হয়ত সুবর্ন জয়ন্তীও পালন করেছেন। মনে কি হয়নি তাকে মূর্তিমতী দ্বন্ধময়ী বলে? তিনি  ভীষণ বাস্তব আর?  আর কিছু বলার সাহসই নেই আপনার। দ্বন্দ্বমূলক হলেও এই বস্তুটিকে মেনে নিতেই হবে। না নিলে আপনি আচল। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ আসলে এগিয়ে চলার মন্ত্র। দ্বন্ধের মধ্যেই জীবন আর সেই জীবন এগিয়ে নিয়ে চলার সারথি আপনার দ্বন্ধময়ী। একান্তভাবেই আপনার। 😀😁😀