Friday, 16 January 2026

চন্দননগর: আজ সারাদিন

 চন্দন নগর: সারাদিন


অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কম তো নয়, ষাট ব..ছ..র। দাদার বিয়েতে এসেছিলাম ৬০ বছর আগে।  তখনই ভালো লেগে গিয়েছিল। অবশ্য তখনকার চন্দননগর আর আজকের চন্দননগরে মনে হয় বিস্তর ফারাক। চন্দননগর ফ্রান্সের কলোনি ছিল প্রায় ৩০০ বছর, টু বি ভেরী প্রিসাইস ২৭৫ বছর। এর স্থাপত্যে, সাহিত্যে, সঙ্গীতে ভালো প্রভাব ছিলো ফরাসিদের।  অবশ্য সেসব আজ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রোমোটারদের হাতে পড়ে, সেসব স্থাপত্য ভেঙেচুরে ফ্ল্যাটবাড়ী হয়ে গেছে।

তারমধ্যে যেটুকু বেঁচে আছে গঙ্গার ধারে দীর্ঘ স্ট্রান্ড। এখনো সুন্দর।আর পেলাম আর একটা চার্চ, নাম সেক্রেড হেড চার্চ। ফ্রেঞ্চ গথিক স্টাইলে তৈরী।

ফ্রান্স সম্মন্ধে আমার বরাবরই একটা কৌতুহল ছিল। একসময় ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখাও শুরু করেছিলাম। কিন্তু বেশীদূর এগোতে পারিনি। ভাষাটা যে কঠিন তা নয়। আর বর্নমালা হুবুহু না হলেও প্রায় ইংরেজি।  কিন্তু মুর্শিদাবাদের গ্রামে বসে ফরাসী ভাষা শেখা আর হয়ে ওঠেনি।

তবে ফরাসী সাহিত্য অল্পবিস্তর পড়া ছিল। মোঁপাসার ছোটগল্প, প্রুস্ত, জাঁ পল সার্ত্রে, সিমোন দ্য বোভিয়ার এদের লেখার খবরও কিছু রাখতাম। যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টেড ছিলাম, তখন চিন্ময়  গুহ প্রায়ই আমার চেম্বারে বসে আড্ডা মারতেন। চিন্ময় গুহকে চেনেন তো? ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির ইংরেজী বিভাগের প্রধান ছিলেন। কিন্তু ফরাসী ভাষা আর সাহিত্যে বিশাল গণ্যমান্য একজন পন্ডিত । যেমন তেমন নয়, ফরাসী সরকার তাকে তিন তিনবার ফরাসী ভাষা ও সাহিত্যে পারদর্শিতার জন্যে  তাকে সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করেছিলেন। তো এইরকম এক বিরাট হস্তী আমার সাথে আড্ডা মারতেন ঘন্টার পর ঘন্টা।  আমার মুখে প্রুস্ত, সার্তের নাম শুনে চিন্ময়বাবু তো হতবাক। "ব্যাঙ্কের লোকেরা এসব পড়ে নাকি?" সত্যি বলতে পড়েছি তো নিশ্চয় কিছু, কিন্তু ওতো উচ্চমার্গীয় আলোচনা কি আর কিছু বুঝেছি? তবে চিন্ময়বাবু নির্ঘাত চমকে গেছিলেন ব্যাঙ্কের এক বাবুর মুখে প্রুস্তের নাম শুনে। 


' বললেন স্যারকে গিয়ে আপনার কথা বলতে হবে। স্যার মানে বিখ্যাত ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরী। তারই জীবনকথা।  তার লেখা 'বাঙালনামা' আমি পড়েছি। অনেকেই তাকে বইটার নাম পালটাতে বলেছিলেন। পাল্টান নি, বরিশালের বাঙাল তো, সাংঘাতিক  গোঁয়ার। সে বই আমার নিজস্ব লাইব্রেরীতে ছিল।একজনকে পড়তে দিলাম। সেও বাঙাল। সে আর ফেরৎই দিল না। সেইথেকে আমি আর কাউকে বই দিই না।


আজেবাজে কথা থাক, 

আসল ব্যাপার হলো আমার ছোট ছেলের সাথে, চন্দননগর কলেজের প্রিন্সিপাল, দেবাশীষ সরকারের বেশ জানাশোনা।  আর সেই সূত্রেই, আজ চন্দননগর যাওয়া। চন্দননগর কলেজে একটা চমৎকার মিউজিয়াম করেছেন উনি। সেটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। সব পুরোনো চন্দননগর আর সেখানকার বিপ্লবীদের অনেক সংগ্রহ চমৎকার ভাবে রাখা হয়েছে এক হেরিটেজ বিল্ডিঙে। দেবাশীষ বাবুর সাথে অনেকক্ষণ গল্প হলো। আপনারাও চেনেন তাকে। আগে টিভিতে টকশোতে প্রায়ই আসতেন। পুরো বামমার্গের লোক।

আজ  অনেক ছবি তুলেছি। 

পরিশেষে, 'ভুতের রাজা দিল বর' এ মধ্যাহ্ন ভোজন। ছেলেই খাওয়ালো, মাটন আর মোচাঘণ্ট।  কাল থোড় ছেঁচকি খেয়েছিলেন। আজ আপনাদের জন্যে মোচাঘণ্ট।  রিয়েলি ডেলিশিয়াস। 'ভূতের রাজা দিল বর' আজ সত্যিই বর দিয়েছে। ওদেরকে দিলাম ফুল মার্কস।





























Friday, 19 December 2025

আমাদের শান্তিনিকেতন
























 আজ হঠাৎই এসে গেলাম শান্তিনিকেতনে। কি বা এমন দূর। দুঘণ্টায়ই পৌঁছে গেলাম। আজকে আসার লক্ষ্য অবশ্যই একটা ছিল। সেটা আমার না,  কুন্তলার।  কলাভবনের নন্দন আর্ট গ্যালারীতে রবীন্দ্রনাথের ৮০টা ছবির প্রদর্শনী চলছে, সেটাতেই তার আকর্ষণ।  আমার লক্ষ্য কিছু নেই উপলক্ষ্য সুপ্রচুর। আসলে আমার পথ চলাতেই আনন্দ। প্রথমেই গেলাম লালবাঁধ। বিরাট দীঘি।  নেতা ধোবানীর ঘাট। কিন্তু হতাশ হতে হল।  কোন ধোবালীর দেখা পেলাম না। লালবাঁধের উল্টোদিকেই প্রখ্যাত শিল্পী সোমনাথ হোড়ের স্টুডিও। অনেক ছবি, আঁকাজোকা।  ভালই লাগলো। সেখান থেকে সৃজনী, শিল্পগ্রাম। সামনে পৌষমেলা, তাই চারিদিকে সাজসাজ রব।  সৃঞ্জনীও সেজে উঠছে নতুন করে।


এরপরেই তো লাঞ্চ। খাই না খাই, খাওয়াদাওয়ার এলাহি ব্যবস্থা দেখে বেশ পুলক হয়। ইদানীং শান্তিনিকেতনে আমাদের হট ফেভারিট খাবার জায়গা। Oyester, provat Sarani. দারুণ সাজিয়ে গুজিয়ে খুব যত্ন করে খাওয়ায়। আজকের মেনু তাহলে শুনে নিন। গরম ভাতে ঘি, ঝুড়ঝুড়ে আলুভাজা,বেগুনী, সোনামুগের ডাল, ধোকার ডালনা, আলুপোস্ত, এটা বীরভূমের সিগনেচার আইটেম, এরকম আলুপোস্ত আর কোথাও পাবেন না। পোস্তের বড়া পার পিস ৬০/,  চাটনী, পাঁপড় আর পেল্লাই সাইজের রসগোল্লা,  আর অবশ্যই কচি পাঁঠার ঝোল। একদম দিলখুশ। এরপর কলাভবনে রবী ঠাকুরের ৮০ টা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী। ছবি তোলা বারণ।  তাই তোলা গেল না।

এবার ষ্টেশনের পথে। মাঝে সর্বমঙ্গলায় থামতেই হলো। নাতি, নাতনীর জন্যে মিষ্টি তো নিতে হবে। লবঙ্গলতিকা,  চমচম আর কাঁলাকাদ। আমি অবশ্য খাব না। তবে আপনারা শান্তিনিকেতনে এলে, সর্বমঙ্গলা  থেকে অবশ্যই কিনবেন। দারুণ স্বাদ। এখন শান্তিনিকেতন স্টেশনে বসে আছি। ৫-৩৭ এ ট্রেন।

Friday, 12 December 2025

 আজ আমাদের ৪ দিনের পুরী সফরের প্রথম দিন। কাল পুরী এক্সপ্রেসে উঠে আজ বিফোর টাইমেই পৌঁছে গেলাম পুরী৷ ইদানীং আমার পছন্দের হোটেল শকুন্তলা প্যালেস ঠিক পুরী হোটেলের পেছনে আর ভজহরি মান্নার ঠিক সামনেই। লোকেশনাল এডভ্যানটেজ দারুণ।  অন্তত দুপুরের লাঞ্চটা সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়৷ গত দশ বছর ধরে এই ভজহরি মান্নায় আমার যাতায়ত। সেই সূত্রে এদের ছেলেরা আমার খুবই ঘনিষ্ঠ। তাই একটা ভি আই পি ট্রিটমেন্ট আমার জন্যে বরাদ্দ থাকে। আজ যেমন বেজায় ভিড়। কিন্তু আমাকে দেখতে পেয়ে ঠিক ডেকে নিল ভেতরে। এটাতে অন্যায় অবশ্যই হলো। তবে বেশ উপভোগ করলাম। এভাবেই হয়তো পার্থ চ্যাটার্জি আর মানিক ভট্টাচার্যদের সৃষ্টি হয়েছে। আমার অবশ্য অতদুর ওঠার কোন চান্স নেই। মৌলার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই হয়। আজ কি খেয়েছি সেটাই বলি। কচুবাটা চিংড়ি।  নিশ্চয় কচুর নাম আমার মুখে শুনে অবাক হচ্ছেন। কচু নিয়ে কম কটুকাটব্য করিনি।  কচু নাকি এক বিশেষ প্রাণীর খাদ্য। আর কাদের? নাম বলব না। বললেই তারা রে রে করে উঠবে। তাছাড়া বরাহ বা তাদের নিয়ে আমার আর সেরকম ছুঁচিবাই নেই৷ অনেকটাই কেটে গেছে। আর কচু তো একা ছিল না সঙ্গে ছিল আমাদের চিংড়ি।  কচুর সব দোষ কেটে গেছে চিংড়ির সান্নিধ্যে। চিংড়ি মোহনবাগানি তা তো জানেন?  যাইহোক আর ছিল তেল কই। তবে কইটা ঠিক জমেনি। তেল কই রাঁধত আমার শাশুড়ী। তিনি অবশ্য বরিশালের মাইয়া। কিছু কিছু জায়গায় কম্প্রোমাইজ করে নিতেই হয়। কি করব বলুন?  পাপী পেট কা সওয়াল। ছিল চাটনিও। আমসত্ত্ব, খেঁজুর আর কিসমিসের বাড়বাড়ন্ত। সুগারী লোকদের কাছে কমপ্লিট হারাম। কিন্তু মন যে মানে না৷ ঘটিদের খাবার শেষে একটু চাটনী না পেলে সে খাওয়া যে অসম্পুর্ন থেকে যায়। তাই ম্যানেজ একটু করতেই হলো। তবে পুরো কম্পলিমেন্টারি। বলেই নিয়েছিলাম, দাম ধরবি না একদম, জানিস তো আমার সুগার, চাটনি খাওয়া একদম বারণ। তাই করেছ ওরা। কি যে ভালো ছেলেগুলো।  


আজ সকালে কিন্তু ব্রেকফাস্টও করেছি। আমাদের শকুন্তলা প্যালেসেই। মুচমুচে স্বাদিষ্ঠ আলু পরোঠা, আচার আর দই। দারুন ছিল খেতে। আর দাম? জলের দাম মশাই। ৮০ টাকায় এতো কেউ দেয় না।


আরো একটা জিনিস খেয়েছি র‍্যাদার পান করেছি।  চিল্ড রিফ্রেশিং বিয়ার। দারুণ একটা আমেজ এনে দিয়েছে। রাতের জন্যে রেখে দিয়েছি একজন মাষ্টার মশাইকে।দেখলেই চিনবেন। তিনি আমাদের টিচার, কি যেন বলে, মার্গ  প্রদর্শক?

Thursday, 2 October 2025

সক্রেটিস ও ক্রিটো

 ইচ্ছে ভ্রমণ


রবি ঠাকুর কবেই লিখে গেছেন:



আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে,

দৈবে হতেম দশম রত্ন, নবরত্নের কালে,

একটি শ্লোকে স্তুতি গেয়ে, রাজার কাছে নিতেম চেয়ে,

উজ্জয়িনীর বিজন প্রান্তে কানন ঘেরা বাড়ী,

রেবার তটে চাঁপার তলে, সভা বসত সন্ধ্যা হলে,

খেলার ছলে আপন মনে, দিতাম কন্ঠ ছাড়ি।

জীবনতরী বয়ে যেত, মন্দাক্রান্তা তালে, 

আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।


উজ্জয়িনী আমারও খুব প্রিয় জায়গা। শিপ্রা নদীতীরে বসে,  শকুন্তলা না হোক, লিখতে তো পারতাম,

' যাও পাখী বলো তারে, সে যেন ডাকে না মোরে।'


তবে আজকে আমার পছন্দের তালিকায় উজ্জয়িনী নয়,  প্রাচীন গ্রীস। সময়ের দুরত্বে, পথের দুরত্বে সে যে উজ্জয়িনীর থেকেও যোজন যোজন দূর।


আজকে আমার গন্তব্য প্রাচীন গ্রীসের পাহাড় ঘেরা শহর এথেন্স। রোমান সভ্যতায় এথেন্স আর স্পার্টার গুরুত্ব অপরিসীম।  কিন্তু আজ আমি বেছে নেব এথেন্সকেই। কারণ এখানেই আমার শিক্ষক, সে সময়ের শ্রেষ্ট শিক্ষক, সক্রেটিসের বাস। আমি তারই শিষ্য। কে আমি? আমি ক্রিটো।  সক্রেটিসের ঘনিষ্ঠ বন্ধুই বলতে পার। আর সেই সময়কাল কিন্তু আজ নয়, খ্রীষ্টপূর্ব পুর্ব প্রায় পাঁচশ বছর আগে। ধরাই যায় প্রায় তিনহাজার বছর আগে। সেদিনের সেই ক্রিটো, এই আজকের আমি।  কত তফাৎ না?  সেদিনের সেই ক্রিটো, সক্রেটিসের ছায়াসঙ্গী, এই আজকের আমি। যার একমাত্র কাজ, ফেসবুকে শুধু চুটকী লেখা। কি অধ:পতন। 

কিন্তু ক্রিটো কে ছিলেন?  সেইযুগে ক্রিটো ছিলেন, সক্রেটিসের এক ধনী বন্ধু যিনি তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতেন। সক্রেটিসের শিষ্য মহাজ্ঞানী প্লেটো একটা বই লিখেছিলেন আমারই নামে, সে বইয়ের নাম 'ক্রিটো'।  তাতে সক্রেটিসের সাথে ক্রিটোর সংলাপের বিবরণী আছে। ক্রিটো সক্রেটিসের জেলখানা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা সক্রেটিসের জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত করে গেছেন, প্রহরীদের উৎকোচ দিয়ে তিনি, সক্রেটিসের মুক্তির ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সক্রেটিস সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন, তার কাছে শ্রেয় মনে হয়, হেমলক পান করা।

এবার বরং শোনা যাক খুবই সংক্ষেপে সেই মহান শিক্ষকের একদিনের জীবন কাহিনী। 


তাহলে শুনুন একদিনের কথা।  মানে আমি ক্রিটো,  দাঁড়িয়ে আছি, সক্রেটিসের বাড়ীর সামনে। তখনও ভোর হয়নি।আধো অন্ধকারে তখনও এথেন্স ঢাকা। সক্রেটিস বেড়িয়ে এলেন বাড়ী থেকে, খালি গায়ে, গায়ে শুধু একটা মোটা চাদর। আমায় দেখে হেসে বললেন, ক্রিটো তুমি এত ভোরে এসে গেছ? তোমার কি ভয় হয়, আমি পালিয়ে যাব? "

আমি হেসে বললাম ' না গুরুদেব, আমি এসেছি শুধু প্রাত:ভ্রমণের জন্যে" 

আস্তে আস্তে সুর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ল। আমরা এগিয়ে চললাম, আগোরার দিকে। আগোরা কি জানেন তো? আজকের যাকে আমরা বলি মার্কেট প্লেস, তাই সেকালের আগোরা। সেখানে যে শুধু বেচাকেনা হতো তাই নয় কিন্তু ব্যায়ামাগারও ছিল। গ্রীক ভাস্কর্যে ম্যাসকুলাইন বডি শুধু স্মরণ করুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন, সে যুগে আজকের জিমন্যাসিয়ামের কতটা কদর ছিল।

আগোরায় বহু লোকের সমাবেশ হতো। সারা এথেন্সের লোক জড়ো হতো সেখানে। এথেন্সের কেন্দ্রস্থলে ছিলো সেই আগোরা। দার্শনিক, ফলবিক্রেতা, সৈনিক থেকে বিভিন্ন পেশার লোক জড়ো হতো সেখানে। সক্রটিসকে ঘিরে ভিড় জমে উঠতো। বিশেষ করে তরুণরা তাকে বেশ পছন্দ করতো। সক্রেটিস শুধু প্রশ্ন করে যেতেন, উত্তর দিতেন না। বলতেন নিজে প্রশ্ন করো, নিজেই এর উত্তর খুঁজে পাবে।

তিনি এক তরুণকে প্রশ্ন করলেন, "বলো তো ন্যায় কি?" তরুণ উত্তর দিলেন, 'আইন মেনে চলাই ন্যায়।'

সক্রেটিসের পালটা প্রশ্ন, " যদি আইন অন্যায় হয়,যদি আইন কেবল সুবিধা দেয় ক্ষমতাবানদের? ' 

সক্রেটিসকে ঘিরে ভিড় জমে যায়, কিন্তু তিনি কারও সাথে ঝগড়া করেন না। কিন্তু তার প্রশ্নগুলো দাবানালের মতো ছড়িয়ে যায়।

একদিন আমরা গেলাম প্লেটোর বাড়ী, তার প্রিয় শিষ্য। প্লেটো তরুণ,  দীপ্তমান চেহারা। প্লেটো ধনাড্য ঘরের ছেলে। তার বাড়ীতেই আমাদের আজকের আহার। সক্রেটিস তাকে জিজ্ঞেস করলেন, জ্ঞান কি? প্লেটোর উত্তর। যা গুরু শেখান। সক্রেটিস মাথা নাড়লেন। না, গুরু উত্তর দেন না, প্রশ্ন করেন। জ্ঞান তোমার ভেতরেই আছে।

সেদিন আমি দেখলাম প্লেটোর চোখে আগুন জ্বলে উঠেছে। সেদিন আমার মনে হয়েছিল, এই তরুণই একদিন সক্রেটিসের উত্তরাধিকারী হবে।

প্লেটোর  বাড়ীতে সেদিনের আহারে ছিল,  রুটি, জলপাই,  ছাগলের দুধের পনীর আর সুরা। সক্রেটিস সামান্যই খেতেন। আহারের ফাঁকে আলোচনা উঠল। সুখ কি? কেউ বলল ধন, কেউ খ্যাতি। সক্রেটিস বললেন, সুখ হলো আত্মাকে চেনা, অজ্ঞতাকে চেনতে শেখা।

এক বিকেলে আলবিডাসিয়াসিও সঙ্গে এলো। তরুণ, ভীষণ সুদর্শন আর আত্মগর্বী।সক্রেটিস তাকে প্রশ্ন করলেন, ' নেতৃত্ব কি? সে বলল, মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা।সক্রেটিস বললেন, "তুমি যা বললে  তা ভূল। নেতৃত্ব হলো মানুষকে সত্য দেখানো। তুমি কি তা পারো?"

সক্রেটিসের বিচার

খ্রীষ্টপূর্ব ৩৯৯:

পেলোপনশীয় যুদ্ধে এথেন্স পরাজিত। এথেন্স সন্দেহ আর ক্ষোভে জর্জরিত। সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলো, তিনি দেবতাদের অস্বীকার করেন। যুবকদের বিভ্রান্ত করেন। সক্রেটিস জবাবে বললেন,আমি কিছুই জানিনা। শুধু জানি আমি অজ্ঞ। এ জ্ঞানের জন্যে যদি আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তবে এথেন্স আমাকে নয়, নিজেকেই হত্যা করবে।

বিচারের রায় হলো, তাকে হেমলক পান করে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আর একটা বিকল্প প্রস্তাবও ছিল। তাকে এথেন্স থেকে নির্বাসিত করে দ্বীপান্তরে পাঠান হবে। কিন্তু তিনি তার প্রিয় এথেন্স ছেড়ে যেতে চাননি।

আমি ক্লিটো, প্রতিদিন জেলখানায় যেতাম। এক রাতে তাকে বললাম। " গুরুদেব, পাহারাদারকে উৎকোচ দিয়ে, আপনার পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা হয়েছে। আপনি বেড়িয়ে আসুন। থিসোলিতে আপনার নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে।"

তিনি হাসলেন, বললেন, " ক্রিটো আমি যদি পালাই, তবে আমি আইন ভাঙব,অন্যায় সহ্য করা শ্রেয়, অন্যায় করা নয়।" আমার দুচোখ জলে ভরে গেল।

শেষের কদিন, আমরা তার শিষ্যরা, তাকে ঘিরে থাকতাম। প্লেটো, ফায়েডো, আপেলোদোরাস সবাই অশ্রুপূর্ণ চোখে তাকে ঘিরে থাকত।তিনি ধীরে বললেন, " যেমন সংগীত বীণা ভাঙলেও টিকে থাকে। আত্মাও দেহের বাইরে জাগ্রত থাকে। মৃত্যু ভয়ের কিছু নয়।"

শেষসকাল

সকালে প্রহরী হেমলকের পাত্র এনে দিল। ঘর নিস্তব্দ। আমরা সবাই কাঁদছিলাম। সক্রেটিস পাত্র হাতে নিয়ে বললেন। " মৃত্যু নিয়তি, ভয় করো না। অসততা ভয়ঙ্কর,  মৃত্যু  নয়'।

তিনি ধীরে ধীরে হেমলক পান করলেন। তারপর,কিছুক্ষণ পায়চারী করে শুয়ে পড়লেন। 

শেষ মূহুর্তে আমাকে বললেন, "ক্রিটো,  আক্রলেপিয়াসকে একটা মোরগ দিয়ে দিও। মৃত্যু হলো একটা আরোগ্য। " 

তারপরেই তার দেহ, নিস্তব্দ হলো।

আমি বহুক্ষণ তার মরদেহের পাশে বসে রইলাম। মনে হলো, আমার গুরু মারা যাননি। প্রশ্ন হয়েই বেঁচে রইলেন। তিনি আমাদের কোন উত্তর দেননি। তিনি আমাদের কেবল দিয়ে গেলেন জ্বলন্ত প্রশ্ন। 

আজ আমি ক্রিটো, সেই প্রশ্ন নিয়েই বেঁচে আছি।

সত্য কোথায়? ন্যায় কি? আত্মা কি অমর?

Monday, 28 July 2025

আনন্দময়ী মা

 আসা যাওয়ার পথে রোজ দেখি আনন্দময়ী মার বাড়ী।  রোজ ফুল দিয়ে সাজানো। বিকেল বেলায় বেশ কিছু ভদ্র  মার্জিত সুবেশ মহিলা, পুরুষ এর সামনে বসে প্রার্থনা করেন । আমি কোনদিন দাঁড়ায় নি। আজ দাঁড়িয়ে কটা ছবি তুললুম আপনাদের জন্যই। ফেসবুকে অনেক কৌতূহলী মানুষজন জানতে চাইবেন, কোথায়, কোথায়?  এটা সুকিয়া স্ট্রিট আর রামমোহন রায় রোডের মোড়ে, ঠিক ক্যাপিটাল নার্সিং হোমের কয়েকটা বাড়ী পরেই। আনন্দময়ী মা সম্মন্ধে আমি কিছুই জানি না। শুনেছি অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্না ছিলেন।  তবে অলৌকিক আবার কিছু হয় নাকি? আমার মোটেই বিশ্বাস নেই। তবে ইন্দিরা গান্ধী তাকে খুব মানতেন এটা জানি। আনন্দময়ী মাকে আমি একেবারে কাছ থেকে দেখেছি। ১৯৭৫ বোধহয়।  আমি আর কুন্তলা পথিক স্পেশালের কনডাক্টেড ট্যুরে উত্তর ভারত গিয়েছিলুম।  হিল্লি দিল্লি, আগ্রা মথুরা,বৃন্দাবন এইসব জায়গা আর কি। তখন কিন্তু ট্রাভেল কোম্পানিগুলো সব এক একটা কামরা বুক করে যেত।  ৫০/৬০ জন লোক এক কামরায় ১৪/১৫ দিন ভারী জমজমাট ব্যাপার ছিল। সেই ট্রেনের কামরা বিভিন্ন এক্সপ্রেসের সাথে জুড়ে চলত এখানে সেখানে। আর যেখানে যাওয়ার ছিল, সেখানে সেই কামরা রেলের সাইডিংএ  রাখা থাকত, খাওয়া দাওয়া প্ল্যাটফর্মে পাত পেড়ে, আমার তো ভারী মনপসন্দ ছিল। বেনারসে একদিন এঁচোড়ের ডালনা খেয়েছিলুম মনে আছে। বিরাট বড় মাংসের টুকরোর মত এক পিসই এঁচোড়, সে স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়।  সেইরকমটি আর কোনদিনই খায়নি। কমদিন তো নয় প্রায় ৪৪ বছর আগে আর খেয়েছিলুম পনীর পকোরা ধনেপাতার চাটনি দিয়ে। সারনাথে এক তপ্ত, রৌদ্রদগ্ধ দুপুরে।  সে স্বাদও আজো ভুলিনি। এইরকম হয় না, টুকরো টুকরো কথা মনে থেকে যায় দীর্ঘ দিন ধরে। বৃন্দাবনে সেই ট্যুরেই গিয়েছিলুম দোলের সময়। পথিক স্পেশাল সেখানে আমাদের রেখেছিল এক দারুণ ধর্মশালায়, দোলের দিন সেখানেই দেখলুম কৃষ্ণলীলা।  সে যে কি সুন্দর কৃষ্ণ আর রাধা আর সুন্দর তাদের ফুলের পাপড়ি উড়িয়ে দোল খেলা, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলুম আর সেই রাধা আজও আমার মন আলো করেই রয়ে গেছে বেশ পাকাপাকি ভাবে। আমি যতই ধম্ম ব্যাপারে ভুরু কুচকায় না কেন, এইসব উৎসব আমার বেশ লাগে। ধম্মের সব সৌন্দর্যই তার উৎসবে যা সবার মন ছুঁয়ে যায়। 

তা হলে আনন্দময়ী মা থেকে শুরু করে  এখন পর্যন্ত হল এঁচোড়ের ডালনা আর পনীর পকোড়া নয় পকৌড়া। আরও অনেক কিছুই আছে নবাবী লখনৌর ভুলভুলাইয়া,ইমামবাড়া, কাবাব, করোলবাগের মাছ ভাজা অনেক কিছুই। তবে এতসবে যাব না, শেষ করি আনন্দময়ী মা দিয়েই। আনন্দময়ী মার সাথে দেখা এই বৃন্দাবনেই। এক বিকেলে গিয়েছিলুম তার বৃন্দাবনের আস্রমে। পুরোন দিনের বাড়ী ওই যেমন সব বাড়ী দেখা যায় পুরনো বাংলা সিনেমায়। গেট পেরিয়ে, সামনে একটা ছোট্ট বাগান, লাল সিঁড়ি দিয়ে উঠে একটা বড় চাতাল, তার উপরে একটা চৌকি, সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। সামনে শতরঞ্জিতে আমরা বোধহয় জনা বিশেক লোক বসে রইলাম তার অপেক্ষায়। একটু পরেই এলেন এক ক্ষীনতনু পাতলা গড়নের মহিলা। এসে ধম্মকম্ম নিয়ে অল্প কিছু বললেন আর বললেন ব্রম্মের কথা। তাকে যে পাত্রেই রাখ তিনি সেইরূপই নেবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।  সব দেখে শুনে কি আর বলব? I was not at all impressed. ওর থেকে ভাল হত যদি তখন বৃন্দাবনী সারং এর থেকেও সুমধুর, স্বাদিষ্ঠ  বেনারসী রাবড়ি আর জিলাইবি তে মনোনিবেশ করতুম। রেগে গেলেন তো? কি করব?  আমার সবই যে এই ইহকালই, পরকাল নিয়ে ভয় নেই, ভাবনাও নেই।




Thursday, 12 June 2025

No one writes to colonel


 


আজ সেই অর্থে, সকাল থেকে আমার করার কিছুই ছিলনা। রোজকার আসন, প্রাণায়াম আর ধ্যানে কেটে যায় ঘন্টা দুয়েক। তারপর,  আছে তো কিছু নিশ্চয়। না হলে বিরস দিন বিরল কাজ কি করে কাটবে। ছোট্ট একটা কাজ থাকে, সেটাতেও মন সংযোগ আর মাথা খাটানোর বেশ একটা ব্যাপার থাকে। সেটাতে আপাতত বিরতি চলছে। অবশ্য অল্প কয়েকদিনের জন্যেই।সেটা এসে গেলে আর বোর হবার মতো কোন ব্যাপার থাকবে না। নাতি পুতিরা স্কুলে। ওদের এখন ইউনিট টেস্ট চলছে, তাই নিয়ে ওরাও মহাব্যস্ত। কুন্তলাও গেছে মেদিনিপুরে। উত্যক্ত করার কেউ নেই। যারা একটু ভক্ত টাইপের বা ভয় পান, ভগবান, ভূতে বা বউয়ে, তারা অবশ্যই ওফেন্স নিতে পারেন, আমার উত্যক্ত কথার প্রয়োগে। আচ্ছা বলুন তো, জীবনের এই এতটা পথ হেঁটে এসে বউকে যদি উৎপাত না ভাবি, তাহলে কি ভাবব? আমার পাড়ার এক বন্ধু, নামটা বলেই ফেলি গৌতম,বউয়ের ভয়ে জ্বর বাঁধিয়ে বসল। গৌতমকে তিন মাসের রিলিফ দিয়ে, দিল্লিতে কাটিয়ে এলেন তিনি, তিন তিনটি মাস। এখন তিনি এসে গেছেন। আর গৌতমের এখন ইরেগুলার হার্টবিট আর হাই ফিভার চলছে। আমি অবশ্য সে গোত্রের নয়। জানেন তো আমি মূর্শিদাবাদী, নবাবের দেশের লোক। ' শির নেহারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির'। যাকগে ওসব কথা, তার থেকে বরং গল্প করি বা কিছু ইন্টেলেকচুয়াল আলোচনাই চলুক না।


আমরা তখন লালবাগে। ক্লাস নাইন? মনে একটা প্রেম প্রেম ভাব জাগছে।যাকে দেখি তারই প্রেমে পড়ি। এরকম একটা টালমাটাল চলছে। সে সময়ই ক্যাচ কট কট। প্রেম নয়। বিপ্লব। পড়লাম তুষারের খপ্পরে। নাম লেখালাম ছাত্র ফেডারেশনে সেই স্কুল বেলাতেই। তুষারের বাড়ীতেই শনিবার মিটিং হতো। জনগান্ত্রিক বিপ্লব, পেটী বুর্জোয়া,  দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ ইত্যাদি।  এছাড়াও আমাদের একটা জমজমাট আড্ডা বসতো, হাজারদুয়ারীর মাঠে। সেটা অবশ্যই বেশ কসমোপলিটান আসর। তাতে যেমন থাকতো, জামা নবাব, পাপ্পু নবাব, অপু, পন্ডিত, মীজানুর, রবি, সোনা, নিশিথ এরা। সেসব আলোচনা মূলতো সাহিত্যকেন্দ্রিক। আমাদের সাহিত্যমুখী করে তোলার পেছনে লালবাগের 'বান্ধব সমিতি'র প্রচুর অবদান ছিলো। অফুরন্ত বইয়ের জোগান দিয়ে গেছে এই লাইব্রেরি।  সে সময়ের হট ক্রেজ ছিলেন, সৈয়দ মুজতবা আলি।আমাদের বিকেলের আসরে সে সব ঘুরে ঘুরেই আসতো।


এসব তো সব আগের জন্মের কথা।খুব প্রিয়, খুব কাছের, কিন্তু তাদের আজ না যায় ধরা না যায় ছোঁয়া। সব স্মৃতির জগতেই থেকে গেছে, ধরা ছোঁওয়ার বাইরে। আর জানেনই তো আমি একটু স্মৃতিকাতর মানুষ।  পুরনো দিন আমাকে হন্ট করে খুব। পুরনো দিন অনেকটাই পরাবাস্তবের মতোই। ম্যাজিক রিয়েলিজম যারে কয় পরিষ্কার ভাষায়।


আজকেই সেই ম্যাজিক রিয়েলিজমের গপ্প বসানোর তাল খুঁজছিলাম এতক্ষণ।  বাজে কথায়, ফেসবুকের বেশ কয়েকটা পাতা নিশ্চয় নষ্ট করে ফেলেছি। এখন আর কি? শর্টকার্টে সারি বরং। আমার সংগ্রহে প্রচুর বই আছে।  বইকেনা আমার একটা বদভ্যাসও বলতে পারেন।তবে সব বইও যে পড়ে ফেলেছি, এমন দাবী করব না মোটেই। তবে বেশকিছুই পড়েছি।


আমার যা মানসিক গঠন, তাতে ওই ম্যাজিক রিয়েলিজম ব্যাপারটা বেশ যায় বাস্তবের জমির উপর দাঁড়িয়ে কল্পজগত তৈরী করা। ব্যাপারটা এককথায় এমনই। আর সেটাই আমার প্যাসটাইম। এবার বলুন তো, ম্যাজিক রিয়েলিজমের সেরা লেখক কে, অবশ্যই গাব্রিয়েল গ্রাসিয়া মার্কুয়েজ। যার ডাক নাম ছিল গাব্বো।কলম্বিয়ান লেখক, সাংবাদিক, রাজনীতিক আরো কতো কি। জীবনের বেশীরভাগটাই কাটিয়েছেন মেক্সিকো আর ইউরোপের নানা দেশে। নোবেল পুরস্কারও পেয়েছেন। তার অসামান্য সাহিত্যকীর্তির জন্যে। তার লেখা কতগুলো বউ, ' হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটিউড', 'লাভ এট দি টাইম অফ কলেরা', ল্যবিরিন্থ, নো ওয়ান রাইটস টু কলোনেল' 'স্ক্যান্ডাল অফ দি সেঞ্চুরী' ইত্যাদি ইত্যাদি।  ওনার বহু বইই আমার সংগ্রহে আছে। আজ কোন কাজ নেই, তাই ডিম্ভাত ( মুরগীর নয় হাঁসের) খেয়ে বসে পড়েছি, কলোনেল কে নিয়ে।


ছোট্ট বই। চরিত্রও কয়েকজন। কলোনেল, তার অসুস্থা স্ত্রী, মৃত পুত্র, শহরের এক খ্যাতনামা গায়কের ফিউনেরাল, একটা লড়াইয়ের মোরগ,এক দয়ালু ডাক্তার যিনি কলোনেল আর তার স্ত্রীকে বিনে পয়সায় চিকিৎসা করেন। একটা ষ্টীমার আর পোস্টম্যান।  প্রতি শুক্রবার জাহাজ আসে আর জাহাজে আসে ডাক।কলোনেল' জাহাজঘাটায় দাঁড়িয়ে থাকেন মেলের প্রতীক্ষায়,  যে ডাকে তার প্রতিশ্রুত পেনশনের চেক আসবে।দীর্ঘ ১৫ বছর প্রতীক্ষার পরেও কলোনেলের সে চিঠি আসে না। পোস্টম্যান ঘোষণা করেন No one writes to Colonel.

সংক্ষেপে এটাই সারাংশ।  এক অসামান্য  না ছোটগল্প না উপন্যাস। সুযোগ পেলে বইটা পড়ে নেবেন একবার।